kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বাজার অসম করছে বিদেশি বিনিয়োগ

দেশীয় ই-কমার্স উদ্যোক্তাদের রক্ষায় নীতিমালা দাবি

বাণিজ্য ডেস্ক   

৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



দেশীয় ই-কমার্স উদ্যোক্তাদের রক্ষায় নীতিমালা দাবি

গোলটেবিল বৈঠকে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন বেসিস সভাপতি মোস্তাফা জব্বার। ছবি : কালের কণ্ঠ

সম্ভাবনাময় ই-কমার্স খাতকে অসম প্রতিযোগিতা থেকে রক্ষায় নীতিমালার দাবি করেছেন দেশীয় ই-কমার্স উদ্যোক্তারা। তাঁরা বলেন, সম্ভাবনাময় এই খাতে ইতিমধ্যে বড় বড় বিদেশি কম্পানি বিশেষ করে টেলিকম অপারেটরদের সক্রিয় অংশগ্রহণ শুরু হয়েছে।

তারা টেলিকম সেবাদানের অনুমোদন পেলেও এই খাতে ব্যবসা শুরু করছে, যা দেশের তরুণ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য হুমকিস্বরূপ। ডিজিটাল বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখার স্বার্থে এবং ভোক্তা স্বার্থরক্ষায় নেটসেবা ওয়েব কনটেন্ট নিরপেক্ষ হওয়া জরুরি।

গতকাল শনিবার বেসিস মিলনায়তনে বেসিস ও বেসিস ই-কমার্স অ্যালায়েন্স আয়োজিত ‘দেশীয় ই-কমার্স শিল্পের জন্য সঠিক দিকনির্দেশনা : নেট নিউট্রালিটি ও সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এমন দাবি জানান সংশ্লিষ্টরা। বেসিস সভাপতি মোস্তাফা জব্বারের সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বেসিসের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি রাসেল টি আহমেদ, সহসভাপতি এম রাশিদুল হাসান, পরিচালক উত্তম কুমার পাল, মোস্তাফিজুর রহমান সোহেল, বেসিসের ডিজিটাল কমার্স সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান সৈয়দা কামরুন আহমেদ, আজকের ডিলের পরিচালক ও বেসিসের সাবেক সভাপতি ফাহিম মাশরুর, মাস্টারকার্ড বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার সৈয়দ মোহাম্মাদ কামাল, বিকাশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কামাল কাদির প্রমুখ।

বৈঠকে বক্তারা বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে ই-কমার্সের বার্ষিক লেনদেনের পরিমাণ ৩৫০ কোটি টাকা। ই-কমার্স কম্পানিসহ এই খাতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বিভিন্ন ধরনের পাঁচ হাজার উদ্যোক্তা রয়েছেন, যাঁদের বেশির ভাগই ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা। এ ছাড়া প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই খাতে তিন লাখ মানুষের কর্মসংস্থান রয়েছে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের খুচরা বাজারগুলোর ২ থেকে ৩ শতাংশ অনলাইনে আনা সম্ভব হলে অনলাইন বাজারের পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা। যেখানে অন্তত ১০ লাখ লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

বক্তারা আরো বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এমনকি পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও টেলিকম অপারেটরদের ই-কমার্স ব্যবসায় আসার সুযোগ নেই। কোনো টেলিকম সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বিনা মূল্যে ইন্টারনেট সেবা দেওয়া, বিদেশি ই-কমার্স সাইটগুলো দেশীয় পণ্য বিক্রি করতে পারবে না এমন নানা উদাহরণ রয়েছে। যথাযথ গাইডলাইন না থাকার কারণে টেলিকম অপারেটররা সরাসরি বিনিয়োগ করে বাজারকে অস্থির করে তুলছে। দেশের উদ্যোক্তাদের রক্ষা করতে ও সম্ভাবনাময় খাতকে টিকিয়ে রাখতে যথাযথ আইন বা নীতিমালা করতে হবে। এ ছাড়া কেউ বিনিয়োগে আগ্রহী হলে দেশীয় কম্পানির সঙ্গে অন্তত ৫০ শতাংশ শেয়ারে কাজ করতে পারবে।

গোলটেবিল বৈঠক থেকে প্রাপ্ত সুপারিশমালা ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, বাংলাদেশ টেলিকম রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি), সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকারি দপ্তরগুলোতে বৈঠকের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হবে। প্রয়োজনে এ বিষয়ে খসড়া নীতিমালা প্রদান করা হবে বলেও বেসিস ও বেসিস ই-কমার্স অ্যালায়েন্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়।


মন্তব্য