kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বাণিজ্য সুরক্ষানীতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান

বাণিজ্য ডেস্ক   

৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



বাণিজ্য সুরক্ষানীতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান

বাণিজ্য সুরক্ষানীতি ও অর্থবাজার নিয়ন্ত্রণের ফলে বিশ্ব অর্থনীতি ক্রমেই হুমকিতে পড়ছে। তাই বাণিজ্য সুরক্ষানীতির বিরুদ্ধে একমত হয়েছেন বিশ্বনেতারা।

গতকাল সোমবার চীনের পূর্বাঞ্চলীয় শহর হ্যাংঝুতে শেষ হওয়া দুই দিনের জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে নেতারা বিশ্ব অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে আরো উদার বাণিজ্যনীতি গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

সম্মেলনের খসড়া ইশতেহারে বলা হয়, সব ধরনের বাণিজ্য ও বিনিয়োগে সুরক্ষানীতির বিরুদ্ধে আমরা আমাদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করছি। আমরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, আগামী ২০১৮ সাল পর্যন্ত বাণিজ্যে সুরক্ষানীতি থেকে আমরা ক্রমেই বেরিয়ে আসব। একই সঙ্গে সুরক্ষানীতি পর্যবেক্ষণ আমরা ডাব্লিউওটিও, আংকটাড এবং ওইসিডির প্রতি আমাদের সমর্থন জানাচ্ছি।

সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিংপিং বলেন, ‘আমরা বহুপক্ষীয় বাণিজ্যিক ব্যবস্থায় আমাদের সমর্থন জানাচ্ছি এবং সুরক্ষানীতির বিরোধিতা করছি। ’ তাঁর মতে, সুরক্ষানীতি বিশ্বায়ন ও মুক্তবাণিজ্যকে বাধাগ্রস্ত করছে। যদিও চীনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের দীর্ঘদিনের অভিযোগ রয়েছে তাদের বাজারে প্রবেশ সীমিতকরণের ব্যাপারে। তবে আন্তর্জাতিক তিন অর্থনৈতিক সংস্থার নেতারা সতর্ক করে বলেছেন, অনেক উন্নত দেশই বাণিজ্যের ক্ষেত্রে রক্ষণশীল মনোভাব পোষণ করে। এ ধরনের কার্যক্রম বিশ্ব অর্থনীতিকে আরো ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেবে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা।

সম্মেলনের এক প্যানেল সেশনে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রধান ক্রিস্টিন লাগার্দে ব্যবসায়ী নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, তাঁরা যেন নিজ দেশের সরকারকে বাণিজ্যপ্রবাহ সমুন্নত রাখতে সহায়তার অনুরোধ জানান। সেই সঙ্গে তিনি আগামী বছরের অর্থনীতির পূর্বাভাস নিয়েও সতর্ক করেছেন।

ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (ওইসিডি) মহাপরিচালক অ্যাঙ্গেল গুরিয়া জানিয়েছেন, বিশ্বে অর্থনৈতিক মন্দার পর বাণিজ্যে রক্ষণশীলতাবিষয়ক মোট এক হাজার ৪০০টি পদক্ষেপ পাস হয়েছে। টিপিপি নিয়ে উদ্বেগের পাশাপাশি নানা অনিশ্চয়তার কারণেই ব্রিটেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ত্যাগের উদ্যোগ নিয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

অন্যদিকে ডাব্লিউটিও প্রধান রবার্তো আজেভেদো বলেছেন, ‘বাণিজ্যবিরোধী পদক্ষেপগুলো সত্যিকার অর্থেই অনেক দুঃখজনক। আমরা যদি এখনই এসব কিছুর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ না করি, তাহলে ভবিষ্যতে বাণিজ্য ও অর্থনীতি নিয়ে ভুল নীতিমালা গ্রহণ করা হবে। ’

জাপানের উপ-প্রধান কেবিনেট সেক্রেটারি কোইচি হেগিউদা বলেন, সম্মেলন শেষে জি-২০ দেশগুলো একমত হয়েছে, মুদ্রানীতি, রাজস্বনীতি এবং কাঠামোগত সংস্কারসহ সব নীতি সুসংহত ও টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনে ব্যবহার করা হবে। তিনি বলেন, সুসংহত ও টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনে বিশেষভাবে এ তিনটি নীতি ব্যবহারের ব্যাপারে নীতিনির্ধারকরা একমত হয়েছেন। জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে বলেন, বিশ্ব অর্থনীতিতে নিম্নমুখী ঝুঁকি বেড়েই চলেছে, এ ঝুঁকি প্রতিরোধে আমাদের সুসংহত ও টেকসই প্রবৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যেতে হবে।

সম্মেলনে ইউরোপীয় এক কূটনীতিক জানিয়েছেন, বিশ্বে শিল্পে অতিরিক্ত সরবরাহ রোধে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে জি-২০ দেশগুলো একটি বৈশ্বিক ফোরাম গঠন করবে। অতিরিক্ত সক্ষমতা পণ্যের দাম কমিয়ে দিচ্ছে এবং ম্যানুফেকচারিং খাতকে হুমকিতে ফেলছে। একইভাবে সম্মেলনের চূড়ান্ত ইশতেহারে বাজার অস্থিরতার মূল কারণ হিসেবে ভর্তুকির সমালোচনা করা হবে।

দুই দিনের এই সম্মেলনে বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ছাড়াও বৈশ্বিক ইস্পাত উৎপাদনে চীনের ভূমিকার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এবারের সম্মেলনে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবারের মতো কোনো আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন তেরেসা মে। এ ছাড়া বিদায়ী প্রেসিডেন্ট হিসেবে এই সম্মেলনে যোগ দিয়ে চীনে শেষ রাষ্ট্রীয় সফর করছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। রয়টার্স, এএফপি, বিবিসি।


মন্তব্য