kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


প্রবৃদ্ধি অর্জনে অর্থনীতি বহুমুখীকরণের প্রস্তাব

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



প্রবৃদ্ধি অর্জনে অর্থনীতি বহুমুখীকরণের প্রস্তাব

বাংলাদেশের কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জনের পাশাপাশি নতুন নতুন কর্মসংস্থান তৈরিতে দক্ষ জনশক্তি ও অর্থনৈতিক বহুমুখীকরণের ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। সংস্থাটি বলছে, বাংলাদেশে দক্ষ জনশক্তির অভাবে বর্তমানে পোশাক শিল্পের মধ্যবর্তী ব্যবস্থাপক হিসেবে বহু বিদেশি শ্রমিক এ দেশে কাজ করছে।

দক্ষ জনশক্তি থাকলে বাংলাদেশি শ্রমিকরাই অধিক বেতনে চাকরি করতে পারতেন। বর্তমানে যে পরিমাণ মানুষ কর্মের বাজারে প্রবেশ করছে তাদের সবাইকে কর্মসংস্থানের সুযোগ দিতে পারলে আট শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন সহজ হয়ে যাবে। এডিবির ‘কান্ট্রি ডায়াগনস্টিক স্টাডি : কনসোলিডেটিং এক্সপোর্ট-লেড গ্রোথ’ এবং ‘এমপ্লয়মেন্ট ডায়াগনস্টিক স্টাডি : লুকিং বেয়ন্ড গার্মেন্টস’ শীর্ষক  দুটি প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

গতকাল রাজধানীর র‍্যাডিসন হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রতিবেদন দুটি প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন, এডিবির বাংলাদেশ মিশনের আবাসিক প্রধান কাজুহিকো হিগুইচি, পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব বেগম শামসুন নাহার। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এডিবির সিনিয়র ইকোনমিস্ট ভেলিরি মেরসার বাকম্যান ও লিড রিসার্স পরামর্শক রিজওয়ানুল ইসলাম। বক্তব্য দেন আইএলওর কান্ট্রি ডিরেক্টর শ্রীনিবাস রেড্ডি, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের যুগ্ম সচিব বেগম ফাতেমা ইয়াসমিন প্রমুখ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক দশক ধরে বাংলাদেশ ৬ শতাংশ হারে জিডিপির প্রবৃদ্ধি অর্জন করছে। এটি আরো বাড়াতে মানসম্মত বিনিয়োগ প্রয়োজন। ২০২১ সালের মধ্যে লক্ষ্য অনুযায়ী মধ্য আয়ের দেশে যেতে হলে ৭.৫ থেকে ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হবে। এডিবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অপর্যাপ্ত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ, তৈরি পোশাক খাতে শিল্প কৌশলের ঘাটতি এবং জমি নিবন্ধনসংক্রান্ত জটিলতা ও জমির মালিকানা স্বত্ব এবং সম্পদের নিরাপত্তা অন্যতম প্রধান বাধা। প্রবৃদ্ধি বাড়াতে হলে এসব বাধা দূর করতে হবে। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, বাংলাদেশে দারিদ্র্য দ্রুত হারে কমছে। ২০০০ সালে যেখানে দারিদ্র্যের হার ছিল ৪৯ শতাংশ, সেখানে ২০১৬ সালে এসে কমে দাঁড়িয়েছে ২৪ শতাংশে। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে অর্থপ্রাপ্তি সহজ হয়েছে এবং সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচিতে বিনিয়োগ বেড়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ঋণে ভালো করায় অর্থপ্রাপ্তি সহজ হয়েছে এবং মোবাইল প্রযুক্তির বিকাশ ঘটায় মানুষের জীবনযাত্রার মধ্যে পরিবর্তন এসেছে।

এডিবি বলেছে, বাংলাদেশকে মধ্য আয়ের দেশে যেতে হলে অর্থনৈতিক বহুমাত্রিকতা আনতে হবে। এ ক্ষেত্রে পোশাক শিল্পের পাশাপাশি অন্যান্য শিল্পপণ্য রপ্তানি বাড়াতে হবে। এ ক্ষেত্রে ওষুধ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষিজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, প্লাস্টিক পণ্যসহ বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। এ ছাড়া পর্যটনে উন্নতি করার সুযোগ রয়েছে। বলা হয়েছে, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক বহুমুখীকরণ করা গেলে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি বাড়বে।

অনুষ্ঠানে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ড. শামসুল আলম বলেন, ব্যাংকে প্রচুর অলস টাকা রয়েছে। ব্যাংক থেকে টাকা পাওয়া সমস্যা না হলেও কাঙ্ক্ষিত বিনিয়োগ হচ্ছে না। ফলে পুঁজি পাচার হয়ে যাচ্ছে। প্রতিবছর প্রচুর অর্থ বিদেশে চলে যাচ্ছে।

কাজুহিকো হিগুইচি বলেন, দারিদ্র্য নিরসনে বাংলাদেশ উন্নতি করেছে। এ ক্ষেত্রে আরো উন্নতির সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে দক্ষ জনশক্তি ও অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।


মন্তব্য