kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


চট্টগ্রামে ৮০ শতাংশ কারখানা এখনও বোনাস দেয়নি

রাশেদুল তুষার, চট্টগ্রাম   

৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



চট্টগ্রামে ৮০ শতাংশ কারখানা এখনও বোনাস দেয়নি

শিল্প-কারখানার শ্রমিকদের গতকাল সোমবারের মধ্যে ঈদুল আজহার বোনাস পরিশোধের ব্যাপারে সরকারি নির্দেশনা ছিল। কিন্তু গতকাল বোনাস পরিশোধের শেষ দিনেও চট্টগ্রামের বেশির ভাগ কারখানা শ্রমিকদের ঈদ বোনাস পরিশোধ করেনি।

শিল্প পুলিশের হিসাবে গতকাল দিনশেষে চট্টগ্রামের ৯৪৮টি শিল্প-কারখানার মধ্যে বোনাস পরিশোধ করেছে শুধু ১৮৯টি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে ৫০টির বেশি কারখানাকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে শিল্প পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ। তবে বেতন-বোনাস পরিশোধে ধীরগতি থাকলেও এ সপ্তাহের মধ্যেই বেশির ভাগ কারখানা শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করবে বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আশ্বস্ত করেছে।

শিল্প পুলিশ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গতকাল ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রামের ৬৩৭টি গার্মেন্ট কারখানার মধ্যে ৩১টিতে আগস্ট মাসের বেতন পরিশোধ করা হয়েছে। এর মধ্যে বোনাস পরিশোধ করা হয়েছে মাত্র ৮৯টিতে। এর তুলনায় নন-আরএমজি কারখানার পরিস্থিতি কিছুটা ভালো। ৩১১টি কারখানার মধ্যে ৬৯টিতে বেতন এবং ১০০টিতে বোনাস দেওয়া হয়েছে বলে জানালেন শিল্প পুলিশের সহকারী পরিচালক সোহেল রানা। এর মধ্যে বেপজা পরিচালিত ৭৬টি কারখানায় বোনাস এবং ৩৪টি কারখানায় বেতন পরিশোধ করা হয়েছে বলে শিল্প পুলিশ জানায়। এ ছাড়া বিজিএমএইভুক্ত মাত্র ৩৩টি কারখানা বোনাস পরিশোধ করেছে আর বেতন পরিশোধ করেছে মাত্র পাঁচটি কারখানা।

শিল্প পুলিশের সহকারী পরিচালক সোহেল রানা বলেন, ‘সব মিলিয়ে ৫০ থেকে ৫২টি কারখানায় ঈদের আগে বেতন-বোনাস নিয়ে ঝামেলা হতে পারে। এই কারখানাগুলোর অতীত ইতিহাস পর্যালোচনা করেই এ তালিকা করা হয়েছে। ঝুঁকির তালিকায় থাকা কারখানাগুলোকে তাই বিশেষ নজরদারিতে রাখা হবে। ’

ঈদুল আজহা ১২ সেপ্টেম্বর ধরেই শ্রম মন্ত্রণালয় থেকে ৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বোনাস এবং ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আগস্ট মাসের বেতন পরিশোধের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু নির্ধারিত দিনে চাঁদ দেখা না যাওয়ায় কোরবানির ঈদ এক দিন পিছিয়ে এখন ১৩ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হবে।

গার্মেন্ট মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বেশির ভাগ কারখানাই ঈদ ছুটির আগে শেষ দুই কার্যদিবসে বেতন-বোনাস পরিশোধ করবে। এর আগে বেতন-বোনাস পরিশোধ করলে শ্রমিকদের একটি অংশ নির্ধারিত ছুটি পর্যন্ত অপেক্ষা করবে না। এর আগেই বাড়ি চলে যাবে। এই আশঙ্কায়ই মালিকপক্ষ আর্থিক সংগতি থাকা সত্ত্বেও অনেক সময় শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করে।

বিজিএমইএর পরিচালক এবং লেবারবিষয়ক স্থায়ী কমিটির পরিচালক (ইনচার্জ) আ ন ম সাইফুদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অনেকে বোনাস পরিশোধ করলেও বেশির ভাগ কারখানা বেতন ও বোনাস একসঙ্গেই পরিশোধ করবে বলে মনে হচ্ছে। আলাদা দুই সময়ে বেতন-বোনাস পরিশোধ করতে গেলে সময়ও বেশি অপচয় হয়। এ কারণেই বেতন-বোনাস একসঙ্গে পরিশোধ করেই বেশির ভাগ কারখানা ঈদের ছুটি দেবে। ’

শেষ মুহূর্তে বেতন-বোনাস পরিশোধ প্রসঙ্গে সাইফুদ্দিন বলেন, ‘এমনিতেই প্রতি মাসে শ্রমিকদের অন্তত ১০ শতাংশ মাইগ্রেশন করবে—আমাদের এ ধরনের মানসিক প্রস্তুতি থাকে। কিন্তু কোরবানির ছুটির পর মাইগ্রেশনের পরিমাণ ২০ শতাংশের বেশি হয়। শ্রমিকদের একটি বড় অংশ ছুটিতে বাড়ি গিয়ে লম্বা ছুটি কাটায়। এতে সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়তে হয় ছোট কারখানাগুলোকে। আগেভাগে পাওনা বুঝিয়ে দিলে শ্রমিকদের অনেকেই ছুটির অপেক্ষা না করে বাড়ি চলে যাবেন। এ কারণেই শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করে মালিকপক্ষ। ’

চট্টগ্রাম ইপিজেডের একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, গতকাল পর্যন্ত সিইপিজেডের ১২৫টির মতো কারখানা ঈদ বোনাস পরিশোধ করেছে। বাকিরা আজকালের মধ্যে বোনাস পরিশোধ করবে বলে আশ্বস্ত করেছে। এর মধ্যে ৫০টির বেশি কারখানা আগস্ট মাসের বেতনও পরিশোধ করেছে। অনেক কারখানা ৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বেতন ও বোনাস একসঙ্গে পরিশোধ করবে।


মন্তব্য