kalerkantho


আখাউড়া-আগরতলা রেললাইন প্রকল্পের উদ্বোধন আজ

আখাউড়া-আগরতলা রেললাইন হবে ১৫ কিলোমিটার

বিশ্বজিৎ পাল বাবু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া   

৩১ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০



দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে আখাউড়া-আগরতলা রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পের উদ্বোধন হতে যাচ্ছে আজ রবিবার। ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলা অংশে বাংলাদেশের রেলপথ মন্ত্রী মো. মুজিবুল হক, ভারতের কেন্দ্রীয় রেলপথ মন্ত্রী সুরেশ প্রভাকর প্রভুকে নিয়ে এ প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। যদিও বাংলাদেশ অংশে কাজের কোনো অগ্রগ্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।

এদিকে একই দিন আগরতলা থেকে দিল্লি পর্যন্ত চলাচলের জন্য প্রথমবারের মতো ট্রেন উদ্বোধন হতে যাচ্ছে। ভারতের মন্ত্রী সুরেশ প্রভু ট্রেনটির উদ্বোধন করবেন। ট্রেনটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ত্রিপুরাসুন্দরী শক্তি এক্সপ্রেস’। আগরতলা থেকে প্রতি বৃহস্পতিবার এবং দিল্লি থেকে প্রতি সোমবার ট্রেনটি ছেড়ে যাবে। উল্লিখিত পথে চলাচলে সময় লাগবে প্রায় ৪৭-৪৮ ঘণ্টা।

ভারপ্রাপ্ত আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মঈন উদ্দিন ইকবাল জানান, আখাউড়া-আগরতলা রেলপথ নির্মাণকাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আজ রবিবার সকাল ১০টায় আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে যাবেন বাংলাদেশের রেলপথ মন্ত্রী। সন্ধ্যা ৬টার দিকে তাঁর একই বন্দর দিয়ে ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে রেলপথ মন্ত্রী মুজিবুল হকও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে রেলওয়ের একটি টিম নিয়ে আগরতলায় যাওয়ার কথা জানিয়েছেন। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আখাউড়া-আগরতলা রেললাইন নির্মাণে বাংলাদেশ অংশেও শিগগিরই কাজ শুরু হবে।’

জানা গেছে, আখাউড়া-আগরতলা রেললাইন হবে ১৫ কিলোমিটার। এর মধ্যে বাংলাদেশের অংশে ১০ কিলোমিটার ও ভারতের অংশ পাঁচ কিলোমিটার। রেললাইনটি আগরতলা স্টেশন থেকে নিশ্চিন্তপুর সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশের গঙ্গাসাগর হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশনে আসবে। তবে আগরতলার অংশে কাজ শুরুর প্রস্তুতি নেওয়া হলেও বাংলাদেশে কোনো অগ্রগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।

প্রকল্পের কাজ শুরু করতে ইতিমধ্যেই ৯৭ কোটি রুপি পেয়েছে ত্রিপুরা রাজ্য সরকার। এর পুরোটাই ব্যয় হবে ভারতের অংশের পাঁচ কিলোমিটার রেললাইনের জন্য ৬৭ একর জমি অধিগ্রহণে। ওই পাঁচ কিলোমিটার রেললাইন নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৮০ কোটি রুপি। বাংলাদেশের দিকে ১০ কিলোমিটার রেললাইন নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৮৭ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। প্রকল্পের কাজ শুরুর জন্য ভারতের ডোনার (ডেভেলপমেন্ট অব নর্থ ইস্ট রিজন) মন্ত্রণালয় ১৫০ কোটি রুপি দিচ্ছে সেখানকার রেলওয়ে মন্ত্রণালয়কে। আপাতত জমি অধিগ্রহণের জন্য রেলওয়ে মন্ত্রণালয় থেকে ৯৭ কোটি রুপি পাঠানো হয়েছে রাজ্য সরকারের কাছে।

রেললাইন নির্মাণকাজের উদ্বোধন উপলক্ষে আগরতলায় ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলে সেখানকার একাধিক সূত্র জানিয়েছে। সেখানে জাঁকজমকপূর্ণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। উদ্বোধনের পর বাংলাদেশ ও ভারতের দুই মন্ত্রী বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দরের পতাকা নামানোর অনুষ্ঠান দেখবেন।



মন্তব্য