kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সরকারসৃষ্ট কোনো মনোপলি নেই : তারানা

সুস্থ প্রতিযোগিতা প্রয়োজন ডিজিটাল আর্থিক সেবায়

বিশেষ প্রতিনিধি   

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



দেশে ডিজিটাল আর্থিক সেবায় (ডিএফএস) সুস্থ প্রতিযোগিতায় নিশ্চিত করতে মোবাইল অপারেটরদেরও অংশগ্রহণ থাকা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম। তিনি বলেন, মোবাইল ব্যাংকিং সেবা যারা দিচ্ছে তারা ভালো করছে।

বিকাশ রীতিমতো বিপ্লব ঘটিয়েছে। কিন্তু সুস্থ প্রতিযোগিতার জন্য বাজারে আরো অনেক প্লেয়ার থাকা দরকার। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিটিআরসির মধ্যে অংশীদারি জরুরি। এ ব্যাপারে বিটিআরসি এবং বাংলাদেশ ব্যাংক একটি সমঝোতা স্মারক সই করে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারে।

গত মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে টেলিকম রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক অব বাংলাদেশের (টিআরএনবি) আয়োজনে ‘বাংলাদেশে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি : সুযোগ, বিপত্তি ও ডিএফএস এ ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক এক সেমিনারে এসব কথা বলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম।

এমএফএসের (মোবাইল ফিন্যানশিয়াল সার্ভিস) ইকোসিস্টেমে পার্টনারশিপের প্রয়োজন রয়েছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘পার্টনারশিপকে খুব সুদৃঢ়ভাবে কাজে লাগানো প্রয়োজন। এখানে সরকার সৃষ্ট কোনো মনোপলি নেই। এখানে যোগ্যতার মাধ্যমে বিকাশ তার মনোপলি সৃষ্টি করেছে। আমরা মার্কেটটিকে আর একটু কমপেটিটিভ করতে পারি এবং এ জন্য আমাদের পার্টনারশিপ ইকোসিস্টেমকে জোরদার করতে হবে। ’

টিআরএনবি সভাপতি রাশেদ মেহেদীর সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদ।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক শাহ আলম (ইকোনমিক ক্রাইম) এ খাতে বিভিন্ন ধরনের অপরাধের তথ্য উপস্থাপন করেন। তবে অন্যান্য আলোচকরা বলেন, বায়োমেট্রিক্স ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে সিম নিবন্ধন করার পর এসব অপরাধ অনেক কমে যাওয়ার কথা।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সার্ভিস বিভাগের ডেপুটি ডিরেক্টর প্রজ্ঞা পারমিতা সাহা বলেন, এ খাতে নতুন নীতিমালা নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। বাজার সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে সম্ভাবনা কিভাবে কাজে লাগানো যায় সেভাবে এগিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

বিটিআরসি সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিসেস বিভাগের পরিচালক লে. কর্নেল জুলফিকার আলী বলেন, ‘এ খাতে পার্টনারশিপটা উন্মুক্ত করা উচিত। এখানে মার্কেটই নির্ধারণ করবে কে ব্যবসা করবে। তখন মনোপলির কথা আসবে না। ’

বিকাশের উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক দাশ গুপ্ত অসীম কুমার বলেন, ‘এ খাতে ডুয়েল অথরিটি থাকলে তাতে ভালো হবে না। এমএফএস গাইডলাইন ২০১১তেও কোনো সমস্যা নেই। ব্যাংক কম্পানি অ্যাক্ট অনুসারেই মোবাইল ব্যাংক সেবা চলছে। বাংলাদেশ ব্যাংকে কর্মরত অবস্থায় এ-সংক্রান্ত কমিটিতে আমি ছিলাম। এখন টেলকো অপারেটরদের এ খাতে সুযোগ দেওয়া ঠিক হবে না। ’

সেমিনারে গ্রামীণফোনের সিনিয়র স্পেশালিস্ট (ফিন্যানশিয়াল সার্ভিস) রাশিদা সুলতানা বলেন, ‘ডিএফএসএর মাধ্যমে ব্যাংকিং সেবার বাইরে থাকা জনসংখ্যার জন্য ঋণদান, সঞ্চয়পত্র, মার্চেন্ট পেমেন্ট এমনকি বীমা সুবিধাও দেওয়া সম্ভব। ব্যাংকিং সেবার বাইরে থাকা জনসংখ্যার জন্য বাংলাদেশে এ ধরনের সেবার সম্প্রসারণের প্রয়োজন রয়েছে। ’

মোবাইল ফোন অপারেটর রবির ডিজিটাল সার্ভিসের প্রধান মানজুর রহমান বলেন, ‘ভবিষ্যতের মার্কেটের অবস্থা কী হবে সে চিন্তা করেই নীতিমালা করা উচিত। এ খাতে নতুন নতুন উদ্ভাবনী থাকতে হবে। ’

অনুষ্ঠানে বিকাশের কর্মকর্তা মে. জে. (অব.) মনিরুল ইসলাম, গ্রামীণফোনের চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার মাহমুদ হোসেন, বাংলালিংকের ডিরেক্টর আসিক আহমেদ, ডিবিবিএল-এমএফএস প্রধান আবুল কাশেম খান, মাইক্রোসফটের কর্মকর্তা জাকিরুল ইসলাম, মাহিন্দ্রা কমভিবার কান্ট্রি ম্যানেজার রিয়াদ হাসনাইন প্রমুখ বক্তব্য দেন।


মন্তব্য