kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৭ জানুয়ারি ২০১৭ । ৪ মাঘ ১৪২৩। ১৮ রবিউস সানি ১৪৩৮।


ব্যাংক ব্যবস্থাপনায় রাজনৈতিক আধিপত্য সংকট তৈরি করছে

ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদারের তাগিদ

বাণিজ্য ডেস্ক   

৩ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০



ব্যাংক ব্যবস্থাপনায় রাজনৈতিক আধিপত্য, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অদক্ষ নজরদারি, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় শিথিলতা এবং উপর্যুপরি কেলেঙ্কারি ব্যাংক ব্যবস্থাপনায় সংকট তৈরি করছে। এ ছাড়া উচ্চ সুদ হার, অধিক তারল্য, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ হ্রাস দেশের মোট বিনিয়োগের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। এ অবস্থায় দেশের ব্যাংক খাতে আর্থিক কেলেঙ্কারি প্রতিরোধ ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদার করার তাগিদ দিয়েছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘উন্নয়ন অন্বেষণ’। প্রতিষ্ঠানটির মার্চ মাসের অর্থনৈতিক পর্যালোচনায় এসব তথ্য উঠে এসেছে।

সাম্প্রতিককালের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ চুরিসহ বেসিক ব্যাংক দুর্নীতি, হলমার্ক কেলেঙ্কারি, শেয়ারবাজার ধস, অতি মুনাফার লোভ দেখিয়ে মাল্টিলেভেল মার্কেটিং ব্যবসার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ প্রভৃতি আর্থিক খাতকে বিপর্যস্ত করে তুলছে বলে উল্লেখ করেছে উন্নয়ন অন্বেষণ। আর্থিক নীতির অকার্যকারিতা ও যথাযথ তদারকির অভাব কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রাতিষ্ঠানিক ভঙ্গুরতা প্রকট করে তুলছে বলেও দাবি করেছে গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি। এ জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম ও তত্ত্বাবধান ব্যবস্থা শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছে উন্নয়ন অন্বেষণ।

গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি বলছে, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহে প্রতিবার যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়, তা অর্জিত হয় না; যা মুদ্রা নীতির অকার্যকারিতাকেই সামনে নিয়ে আসে। জুলাই-ডিসেম্বর ২০১৫-এর মুদ্রানীতিতে বেরসকারি খাতে ঋণ প্রবাহের প্রবৃদ্ধি ১৫ শতাংশ ধরা হয়েছিল যার বিপরীতে ১৪.১৯ শতাংশ অর্জিত হয়েছে। অন্যদিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৭.৩ ধরা হলেও ২০১৪-১৫ পর্যন্ত ৬.৫ শতাংশ অর্জিত হয়। ‘উন্নয়ন অন্বেষণ’ মনে করে বর্তমানে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির যে স্থবিরতা তা বেসরকারি বিনিয়োগকে প্রভাবিত করবে, যা জিডিপির প্রবৃদ্ধিকে সঙ্কুচিত করতে পারে। অভ্যন্তরীণ খাতে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাসে নগদ ঋণের প্রবৃদ্ধির হার হ্রাস পেয়ে ৯.৯৩ শতাংশ হয়, যা গত বছর একই সময়ে ১১.১৮ শতাংশ ছিল। বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধির হার ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে ১৪.১৯ শতাংশে উপনীত হয়, যা গত বছর ১২.৭২ শতাংশ ছিল। ২০১৫ সালের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ের মুদ্রানীতিতে ১৫ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছিল, যা তার আগের মুদ্রানীতির লক্ষ্যমাত্রার (১৫.৫ শতাংশ) চেয়ে ০.৫ শতাংশ পয়েন্ট কম। জুন-জানুয়ারি ২০১৬-এর মুদ্রানীতিতে লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে ১৪.৮ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি বলছে, সুদের হার কমতে শুরু করলেও ব্যবধান এই বছরও বেশি রয়েছে; ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাসে ৫.০৬ শতাংশ ছিল, যা ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসে ৪.৮৪ শতাংশ হয়, একই সময়ে অর্থাৎ ২০১৬-এর জানুয়ারি মাসে ঋণের সুদের হার ছিল ১২.৩২ শতাংশ, যা জানুয়ারি ২০১৬ তে কমে ১১.০৫ শতাংশ হয়।

ব্যাংকিং খাতে বৃহৎ আর্থিক কেলেঙ্কারি ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার দিকে ইঙ্গিত করে ‘উন্নয়ন অন্বেষণ’ দেখিয়েছে, ২০১৪ সালের মার্চ মাসে নন পারফরমিং (খেলাপি ঋণ) ২০১৩ সালের ডিসেম্বর মাসের ৮.৯ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১০.৫ শতাংশে উপনীত হয়েছে, যা ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে ১০.১১ শতাংশ ছিল।

অন্যদিকে শ্রেণিবিন্যাসকৃত ঋণ ও অবলোপনকৃত ঋণ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ঋণ আদায়ে ব্যাংকগুলোর নিম্ন দক্ষতাকে নির্দেশ করে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে শ্রেণিবিন্যাসকৃত ঋণের পরিমাণ ৫৪৭.১ বিলিয়নে দাঁড়ায়, যা ২০১৪-১৫ অর্থবছরের এপ্রিল-জুন ২০১৫ সময়ের ৫২৫.২ বিলিয়নের চেয়ে ৪.১৯ শতাংশ বেশি। আবার জুন ২০১৫ তে মোট অবলোপনের পরিমাণ ছিল ৩৭৬.৫ বিলিয়ন টাকা, যা পূর্ববর্তী বছরের একই সময়ের ৩২১.১ বিলিয়ন টাকার চেয়ে ১৭.১৩ শতাংশ বেশি। সম্পদের আয় হার, যা ব্যবস্থাপনার দক্ষতাকে নির্দেশ করে, ২০১৫ সালে ০.৪৭ শতাংশ হয়েছে, যা ২০১১, ২০১২ ও ২০১৪ সালে যথাক্রমে ১.৩ শতাংশ, ০.৬ শতাংশ ও .৮৮ শতাংশ ছিল। ইক্যুইটির আয় হার, যা দ্বারা অংশীদারদের মুনাফা পরিমাপ করা হয়, ২০১৫ সালে ৬.৬১ শতাংশে উপনীত হয়, যা ২০১৪ সালে ৮.২ শতাংশ ছিল।


মন্তব্য