kalerkantho


আঞ্চলিক বাণিজ্য বাড়াতে অবকাঠামো উন্নয়নের তাগিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০



আঞ্চলিক বাণিজ্য বাড়াতে অবকাঠামো উন্নয়নের তাগিদ

গতকাল এমসিসিআই, এশিয়া ফাউন্ডেশন এবং সার্ক চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির যৌথ উদ্যোগে সংলাপে অতিথিরা

২০০৬ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ এশিয়ায় মোট বৈদেশিক বাণিজ্য বেড়েছে ৫৯৪ বিলিয়ন ডলার। এই বর্ধিত বাণিজ্যের মাত্র ১৫ বিলিয়ন ডলার হয়েছে আঞ্চলিক বাণিজ্য। অর্থাৎ বর্ধিত বাণিজ্যের বেশির ভাগই হয়েছে বিশ্বের অন্য দেশগুলোর সঙ্গে। এ অবস্থায় আঞ্চলিক বাণিজ্য বাড়াতে রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের পরামর্শ দেন উপস্থিত বক্তারা। ভারত, বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানের মধ্যে আঞ্চলিক বাণিজ্য বাড়ানোর লক্ষ্যে আয়োজিত এক সংলাপে বক্তারা এসব কথা বলেন।

গতকাল শনিবার মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই), এশিয়া ফাউন্ডেশন এবং সার্ক চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির যৌথ উদ্যোগে দুই দিনব্যাপী এ সংলাপের আয়োজন করা হয়। এমসিসিআই ভবনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন এমসিসিআইয়ের সাবেক প্রেসিডেন্ট সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন, এনডিসি, এফবিসিসিআইয়ের সহসভাপতি মাহবুবুল আলম, এশিয়া ফাউন্ডেশনের বাংলাদেশের প্রধান হাসান মজুমদার, এমসিসিআইয়ের শিল্পবিষয়ক উপকমিটির চেয়ারম্যান তাবিথ এম আউয়াল প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন বলেন, এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্যই আঞ্চলিক বাণিজ্য বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া দরকার। এ অঞ্চলের রাজনৈতিক নেতারা বাণিজ্য বাড়াতে আগ্রহী। তবে আঞ্চলিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কিছু অশুল্ক বাধা রয়েছে।

তা দূর করার জন্য সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, এ অঞ্চলের দেশগুলোর মোট বাণিজ্যের মাত্র ২ শতাংশ হয় আঞ্চলিক বাণিজ্য। অথচ ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন অঞ্চলে আঞ্চলিক বাণিজ্য ব্যাপকভাবে বাড়ছে। তারা আঞ্চলিক বাণিজ্যের ওপর অনেক বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। অথচ দক্ষিণ এশিয়া আঞ্চলিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে রয়েছে।

অনুষ্ঠানের প্রথম সেশনে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মনোজ কুমার রায়ের সভাপতিত্বে নিবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. সেলিম রায়হান। প্যানেল আলোচক হিসেবে ছিলেন সার্ক সচিবালয়ের প্রতিনিধি সাবিত্রী লাক্সমানান, হিমাল সাউথ এশিয়ার প্রতিনিধি মানাক মানি এবং ইউএসএইড-বাংলাদেশের বাণিজ্য ত্বরান্বিতকরণ কার্যক্রম প্রজেক্টের প্রতিনিধি ড. খায়রুজ্জামান মজুমদার।

নিবন্ধ উপস্থাপনকালে ড. সেলিম রায়হান বলেন, একটি অঞ্চলে একটি দেশ একা একা উন্নত হতে পারে না। এ জন্যই আমাদের এ অঞ্চলের নেতাদের আঞ্চলিক বাণিজ্য বাড়ানোর পক্ষে কথা বলছেন। কিছুটা আঞ্চলিক বাণিজ্য বাড়ছেও। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো ভারতের আঞ্চলিক আমদানি ২০০৬ সালের তুলনায় কমেছে। পাকিস্তানের অবস্থাও একই। তা ছাড়া এ অঞ্চলের দেশগুলোর মোট বৈদেশিক বাণিজ্য বাড়লেও আঞ্চলিক বাণিজ্য খুবই কম। বাংলাদেশ তার রপ্তানির মাত্র দেড় শতাংশ করে আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে। এ অবস্থায় আঞ্চলিক বাণিজ্য বাড়াতে ভারত, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশকেই অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে। আর আঞ্চলিক বাণিজ্য বাড়াতে তিনি বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সমস্যাগুলোকে সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করে তা সমাধানের পরামর্শ দেন। এ ছাড়া বাণিজ্যের ক্ষেত্রে প্রত্যেক দেশকে তাদের অভ্যন্তরীণ সমস্যা সঠিকভাবে সমাধানের জন্য কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান ড. সেলিম রায়হান।

সাবিত্রী লাক্সমানান বলেন, এ অঞ্চলের বাণিজ্য বাড়ানোর ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সমস্যা বড় বিষয় নয়। বরং এখানে যথাযথ অবকাঠামোর বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই এ দেশগুলোর মধ্যে যাতায়াত ও পরিবহন যাতায়াতকে সহজ করতে কাজ করা হচ্ছে। তা ছাড়া নীতিগত সমতাও আনা হচ্ছে এ দেশগুলোর মধ্যে। তবে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে মূল সিদ্ধান্ত নেন উদ্যোক্তারা। সুতরাং তারা তাদের পণ্য কোন দেশ থেকে আনবেন বিষয়টি তাদের ওপরই নির্ভর করে। তারা যদি এ অঞ্চলের বাইরে অন্য কোনো দেশের সঙ্গে বাণিজ্য করতে চান সেটা তাদের বিষয়। এ সময় বক্তারা আঞ্চলিক বাণিজ্য বাড়াতে ব্যবসায়ীদের উদ্বুদ্ধ করা, দেশগুলোর পলিসির সমন্বয় এবং জাপানকে এ অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত করার পরামর্শ দেন।

দিনের অপর দুই সেশনে বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় এবং বহুপক্ষীয় চুক্তির বাস্তবায়ন এবং নানা সমস্যার বিষয়ে নিবন্ধ উপস্থাপন করেন সাবেক পররাষ্ট্রসচিব মো. তৌহিদ হোসেন এবং বিবিআইএন মোটর ভেহিকল অ্যাগ্রিমেন্টের অর্থনৈতিক এবং বাণিজ্যিক দিক নিয়ে নিবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য আমিনুল বারী চৌধুরী।


মন্তব্য