kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


‘ব্রেক্সিটে ক্ষতির আশঙ্কা নেই’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে যুক্তরাজ্য বেরিয়ে গেলে (ব্রেক্সিট) এই অঞ্চলের সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বাংলাদেশ। এমন বক্তব্য নাকচ করে দিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, ‘ব্রেক্সিটের ফলে বাংলাদেশ নয়, যুক্তরাজ্য সমস্যায় পড়বে।

তিনি আরো বলেন, ব্রেক্সিটের ফলে বাংলাদেশ প্রতিবছর ২২৮ মিলিয়ন ডলার ক্ষতি হবে বলে যে আশঙ্কা করা হচ্ছে এটি তেমন বড় অঙ্ক নয়। কেননা আমাদের রপ্তানির আকার ৩০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। অন্য বাজারে রপ্তানি বাড়িয়ে এই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) মাসিক মধ্যাহ্ন ভোজ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অ্যামচেম সভাপতি নুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন ডেপুটি চিফ অব মিশন ডেভিড মিল অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন। ‘বাংলাদেশের সমৃদ্ধির জন্য পরিকল্পনা : কৌশলগত অগ্রাধিকার’ শিরোনামে বক্তব্য দেন পরিকল্পনামন্ত্রী।

সরকার শিক্ষা খাতে গুরুত্ব দিচ্ছে উল্লেখ করে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘২০৩০ সালে বাংলাদেশ হবে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির দেশ। আমাদের লক্ষ্য ২০৪০ সালে বিশ্বের ২০টি উন্নত দেশের সারিতে বাংলাদেশের স্থান করে নেওয়া। বাংলাদেশ আজ ৪৪তম অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিশালী দেশ হিসেবে আভির্ভূত হয়েছে। ক্রয়ক্ষমতার সক্ষমতার মানদণ্ডে বিশ্বে বাংলাদেশ ৩২তম। ’

বাংলাদেশের বিনিয়োগের পরিবেশের কথা উল্লেখ করে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে কাউকে ভাবতে হয় না। এ দেশে মুনাফা করার জন্য পরিকল্পনা করতে হয় না। এমন কোনো ব্যবসা নেই যেখানে লাভ হয় না। বরং ‘লস’ করতে পরিকল্পনা করতে হয়। বাংলাদেশে আরো বিনিয়োগ করার জন্য ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

মার্কিন ডেপুটি চিফ অব মিশন ডেভিড মিল বলেন, বাংলাদেশ অনেক এগিয়েছে। আর্থসামাজিক উন্নয়নে বিশ্বে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। সম্প্রতি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বাংলাদেশ সফরকালেও এই অর্জনের প্রশংসা করেছেন। এখন বাংলাদেশ বিদ্যুৎসহ বৃহৎ প্রকল্পে বিনিয়োগ ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে, যা আশাব্যঞ্জক। অ্যামচেম সভাপতি নুরুল ইসলাম তার স্বাগত বক্তব্যে ব্যবসার জন্য নীতি কাঠামো, স্বচ্ছতা, অবকাঠামো দুর্বলতার বাইরে তিনটি বিষয়ের প্রতি মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এগুলো হলো মানসম্পন্ন শিক্ষাব্যবস্থা, ব্রেক্সিট পরবর্তী বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ঝুঁকি এবং ট্রান্স প্যাসিফিক পার্টনারশিপের (টিপিপি) ফলে অন্যান্য দেশের সঙ্গে রপ্তানি প্রতিযোগী সক্ষমতা।

তিনি বলেন, ‘আমাদের বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ পরবর্তী বড় ভাবনার বিষয় হয়ে যায় দক্ষ জনবল সংগ্রহ করার বিষয়ে। তাই দেশে দক্ষ জনবল বাড়াতে মানসম্পন্ন শিক্ষা প্রয়োজন। এ জন্য এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে। ’

তিনি আরো বলেন, সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ব্রেক্সিটে এই অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বাংলাদেশ। এ বিষয়ে আমাদের এখনই নজর দিতে হবে। তা ছাড়া বাণিজ্য সহায়তার জন্য টিপিপি চুক্তির ফলে বাংলাদেশের প্রতিযোগী অন্য দেশ দ্রুত এগিয়ে যাবে, বিশেষ করে ভিয়েতনাম। এ জন্য রপ্তানি খাত নিয়ে আরো পরিকল্পনা প্রয়োজন।


মন্তব্য