kalerkantho


মংলায় আটকে থাকা গাড়ি পুলিশকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত

আপত্তি জানিয়েছে বারভিডা

গৌরাঙ্গ নন্দী, খুলনা   

১ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০



মংলা বন্দরে কয়েক বছর ধরে খালাসের অপেক্ষায় থাকা আমদানি করা প্রায় দুই হাজার রিকন্ডিশন্ড গাড়ি পুলিশ বাহিনীর কাছে সরাসরি নিলামে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি মংলা কাস্টম হাউসে পৌঁছেছে। এর ভিত্তিতে কাস্টম কর্তৃপক্ষ মূল্য নির্ধারণ করে গাড়িগুলো পুলিশ বাহিনীকে দেওয়ার জন্য নিলাম প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিকলস ইম্পোর্টাস অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বারভিডা)। তাদের দাবি, প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের চিঠি অপব্যাখা করে শুল্ক কর্মকর্তারা আমদানিকারকদের হয়রানি করছেন।

জানা যায়, ২০০৯ সালের আগে ব্যবসায়ীরা শুধু চট্টগ্রাম বন্দর দিয়েই গাড়ি আমদানি করতেন। মংলা বন্দরকে সচল করতে আমদানিকারকদের কিছু বাড়তি সুবিধা দেওয়ায় মংলা বন্দর দিয়ে গাড়ি আমদানি শুরু হয়। ২০০৯ সালেই ৩২ হাজার ২২৫টি গাড়ি আমদানি হয়, তাতে রাজস্ব আয় হয় তিন হাজার ৭৬ কোটি টাকা। কিন্তু ২০১২-১৩ অর্থবছর থেকে আমদানি করা গাড়ি খালাস করার পরিমাণ কমে যায়। ফলে বন্দরে গাড়ির মজুদ বাড়তে থাকে।

গাড়ির নিলাম নিয়ে মংলা কাস্টম হাউসের কমিশনার ড. মোহম্মদ আল-আমিন প্রামানিক জানান, প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে চিঠি দিয়ে তাঁদের জানানো হয়েছে নিলামযোগ্য গাড়ির মূল্য নির্ধারণ করে তা সরাসরি পুলিশ বাহিনীর কাছে নিলাম মূল্যে দিতে হবে। তাঁরা সেই কারণে চলতি মাসে প্রায় দুই হাজার গাড়ির মূল্য নির্ধারণ করে নিলাম তালিকাভুক্ত করেছেন। তারপরই গাড়ি আমদানিকারকরা দ্রুত গাড়ি খালাস করে নিচ্ছেন, আবার নিলামের বিরোধিতাও করছেন।

নিলাম প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করে বারভিডার প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ শরীফ গত ২৩ মার্চ খুলনা প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে তিনি আমদানিকৃত রিকন্ডিশন্ড গাড়ির শুল্কায়ন জটিলতা নিরসন এবং মংলা কাস্টমস কর্তৃক আমদানিকারকদের হয়রানি ও নিলামে গাড়ি বিক্রির অপচেষ্টা বন্ধের দাবি জানান।

আবদুল হামিদ শরীফ আরো বলেন, মংলা বন্দরের মাধ্যমে গাড়ি আমদানি সূচনার সময় সার্বিক সহযোগিতা পেলেও সাম্প্রতিককালে মংলা শুল্ক কর্তৃপক্ষ আমদানিকৃত গাড়ির শুল্কায়ন ও এইচএস কোড বিন্যাসসহ প্রাসঙ্গিক বিষয়ে নানা জটিলতা সৃষ্টি করছে। তাঁর মতে, মংলা কাস্টম হাউসের বর্তমান আচরণ ব্যবসাবান্ধব নয়। নিলামে গাড়ি বিক্রিতে তাদের আগ্রহ বেশি, কারণ তাতে শুল্ক কর্মকর্তারা গোপনে লেনদেন করে ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হন। আবার বিধি লঙ্ঘন করে সব গাড়িই নিলামের তালিকাভুক্ত করে রাখেন। কারণ নিলাম তালিকা থেকে নাম কাটাতে গেলে শুল্ক কর্মকর্তাদের দুই লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে হয়।

বারভিডা প্রেসিডেন্ট অভিযোগ করেন, শুল্কায়ন জটিলতার কারণে গাড়ি খালাস কম হচ্ছে। আর এই কারণে গাড়িগুলো নিলামে পুলিশ বাহিনীকে দেওয়া হলে সরকার যেমন রাজস্ব হারাবে, তেমনি বারভিডা সেক্টরটি ধ্বংস হয়ে যাবে। অনেক ব্যবসায়ী দেউলিয়া হয়ে পড়বেন। আর বর্ধিত হারে অবচয়ন দেওয়া হলে ব্যাংকের দায় পরিশোধের পথ সুগম হবে।


মন্তব্য