kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


২০০ কারখানায় বেতন-বোনাস নিয়ে সংকটের আশঙ্কা

এম সায়েম টিপু   

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



২০০ কারখানায় বেতন-বোনাস নিয়ে সংকটের আশঙ্কা

ঈদুল আজহার আগে তৈরি পোশাক খাতের প্রায় ২০০ কারখানায় বেতন-বোনাস নিয়ে সংকট তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে পোশাক খাতের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ। এ ছাড়া এরই মধ্যে সংকট হতে পারে এমন কারখানার তালিকা করেছে সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা।

এই তালিকায় ২০০টির বেশি কারখানার নাম রয়েছে। সম্প্রতি বিজিএমইএকে এমন একটি তালিকা দিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে সরকারি ওই সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে। গোয়েন্দা সংস্থার সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে বিজিএমইএর পক্ষ থেকে সংকট সমাধানেরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিজিএমইএ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এদিকে সড়ক, যোগাযোগ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের অনুরোধে আসন্ন কোরবানির ঈদের আগে তিন ধাপে গার্মেন্ট কারখানা ছুটি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিজিএমইএ। গত সপ্তাহে ওবায়দুল কাদের আশুলিয়া এলাকার সড়ক পরিদর্শনে গিয়ে গার্মেন্ট মালিকদের দুই ধাপে কারখানা ছুটি দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন, যাতে ঈদের আগে রাস্তায় জানজট তৈরি না হয়। তাঁর সেই আহ্বানে সাড়া দিলেন গার্মেন্ট মালিকরা।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে বিজিএমইএ সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘যোগাযোগমন্ত্রী দুই ধাপে ছুটি দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। তাঁর অনুরোধের প্রতি সম্মান রেখে আমরা তিন ধাপে গার্মেন্ট কারখানা ছুটি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ঈদের আগে তিন ধাপে পর্যায়ক্রমে ছুটি দেওয়া হবে গার্মেন্ট কারখানা। তবে এক দিনেই নির্দিষ্ট কোনো এলাকায় ছুটি নয়, বেতন-বোনাস প্রদান সাপেক্ষে এবং শিপমেন্ট হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে কারখানাগুলো এই তিন দিনে পর্যায়ক্রমে ছুটি দেওয়া হবে। ’

বিজিএমইএ সূত্রে জানা গেছে, তিন ধাপে ছুটি দেওয়ার বিষয়ে মালিকদের নির্দেশনা সংবলিত একটি পরিপত্র গতকাল বিজিএমইএ থেকে সব সদস্য কারখানা মালিকের কাছে ই-মেইলে পাঠানো হয়েছে। ‘ঈদ উপলক্ষে শ্রমিকদের ছুটি প্রদান প্রসঙ্গে’ শিরোনামের ওই পরিপত্রে বলা হয়েছে, ঈদের আগে সমন্বয় করে ভিন্ন ভিন্ন দিনে পোশাক কারখানায় যেন ছুটি দেওয়া হয়। এ বিষয়ে গার্মেন্ট কারখানা মালিকদের সহযোগিতা চাওয়া হয় বিজিএমইএর পক্ষ থেকে।

আসন্ন কোরবানির ঈদের আগে বেতন-বোনাস নিয়ে বড় কোনো সংকট হবে না বলে মনে করছেন গার্মেন্ট মালিকরা। তবে ছোট ও মাঝারি বেশ কিছু কারখানায় সংকট দেখা দেবে। আর এ রকম দুই শতাধিক কারখানার তালিকা করেছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। বিজিএমইএ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা—ডিজিএফআই এবং শিল্প পুলিশের পক্ষ থেকে আলাদা তালিকা জমা দেওয়া হয়েছে বিজিএমইএতে।

এ বিষয়ে বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘সরকারি বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকে যে তালিকা দেওয়া হয়েছে, আমরা সেগুলো যাচাই-বাছাই করছি। এর পাশাপাশি বিজিএমইএর পক্ষ থেকেও বিষয়টি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। যেসব কারখানায় সমস্যা রয়েছে, সেসব কারখানার মালিকদের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে এবং কার কী ধরনের সমস্যা, সেগুলো নির্ধারণ করে কিভাবে সমস্যা সমাধান করা যায়, আমরা সেই চেষ্টা করছি। ’ তিনি বলেন, ‘সামগ্রিকভাবে এবারের ঈদের আগে পোশাক শিল্পে বেতন-বোনাস নিয়ে কোনো সংকট হবে না। তবে এত বড় একটি শিল্প খাতে ছোটখাটো সমস্যা থাকতেই পারে। আমরা এসব ছোট সমস্যা সমাধান করব। ’ তিনি আরো বলেন, ‘এরই মধ্যে অনেক কারখানা মালিক বোনাস দেওয়া শুরু করেছেন। আমার কারখানায়ও আগামীকাল বৃহস্পতিবার (আজ) বোনাস প্রদান করব। এভাবে যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী ঈদের ছুটির আগেই বেতন-বোনাস প্রদান করা হবে। ’

এদিকে ঈদের আগে গার্মেন্ট খাতের বেতন-বোনাস প্রদানসহ সার্বিক বিষয় নিয়ে স্বরাষ্ট্র ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে পৃথক বৈঠক ডাকা হয়েছে। আজ সকালে শ্রম ও কর্মস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নুর সঙ্গে এবং দুপুরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামালের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এতে বিজিএমইএ নেতারা ছাড়াও শ্রমিক নেতারা উপস্থিত থাকবেন।

সার্বিক বিষয় সম্পর্কে শ্রমিক নেতা ও জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক লীগের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম রনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আসন্ন ঈদের আগে বেশ কিছু গার্মেন্ট কারখানায় বেতন-বোনাস নিয়ে সংকট দেখা দেবে। শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে আমরা এসব কারখানা মনিটর করছি। আমরা চাইব প্রতিটি গার্মেন্ট শ্রমিক যেন বেতন-বোনাস নিয়ে স্বজনদের সঙ্গে ঈদ করতে বাড়িতে যায়। মালিকদের প্রতি আমাদের অনুরোধ, ঈদের আগে সব কারখানায় যেন বেতন-বোনাস প্রদান করা হয়। ’


মন্তব্য