kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


প্রাকৃতিক আঁশ থেকে পণ্য উৎপাদন বাড়ানোর তাগিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



প্রাকৃতিক আঁশ থেকে পণ্য উৎপাদন বাড়ানোর তাগিদ

‘প্রাকৃতিক আঁশ থেকে উত্পাদিত পণ্যের সম্ভাবনা’ শীর্ষক কর্মশালায় শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু

পলিথিনের বিকল্প হিসেবে প্রাকৃতিক আঁশ থেকে উৎপাদিত পণ্যের ব্যবহার বাড়াতে বলেছেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী পলিথিন ব্যবহারের পরিবর্তে প্রাকৃতিক উৎস থেকে তৈরি বিকল্প পণ্যের ব্যবহার বাড়ছে।

এ সুযোগে বাংলাদেশে পাট, কলাগাছের বাকল এবং আনারসের পাতা থেকে আঁশভিত্তিক পণ্য উত্পাদনের মাধ্যমে রপ্তানি বহুমুখীকরণের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

শিল্পমন্ত্রী গতকাল রাজধানীর বাংলাদেশ মহিলা সমিতির আইভি রহমান মিলনায়তনে আয়োজিত ‘প্রাকৃতিক আঁশ থেকে উৎপাদিত পণ্যের সম্ভাবনা’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ গুরুত্বারোপ করেন। শিল্প মন্ত্রণালয় এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন বাংলাদেশ ইন্সপায়ার্ড প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিডাব্লিউসিসিআই) আয়োজন করে। বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিডাব্লিউসিসিআই) প্রেসিডেন্ট সেলিমা আহমাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সুষেণ চন্দ্র দাস, বাংলাদেশ ইন্সপায়ার্ড প্রোগ্রামের টিম লিডার আলী সাবেদ, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্যুরো বাংলাদেশের পরিচালক সিরাজুল ইসলামসহ প্রকল্পের সুবিধাভোগী তৃণমূল পর্যায়ের নারী উদ্যোক্তারা বক্তব্য দেন।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, নারী জনগোষ্ঠীকে বাদ দিয়ে দেশের উন্নয়ন চিন্তা কোনোভাবেই সফল হতে পারে না। এ বাস্তবতা বিবেচনা করে সরকার নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে। শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন শিল্প পার্ক ও শিল্পনগরীগুলোতে ন্যূনতম ১০ শতাংশ প্লট নারীদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে নতুন স্থাপিত শিল্পনগরীতেও নারীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্লট বরাদ্দ দেওয়া হবে।

আমির হোসেন আমু বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে নারী ক্ষমতায়নের লক্ষ্য অর্জনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কৃষিভিত্তিক শিল্পের প্রসারে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। এ নীতির ধারাবাহিকতায় প্রাকৃতিক আঁশ থেকে উত্পাদিত শিল্পপণ্যের প্রসারে সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভব সব ধরনের নীতি সহায়তা প্রদান অব্যাহত থাকবে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এসএমই নারী উদ্যোক্তাদের সমস্যার সমাধানে জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশনা দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

কর্মশালায় বক্তারা বলেন, রপ্তানি বাড়াতে হলে বৈচিত্র্যময় পণ্য উত্পাদনে জোর দিতে হবে। এ লক্ষ্যে তৃণমূল পর্যায়ে নারীদের অপ্রচলিত পণ্য ব্যবহার করে শিল্পপণ্য উত্পাদনের ধারায় সম্পৃক্ত করতে হবে। ইন্সপায়ার্ড প্রকল্পের আওতায় ইতিমধ্যে নরসিংদী, গাইবান্ধা, টাঙ্গাইল সদর ও মধুপুর উপজেলার দুই হাজার নারীকে প্রাকৃতিক আঁশ থেকে পণ্য উত্পাদনের মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে স্বনির্ভর করা হয়েছে বলে তাঁরা উল্লেখ করেন।

বক্তারা আরো বলেন, কলাগাছের বাকল এবং আনারসের পাতার মতো কৃষিবর্জ্য ব্যবহার অভ্যন্তরীণ সুতার চাহিদা পূরণের পাশাপাশি নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে বিশাল সম্ভাবনা তৈরি করেছে। এ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে উত্পাদিত পণ্য বাজারজাতকরণের সুযোগ করে দিতে হবে। একই সঙ্গে তৃণমূল পর্যায়ে এসএমই উদ্যোক্তাদের জন্য স্বল্প সুদে ও সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করে দিতে হবে। এ লক্ষ্যে কার্যকর উদ্যোগ দিতে তাঁরা শিল্পমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।


মন্তব্য