kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৭ জানুয়ারি ২০১৭ । ৪ মাঘ ১৪২৩। ১৮ রবিউস সানি ১৪৩৮।


অতিদরিদ্র চিহ্নিত করতে তথ্য সংগ্রহ জুলাই থেকে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩১ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



অতিদরিদ্র চিহ্নিত করতে তথ্য সংগ্রহ জুলাই থেকে

সামাজিক সুরক্ষা কৌশলপত্রের আওতায় সারা দেশে যেসব কর্মসূচি (শতাধিক) রয়েছে, সেগুলোতে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সরকারের মন্ত্রীরাও অকপটে স্বীকার করেন, সামাজিক সুরক্ষা কৌশলপত্রে অনিয়ম ও দুর্নীতির কথা। অতি দরিদ্ররা কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কথা থাকলেও সেখানে অপেক্ষাকৃত ধনীরা ঢুকে পড়ছে। এমন নজির আছে অহরহ। এমন পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ পেতে সরকার সত্যিকারেই দেশে অতি দরিদ্র কারা, তাদের তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।   সে জন্য দেশের সাড়ে তিন কোটি খানার আর্থসামাজিক অবস্থা জানতে আগামী জুলাই থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে যাবে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)।

ন্যাশনাল হাউসহোল্ড ডাটাবেইস (এনএইচডি) প্রকল্পের আওতায় এ তথ্য সংগ্রহ করবে বিবিএস। এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩২৮ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে বিশ্বব্যাংক কারিগরি সহায়তা হিসেবে ৩১২ কোটি টাকা দেবে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে যাওয়ার আগে বিবিএস পাইলট আকারে দুই জেলা থেকে অতি দরিদ্র ও ধনীদের তথ্য সংগ্রহ করেছে। একটি জেলা হলো জামালপুর অন্যটি কুড়িগ্রাম।

গতকাল বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিসংখ্যান ভবন মিলনায়তনে ন্যাশনাল হাউসহোল্ড ডাটাবেইসের ওপর এক কর্মশালায় এ তথ্য জানানো হয়। কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব কানিজ ফাতেমা, বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব এম এ মান্নান হাওলাদার ও বিবিএসের উপমহাপরিচালক বাইতুল আমিন ভুঁইয়া। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিবিএসের মহাপরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াজেদ।

কর্মশালায় জানানো হয়, দেশের সব পরিবারের আর্থসামাজিক সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হবে, যা পরবর্তী সময় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির উপকারভোগী নির্বাচনে ব্যবহার করা হবে। তিন ধাপে এসব তথ্য সংগ্রহ করা হবে। প্রথম ধাপে আসছে জুলাইতে বরিশাল, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগের প্রতিটি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এ বিভাগে মোট খানা আছে ৮৫ লাখ ১৪ হাজার। এ বিভাগ থেকে তথ্য নেওয়া শুরু হবে জুলাই থেকে। দ্বিতীয় ধাপে রাজশাহী ও খুলনা বিভাগ থেকে তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু হবে নভেম্বর থেকে। এ বিভাগে মোট খানা আছে ৯১ লাখ। আর তৃতীয় ধাপে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের প্রতিটি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হবে আগামী বছর মার্চে। এ বিভাগে মোট খানা আছে এক কোটি ৭৮ লাখ। জামালপুর ও কুড়িগ্রামে যে পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে অর্থাৎ প্রক্সি মিন টেস্ট ফর্মুলা (পিএমটিএফ), এ পদ্ধতিতে সারা দেশ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হবে। জামালপুর ও কুড়িগ্রামে পাইলট প্রকল্পে বিবিএসকে সহযোগিতা করেছে বেসরকারি সংস্থা নেলসেন বাংলাদেশ।

অনুষ্ঠানে পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব কানিজ ফাতেমা বলেন, দেশের সকল জনগোষ্ঠীর জন্য এ ডাটাবেইস প্রস্তুত সম্পন্ন হলে বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির উপকারভোগী নির্বাচনে তা ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের দারিদ্র্য দূরীকরণে তাত্পর্যপূর্ণ ভূমিকা পালনে সক্ষম হবে।


মন্তব্য