kalerkantho


উৎসে কর কমানোর প্রস্তাব বিজিএমইএর

প্রাক বাজেট

এম সায়েম টিপু   

১ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০



উৎসে কর কমানোর প্রস্তাব বিজিএমইএর

ইউরোপের বাজারসহ অন্যান্য দেশে পণ্যের ক্রমাগত মূল্য হ্রাস, ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্যমান বেড়ে যাওয়া এবং অ্যাকর্ড, অ্যালায়েন্স ও ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যানের শর্তানুযায়ী পোশাক শিল্পের নিরাপত্তা নিশ্চিকরণের জন্য তৈরি পোশাক খাতের উেস কমানো এবং নগদ সহায়তা বৃদ্ধির দাবি করেছে এই খাতের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ।

সম্পতি আসন্ন ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটে তৈরি পোশাক খাতের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে এমন বাজেট প্রস্তাবনা পাঠিয়েছে বিজিএমইএ।

সংগঠন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

প্রস্তাবনায় উল্লেখ করা হয়েছে, এবারের বাজেটে তৈরি পোশাক খাতের জন্য উেস কর কমানোর হার শূন্য দশমিক ৬০ শতাংশ থেকে নামিয়ে শূন্য দশমিক ৩০ করতে হবে। সেই সঙ্গে এ শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য আগামী তিন বছরের জন্য ইউরো জোনভুক্ত দেশে পোশাক রপ্তানিতে এফওবি মূল্যের ওপর ২ শতাংশ হারে এবং নতুন বাজারে পোশাক রপ্তানির জন্য এফওবি মূল্যের ওপর ৫ শতাংশ হারে বিশেষ নগদ সহায়তা প্রদানের প্রস্তাব করা হয়েছে।

বাজেট প্রস্তাবনায় বিজিএমইএ তাদের দাবিগুলোর পক্ষে যুক্তিও তুলে ধরেছে। উেস কর কমানোর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বলা হয়েছে, ইউরোপের বাজারসহ অন্যান্য দেশের ক্রেতারাও পণ্যের মূল্য ক্রমাগতভাবে হ্রাস করছে। এ ছাড়া ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্যমান বেড়েছে ৮.৪৩ শতাংশ। পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধিসহ অন্যান্য খরচ বৃদ্ধি ও শ্রমিকদের গত পাঁচ বছরে দুই দফায় ২১৯ ভাগ মজুরি বৃদ্ধির ফলে ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় ১২ ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব কারণে পোশাক শিল্প নিদারুণ চাপের মধ্যে রয়েছে এবং অন্যান্য প্রতিযোগী দেশের সঙ্গে আমাদের অস্তিত্ব ও সক্ষমতা টিকিয়ে রাখা কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া অ্যাকর্ড, অ্যালায়েন্স ও ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যানের শর্তানুযায়ী এ শিল্পের নিরাপত্তা নিশ্চিকরণের জন্য সংস্কারকাজে প্রচুর অর্থ বিনিয়োগ করতে হচ্ছে।

এ জন্য অন্যান্য প্রতিযোগী দেশের সঙ্গে টিকে থাকতে হলে উেস কর হ্রাস করা দরকার। আর এফওবি মূল্যের ওপর নগদ সহায়তার ব্যাখ্যায় বিজিএমইএর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশ হতে তৈরি পোশাকের ৬০ ভাগ পণ্য রপ্তানি হয়ে থাকে। ইউরোপসহ অন্যান্য দেশে পোশাকের আমদানি মূল্য ক্রমাগতভাবে হ্রাস পাচ্ছে। বিগত পাঁচ বছরে ডলারের বিপরীতে ইউরোর মান কমেছে ২১.৩৫ ভাগ। ইউরোর এই অস্বাভাবিক দরপতনের কারণে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা দারুণভাবে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। এ ছাড়া ইউরোর বিপরীতে গত এক বছরে টাকার মান ৩.২৭ ভাগ বৃদ্ধি পাওয়ায় রপ্তানিকারকরা আরো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, ফলে রপ্তানিতে প্রতিযোগী সক্ষমতা কমে যাচ্ছে। নতুন বাজারগুলোতে প্রতিবছর পোশাকের চাহিদা বৃদ্ধি করা এবং রপ্তানির স্বাভাবিক গতিধারা ধরে রাখার জন্য এই প্রণোদনা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত।

বিজিএমইএ সহসভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেন, পোশাক খাতের চলমান অবস্থা বিশ্লেষণ করে তৈরি পোশাক খাতের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া তুলে ধরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে একটি বাজেট প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আমরা আশা করব বাজেটে আমাদের চাওয়াগুলোর যথাযথ প্রতিফলন ঘটবে। বিজিএমইএর বাজেট প্রস্তাবনায় আরো বলা হয়েছে, জাতীয় অর্থনীতি ও রপ্তানির বৃহত্তর স্বার্থে তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য ১০ শতাংশ হ্রাসকৃত হারে করারোপের মেয়াদ আগামী পাঁচ বছর বৃদ্ধি করে প্রয়োজনীয় প্রজ্ঞাপন জারি করা দরকার। এ ছাড়া উেস করের অতিরিক্ত নিট মুনাফার ক্ষেত্রেও ১০ শতাংশ হারে কর নিষ্পত্তি করা দরকার। রূপকল্প ২০২১-এর মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।  

রপ্তানিকে আরো প্রতিযোগী করে তোলার জন্য স্থানীয় বাজার থেকে সংগৃহীত সব পণ্য ও সেবা এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাধারণ আদেশ অনুযায়ী সেবাগুলোকেও রপ্তানির ক্ষেত্রে ভ্যাটমুক্ত রাখা আবশ্যক।   পোশাক শিল্পকে আমদানি ও রপ্তানি পর্যায়ে মূসকমুক্ত রাখা হয়েছে। স্থানীয় বাজার থেকে সংগৃহীত সব পণ্য ও সেবাকে ১০০ শতাংশ মূসকমুক্ত রাখা ও মূসক-১৯ দাখিল করা হতে অব্যাহতি প্রদান করা যুক্তিযুক্ত বলে মনে করছে বিজিএমইএ। রপ্তানির বৃহত্তর স্বার্থে যন্ত্রপাতির বিভিন্ন অংশ ভিন্ন ভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা হলে একই এইচএস কোডের আওতায় রেয়াতি হারে শুল্কায়নের সুবিধা প্রদান করার কথা বলা হয়েছে। এলইডি লাইটের জন্যও রেয়াতি হারে শুল্কায়নের সুবিধা চাওয়া হয়েছে।

রপ্তানির বৃহত্তর স্বার্থে ও তৈরি পোশাক শিল্প খাতকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগী অবস্থা ধরে রাখার জন্য আমদানিকৃত অগ্নি-নিরাপত্তাসংক্রান্ত সব যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ সম্পূর্ণ শুল্কমুক্তভাবে আমদানির সুবিধা দাবি করা হয়েছে। সেই সঙ্গে রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্পের অডিট কার্যক্রমের জন্য দলিলাদি দাখিলের সময়সীমা তিন মাসের পরিবর্তে ছয় মাস বিধান রাখার দাবি করেছেন গার্মেন্ট মালিকরা।


মন্তব্য