kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সবার ওপর করারোপের প্রস্তাব

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



সবার ওপর করারোপের প্রস্তাব

এখনো এ দেশে করদাতার সংখ্যা ১১ থেকে ১২ লাখেই রয়েছে। আমি অনেকবার এনবিআরকে বলেছি যত নিয়ম-কানুন করেন না কেন, তাতে খুব বেশি রাজস্ব আদায় হবে না।

করদাতার সংখ্যা বাড়াতে হবে। রাজস্ব আদায় নিয়ে ভাবতে হবে না। অথচ করদাতার সংখ্যা বাড়ছে খুব ধীরগতিতে, যা রাজস্ব সংস্কৃতির জন্য ভালো হচ্ছে না।

গতকাল বুধবার রাজধানীর বেইলি রোডে অফিসার্স ক্লাবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আয়োজিত ‘পে-রোল ট্যাক্স ও করনেট সম্প্রসারণ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এসব কথা বলেন। এনবিআর চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য দেন এনবিআর সদস্য (কর পরিদর্শন) জিয়া উদ্দিন মাহমুদ। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বৃহৎ করদাতা ইউনিটের কমিশনার মো. আলমগীর হোসেন। পে-রোল ট্যাক্সের ওপর আলোচনা করেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশের কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল মাসুদ আহমেদ। সেমিনারে উন্মুক্ত আলোচনা ও প্রশ্নোত্তরপর্বে অংশ নেন কর আইনজীবী, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হিসাবরক্ষক, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, এনবিআর কর্মকর্তারাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

সেমিনারে অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, ‘এনবিআর এ বছর তিন লাখ করদাতা বৃদ্ধির যে পদক্ষেপ নিয়েছে তা সন্তোষজনক নয়, খুবই ধীরগতির। অথচ আয়কর দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে অনেক বেশি মানুষের। সঠিক কোটিপতির সংখ্যা বের করতে পারলে করদাতার সংখ্যা অনেক বেড়ে যাবে। ’

অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা এ অর্থনীতিবিদ নিজের জীবনে কত টাকা আয়ে কিভাবে কর দিয়েছেন তা বর্ণনা করে বলেন, কর দেওয়াও গর্বের বিষয়। করদাতার গর্ববোধের অধিকার আছে। টিআইএন নেওয়ার মধ্যেও একটি গর্বের বিষয় আছে। সে গর্ববোধই তাকে কর দিতে উৎসাহিত করতে পারে। কর দেওয়ার ক্ষেত্রে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। চাকরিজীবীদের পে-ট্যাক্স বিষয়ে মুহিত বলেন, ‘বিভিন্ন দেশে রাজস্বে পে-রোল ট্যাক্সের অবদান অনেক বেশি হলেও বাংলাদেশে তা কম। আমাদের দেশে সরকারি কর্মকর্তারা পে-রোল ট্যাক্স দিলেও বেসরকারি খাতে পে-রোল ট্যাক্স বেশি পরিচিত নয়, এ বিষয়ে নজর দিতে হবে। ’

বাংলাদেশের কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল মাসুদ আহমেদ বলেন, ‘আয়কর   একটি প্রোগ্রেসিভ   কর   ব্যবস্থা। করযোগ্য আয় থাকলে সঠিকভাবে আয়কর প্রদান করা একজন নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব। এ বিষয়ে আইনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে করযোগ্য আয় থাকা সত্ত্বেও অনেক ব্যক্তি আয়কর প্রদান করে না। এ পরিস্থিতির উন্নতির জন্য আমাদের একটি রাজস্ববান্ধব সংস্কৃতি গড়ে তোলা প্রয়োজন। করদাতাদের সঙ্গে সঙ্গে এনবিআর কর্মকর্তাদেরও আরো এগিয়ে আসতে হবে। সরকারি ও বেসরকারি চাকরিজীবীরা দেশের শিক্ষিত ও সচেতন নাগরিকদের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আইনের যথার্থ পরিপালন এবং কর পরিশোধের মাধ্যমে দেশ গঠনে অবদান রাখা তাদের মহান দায়িত্ব। ’

ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘চাকরিজীবীরা সঠিক হিসাবে কর দিলে কর-জিডিপি অনুপাত বহুগুণ বাড়বে। এ জন্য করদাতা এবং এনবিআর উভয়কে একসঙ্গে কাজ করার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। শুধু অটোমেশন দিয়ে রাজস্ব আদায় বাড়ানো বা করদাতার সংখ্যা বাড়ানো যাবে না। কারণ অটোমেশনের পেছনে থাকব এই আমরাই। এনবিআরের কাজ করার পদ্ধতিতে পরিবর্তন হয়েছে। তবে তা পর্যাপ্ত নয়। কাজের মানে আরো পরিবর্তন করতে হবে। করদাতার কাছে যেতে হবে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নজর দিতে হবে। ’

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা এবং উন্নয়নের জন্য অর্থায়ন সম্মেলনের ঘোষণাপত্রের আলোকে প্রতিটি দেশ এখন তার জনগণের কল্যাণে রাজস্ব প্রশাসনকে আধুনিকীকরণ ও শক্তিশালীকরণের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ সম্পদ সংগ্রহের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে। ওই সম্মেলনের সিদ্ধান্তের আলোকে বাংলাদেশেও এনবিআরের সব অংশীজনকে অকুণ্ঠ সমর্থন ও সহযোগিতায় অভ্যন্তরীণ সম্পদ সংগ্রহের ক্ষেত্রে আন্তরিক প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। পে-রোল ট্যাক্স চালু করায় সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা করনেটের আওতায় আসায় চলতি অর্থবছরে প্রায় আড়াই লাখ হতে পাঁচ লাখ নতুন করদাতা সৃষ্টির পথ হলো, যা আমাদের দেশের অর্থনীতির জন্য এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হবে। ’


মন্তব্য