kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


আগামী অর্থবছর থেকে নতুন আইন কার্যকর

অনলাইনে ভ্যাট নিবন্ধন বাধ্যতামূলক হচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



আগামী অর্থবছর থেকে ভ্যাট আইন বাস্তবায়নের সব রকম প্রস্তুতি নিচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এ জন্য অনলাইনে ভ্যাট নিবন্ধন নম্বর ছাড়া আগামী অর্থবছর থেকে ভ্যাট বা (ভ্যালু অ্যাডেড ট্যাক্স) বা মূসক জমা নেওয়া হবে না।

পুরনো প্রক্রিয়ায় ভ্যাট পরিশোধ করলে তা এনবিআরের তহবিলে জমা হবে না। ফলে ওই প্রতিষ্ঠান ভ্যাট খেলাপি হিসেবে বিবেচিত হবে।

গতকাল ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক আইন ২০১২ শীর্ষক এক কর্মশালায় এনবিআর সদস্য এবং ভ্যাট অনলাইন ও ই-সেবা প্রকল্প পরিচালক রেজাউল হাসান এ তথ্য জানান। রাজধানীর কাকরাইলে আইডিইবি ভবনে ভ্যাট অনলাইন প্রকল্পের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত দিনব্যাপী এ কর্মশালায় অর্থনৈতিক রিপোর্টার্স ফোরামের সদস্যরা অংশ নেন। কর্মশালার সমাপনীতে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান অংশগ্রহণকারীদের সনদ বিতরণ করেন।

নতুন ভ্যাট আইন চালু করতে সব প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে নজিবুর রহমান বলেন, ভ্যাট আইন পুরোপুরি বাস্তবায়নের সঙ্গে সঙ্গে আয়কর ও শুল্ক আইনও বাস্তবায়নে যাচ্ছে এনবিআর। এ জন্য পুরোপুরি কাজ চলছে। ব্যবসায়ীরা যাতে আগামী বাজেটে কোনো ধরনের বিরোধিতা করতে না পারে সে জন্য এখন থেকে এনবিআর কাজ করছে। আশাকরি আগামী বছর বাজেটের আগে ব্যবসায়ী এবং এনবিআর হাতে হাত ধরে বাজেট বাস্তবায়নে যাবে।

তিনি বলেন, এ দেশের কর জিডিপির অনুপাত আগের চেয়ে বেড়েছে। ভ্যাট আদায় বাড়ছে। আয়কর ও শুল্ক খাতেও আয় এখন বেশি। তাই আগামীতে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কোনো সমস্যা হবে না।

তিনি বলেন, এনবিআর সংলাপ এবং দক্ষতা বৃদ্ধিতে আগের চেয়ে মনোযোগ বাড়িয়েছে। কর ও ভ্যাট একাডেমিগুলোতে বেশি পরিমাণে প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হচ্ছে। এতে রাজস্ব আদায়ে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

এনবিআর সদস্য জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ভ্যাট আইন ২০১২ বাস্তবায়ন হলে ভ্যাট আদায় বাড়বে। আগে যারা ভ্যাট সহজে ফাঁকি দিয়েছে তারা আর ভ্যাট ফাঁকি দিতে পারবে না। আর এখানেই বেঁধেছে বিপত্তি। ভ্যাট ফাঁকিবাজদের অনেকেই আইনটির বিরোধিতা করছে। তবে সৎ ব্যবসায়ীরা যেসব আপত্তি জানিয়েছিল তার সমাধানে চেষ্টা করা হচ্ছে। এই আইনটি বাস্তবায়ন হলে রাজস্ব আদায়  ৮ থেকে ১০ গুণ বেড়ে যাবে।

ভ্যাট অনলাইন প্রকল্পে উপপ্রকল্প পরিচালক জাকির হোসেন বলেন, এ দেশে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভ্যাট আদায় ব্যবস্থা পুরোপুরি চালু না হওয়া পর্যন্ত ভ্যাট আদায়ে স্বচ্ছতা আসবে না। ফাঁকি বন্ধ হবে না। ইসিআর মেশিন প্রত্যেক দোকানে থাকলেও এনবিআরের মূল ব্যবস্থা ডিজিটাল না হওয়া পর্যন্ত এর সুফল পাওয়া যাবে না। তাই আগে এনবিআরের আদায় পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে হবে তবেই ভ্যাট আদায়ে ফাঁকি বন্ধ হবে।

অনুষ্ঠানে ইআরএফ সভাপতি সাইফ ইসলাম দিলাল বলেন, দক্ষ সাংবাদিক একটি নির্ভুল রিপোর্ট লেখেন। তাই প্রত্যেক সাংবাদিককে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে হলে উপযুক্ত প্রশিক্ষণ নিতে হবে।


মন্তব্য