kalerkantho


সিন্ডিকেট করে চামড়ার দাম কমাতে দেবে না সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



সিন্ডিকেট করে চামড়া ব্যবসায়ীদের কোরবানির পশুর চামড়ার দাম কমাতে না দেওয়ার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, আন্তর্জাতিক বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কোরবানির পশুর চামড়ার উপযুক্ত মূল্য নিশ্চিত করতে হবে। কোনো অবস্থায়ই যাতে চামড়ার মূল্যের প্রকৃত প্রাপকরা উপযুক্ত মূল্য থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করবে সরকার। ব্যবসায়ীদের নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে কোরবানির পশুর চামড়ার উপযুক্ত মূল্য নির্ধারণ করতে নির্দেশ দিয়ে মন্ত্রী বলেছেন, নির্ধারিত দাম ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই ঘোষণা করতে হবে। আর ঘোষণা করার আগে প্রস্তাবিত দামের অনুমোদন নিতে হবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে। গত বছর মানভেদে প্রতি বর্গফুট চামড়ার দর নির্ধারণ করা হয়েছিল ৫০ থেকে ৫৫ টাকা।

গতকাল সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে চামড়া ব্যবসায়ী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকে সীমান্ত দিয়ে চামড়া যাতে ভারতে পাচার হতে না পারে সে জন্যও কঠোর ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন তোফায়েল আহমেদ। বৈঠকে কাঁচা চামড়া সংগ্রহ, প্রক্রিয়াকরণ ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রতিবছরই কোরবানির ঈদের আগে চামড়ার মূল্য নির্ধারণ নিয়ে এমন বৈঠক করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এ বৈঠকের আগে চামড়া ব্যবসায়ীরা নানা অজুহাত তুলে কোরবানির পশুর চামড়ার দাম কম নির্ধারণের পথ খোঁজেন। এবারও ব্যতিক্রম হয়নি। কোরবানির পশুর চামড়ার মূল্য গরিব মানুষদের দান করেন কোরবানিদাতারা। ফলে চামড়ার দাম কমিয়ে নির্ধারণ করার অর্থ হলো গরিবের হক নষ্ট করা। ফলে ব্যবসায়ীরা যাতে চামড়ার দাম কমিয়ে নির্ধারণ করতে না পারেন সে জন্য প্রতিবছরই চামড়ার আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য ও দেশীয় চামড়াশিল্পের হালনাগাদ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি খাত। দেশের চামড়াশিল্পের চাহিদার বড় জোগান আসে কোরবানির ঈদের সময়। চামড়া যাতে পাচার হতে না পারে সে জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যদের ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন তিনি।

পাশের দেশ ভারতে নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতা গ্রহণের পর দেশটির বিভিন্ন রাজ্যে গরু জবাই করা নিষিদ্ধ হওয়ায় দেশটির চামড়াশিল্পে কাঁচা চামড়ার জোগান কমে গেছে। এ অবস্থায় কোরবানির সময় বাংলাদেশ থেকে ভারতে কাঁচা চামড়া পাচার হওয়ার আশঙ্কায় এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

কাঁচা চামড়া সংরক্ষণে লবণের কোনো অভাব হবে না উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, কাঁচা চামড়া যাতে নষ্ট না হয় সে জন্য প্রয়োজনীয় লবণ সরবরাহের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। দেশের লবণচাষিরা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, তা বিবেচনায় রেখেই প্রয়োজনীয় লবণ আমদানির জন্য অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিশ্বে বাংলাদেশের চামড়ার মান অনেক ভালো। সে কারণেই আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের চামড়ার চাহিদাও ব্যাপক। বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছরই চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি বাড়ছে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি হয়েছে ৭৩৩ মিলিয়ন ডলারের। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে তা বেড়ে হয়েছে ৮৮০ মিলিয়ন ডলার। চামড়া রপ্তানি বাড়াতে রপ্তানিকারকদের নগদ সহায়তার হার ১২.৫ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। দেশের চামড়াশিল্পকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে ট্যানারি শিল্পগুলোকে আধুনিক ট্যানারি শিল্পনগরীতে স্থানান্তর করতে এ পর্যন্ত ১২৯ প্রতিষ্ঠানকে ৮৬ কোটি ১২ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ করা হয়েছে।


মন্তব্য