kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


‘স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি অর্জন করে যাচ্ছে পোশাক খাত’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



‘স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি অর্জন করে যাচ্ছে পোশাক খাত’

রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় পোশাক খাতের প্রদর্শনী গতকাল শুরু হয়েছে। প্রথম দিনেই এসেছেন দেশি বিদেশী অসংখ্য দর্শনার্থী। ছবি : কালের কণ্ঠ

দেশের পোশাক খাত নিয়ে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র হচ্ছে। তবে এই ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে পোশাক খাত স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি অর্জন করে যাচ্ছে।

গতকাল বুধবার রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় পোশাক খাতের তিন প্রদর্শনীর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এ কথা বলেন।

শিল্পমন্ত্রী আরো বলেন, ‘বাংলাদেশের পোশাক খাতে প্রায় ৪৪ লাখ মানুষ কর্মরত। এর মধ্যে ৮০ শতাংশই নারী। এটি নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে এমডিজির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়তা করছে। ’

জিএসপি ফিরে পাওয়া প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘তাজরীন গার্মেন্টস ও রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর শ্রমিক নিরাপত্তা ও বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশের জিএসপি বাতিল করা হয়। আমরা এরই মধ্যে এই সুবিধা ফিরে পেতে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া শর্তাবলি পূরণ করেছি। ’

অনুষ্ঠানে অন্য বক্তারা বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প খাতে বিদ্যমান ব্যাপক সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে বলেন, রানা প্লাজা ও তাজরীন ফ্যাশনসে দুর্ঘটনার পর আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কমপ্লায়েন্স অনুযায়ী বাংলাদেশে পরিবেশবান্ধব তৈরি পোশাক কারখানার উন্নয়নে উদ্যোক্তারা তিন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। এর ফলে গত বছর তৈরি পোশাক খাতে ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ঘটেছে। পাশাপাশি এই শিল্প খাতে ৪০ শতাংশ মূল্য সংযোজন হচ্ছে। তাঁরা তৈরি পোশাক খাতে ৫০ বিলিয়ন ইউএস ডলার রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ, এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন এবং সরকার গৃহীত ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার তাগিদ দেন।

অনুষ্ঠানে শেষে শিল্পমন্ত্রী ১৭তম টেক্সটেক বাংলাদেশ-২০১৬ ইন্টারন্যাশনাল এক্সপো, দশম ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইয়ার্ন অ্যান্ড ফেব্রিক শো-২০১৬ এবং ২৫তম ডাই অ্যান্ড ক্যাম বাংলাদেশ-২০১৬ এক্সপোর উদ্বোধন করেন।

বস্ত্র ও পোশাক খাতের উদ্যোক্তাদের জন্য একছাদের নিচে আধুনিক যন্ত্রপাতি এবং প্রযুক্তি নিয়ে শুরু হওয়া চার দিনের টেক্সটেক বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল এক্সপো-২০১৬ প্রদর্শনীতে থাকছে টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস শিল্পের আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি, সুতা ও কাপড় উৎপাদক মেশিনারিজ, ডায়েস এবং বিশেষ রাসায়নিক দ্রব্যের বিশাল সমাহার। টেক্সটেক, ইয়ার্ন অ্যান্ড ফেব্রিক শো এবং ডাই-ক্যাম এক্সপোগুলো একটি সিরিজ এক্সিবিশন, যা ১৭ বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া ও শ্রীলঙ্কায় আয়োজন করে আসছে সেমস গ্লোবাল।

মেলায় ২৩টি দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংগঠনসহ প্রায় এক হাজার ৫০টি প্রদর্শক অংশগ্রহণ করেছে। আগামী ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য মেলা উন্মুক্ত থাকবে।


মন্তব্য