kalerkantho


টেকসই উন্নয়নে পরিবেশবান্ধব বিকল্প ইট ব্যবহারের পরামর্শ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৯ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০



টেকসই উন্নয়নে পরিবেশবান্ধব বিকল্প ইট ব্যবহারের পরামর্শ

ইটভাটায় কৃষি জমির মাটি ব্যবহার করলে ভবিষ্যতে দেশ খাদ্য সংকটে পড়বে। কৃষি জমির উপরিভাগের মাটি ইটভাটায় ব্যবহার করায় জমির উর্বরতা নষ্ট হয়।

দীর্ঘদিন এ জমিতে কোনো ফসল উত্পন্ন হয় না। বর্তমানে দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। এ অবস্থা বজায় রাখতে ইট তৈরিতে কৃষি জমির মাটি ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা রিজেন্সি হোটেলে অনুষ্ঠিত প্রোমোটিং সাসটেইনেবল বিল্ডিং ইন বাংলাদেশ প্রকল্পের ন্যাশনাল ইনসেপশন কর্মশালার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এ কথা বলেন। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট (এইচবিআরআই), অক্সফাম বাংলাদেশ, বেলা, জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন যৌথভাবে এ কর্মশালার আয়োজন করে।

গণপূর্তমন্ত্রী বলেন, ইট তৈরিতে বিকল্প প্রযুক্তির উদ্ভাবন হয়েছে। নদীর তলদেশ খনন করে বালি মিশ্রিত যে মাটি পাওয়া যায়, তা দিয়ে নতুন প্রযুক্তিতে ইট তৈরি করা যায়। দেশে অকৃষি জমির পরিমাণ মাত্র শতকরা ২৭ ভাগ। দেশের বিপুল জনসংখ্যার আবাসন চাহিদা পূরণের জন্য সুউচ্চ ভবন নির্মাণের হার বেড়ে গেছে।

সেখানে প্রচুর ইট ব্যবহার হচ্ছে। এর বিকল্প হিসেবে এইচবিআরআই ফেরোসিমেন্ট উদ্ভাবন করেছে। এ ফেরোসিমেন্ট দিয়ে দোতলা ভবন সহজেই নির্মাণ করা যায়। গ্রামে ইটের দেয়াল দিয়ে টিনশেডের যেসব বাড়ি নির্মাণ হচ্ছে, সেখানে ফেরোসিমেন্ট ব্যবহার করলে ব্যয় কমবে।

গণপূর্তমন্ত্রী আরো বলেন, উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরে মালয়েশিয়ার সহযোগিতায় যে ১০০টি অ্যাপার্টমেন্ট ভবন নির্মাণ করা হবে, সেখানে ইট ব্যবহার করা হবে না। ইন্ডাস্ট্রিয়াল বিল্ডিং টেকনোলজি ব্যবহার করা হবে। সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্পেও ফেরোসিমেন্ট ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইটের বিকল্প হিসেবে ফেরোসিমেন্ট ব্যবহারকে সরকার সহযোগিতা প্রদান করছে।

এইচবিআরআইয়ের পরিচালক আবু সাদেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ডেলিগেশনের হেড অব ইউনিট মারিও রনকোনি, বেলার প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রেজওয়ানা হাসান, জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের পরিচালক প্রোগ্রাম হাসান আরিফ ও অক্সফাম বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর স্নেহাল ভি সোনেজি। কর্মশালায় জানানো হয়, দেশে প্রতিবছর ইটের চাহিদা প্রায় এক হাজার ৫০০ কোটি পিস। এ জন্য ১২৭ কোটি টন মাটির প্রয়োজন হয়। নগরায়ণ বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশে প্রতিবছর শতকরা দুই থেকে তিন ভাগ হারে ইটের চাহিদা বাড়ছে।

কর্মশালার উদ্বোধনী বক্তব্যে স্নেহাল ভি সোনেজি বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হচ্ছে এবং এর ফলে দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নও বেড়ে চলেছে। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের অর্থায়নে বিকল্প ইট প্রচলন করার লক্ষ্যে পরিকল্পিত এই প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা টেকসই নির্মাণ ও উন্নয়নের কথা বলছি। প্রকল্পের আওতায় অক্সফাম সহযোগী সংস্থা এইচবিআরআই, বেলা এবং জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের সঙ্গে সমন্বিত প্রচেষ্টায় বিকল্প ইটের সুফল সারা দেশের ভোক্তা ও সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরবে। ’

মারিও রনকোনি বলেন, ‘টেকসই নির্মাণ এখন একটি বৈশ্বিক বিষয়। আমাদের পরিকল্পনা হচ্ছে প্রচলিত ইট উৎপাদন ও নির্মাণ ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন নিয়ে আসতে বাংলাদেশ সরকারকে সহযোগিতা করা। পাশাপাশি এ-সংক্রান্ত নীতিমালায় পরিবর্তন এনে তা বাস্তবায়ন করার জন্য আমরা এ প্রকল্পের বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোকে উৎসাহিত করছি। ’ এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা প্রকল্পটির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।


মন্তব্য