kalerkantho


নৌপরিবহনমন্ত্রীর ঘোষণা

আধুনিকায়ন শুরু হচ্ছে বাল্লা স্থলবন্দর

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি   

৩১ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



৬৫ বছর পর আধুনিকায়ন হচ্ছে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার বাল্লা স্থলবন্দর। দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর অনিশ্চয়তার পর অবশেষে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাহজাহান খান বাল্লাকে স্থলবন্দর ঘোষণা করেন। আর স্থান হিসেবে কেদারকোর্ট নির্ধারণ করেন। গতকাল বুধবার বাল্লা স্থলবন্দর পরিদর্শনে এসে আয়োজিত সভায় তিনি এ ঘোষণা দেন।

এ নিয়ে আয়োজিত সভায় নৌপরিবহনমন্ত্রী জানিয়েছেন, এক সপ্তাহের মধ্যেই গেজেট প্রকাশ করার পর এ বন্দরের উন্নয়নকাজ শুরু হবে। সুতাং ও খোয়াই নদী খননের ব্যবস্থা করা হবে। বাল্লা রেললাইনের বাইপাস সড়ক নির্মাণ করা হবে এবং দ্রুত চুনারুঘাটে ইকোনমিক জোনের কাজ শুরু হবে। সভায় উপস্থিত ছিলেন হবিগঞ্জ-৩ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট মো. আবু জাহির, হবিগঞ্জ-৪ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট আবদুল মজিদ খান এমপি, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব অশোক মাধব রায়, বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান তপন কুমার চক্রবর্তী, হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক সাবিনা আলম।

অর্থনৈতিকভাবে সম্ভাবনাময় হওয়ার পরও আধুনিকায়নের উদ্যোগ ছিল না হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় অবস্থিত বাল্লা স্থলবন্দরের কাজ। দফায় দফায় আশ্বাস আর পরিদর্শনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল এই বন্দরের আধুনিকায়নের কাজ। অবকাঠামোগত উন্নয়ন না হওয়ায় আমদানি-রপ্তানির কাজে শ্রমিকরা মাথায় বোঝা নিয়ে হেঁটে নদী পার হতো। বর্ষায় যা আরো কষ্টসাধ্য হয়ে উঠত। ফলে আমদানি-রপ্তানির খরচও বেড়ে যেত। এতে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এই বন্দরের আধুনিকায়নের দাবি জানিয়ে আসছিলেন দীর্ঘদিন ধরে।

হবিগঞ্জ সীমান্তের বাল্লা স্থলবন্দরটি ১৯৫১ সালে ৪.৩৭ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়। এ স্থান দিয়ে বর্তমানে বাংলাদেশ-ভারত ব্যবসা-বাণিজ্য চলছে। এখানে রয়েছে চেকপোস্টসহ সীমান্ত ঘাঁটি।

জানা যায়, গত ফেব্রুয়ারি মাসে ত্রিপুরায় অনুষ্ঠিত সীমান্ত সম্মেলনে বাল্লা স্থলবন্দর প্রতিষ্ঠায় ঐকমত্য পোষণ করে দুই দেশ। এর কিছুদিন পরই স্থান নির্ধারণের জন্য বাংলাদেশ-ভারতের যৌথ পরিদর্শন হয় এবং বর্তমান স্থানে স্থলবন্দর আধুনিকায়নের সিদ্ধান্ত হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভারত খোয়াই নদীতে ব্রিজ করবে এবং তাদের অংশের রাস্তাঘাটের উন্নয়ন করবে এবং বাংলাদেশ নিজেদের অংশের অবকাঠামো উন্নয়ন করবে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা সম্ভাবনাময় এ স্থলবন্দরটি ১৯৯১ সালে পুনরায় চালু হয়। এরপর বন্দর দিয়ে সিমেন্ট, ইট-পাথর, মাছসহ নানা পণ্য রপ্তানি হচ্ছে। বিনিময়ে ভারত থেকে বিভিন্ন কাঁচামাল, ফলমুল, বাঁশ, চকোলেট, ক্যান্ডি ইত্যাদি পণ্য আমদানি হচ্ছে। এ ছাড়া এ বন্দর দিয়ে লোকজনও বৈধভাবে পারাপার হচ্ছে।


মন্তব্য