kalerkantho


কর্মক্ষেত্রে এক বছরে ৩৬৩ শ্রমিকের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩১ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



কর্মক্ষেত্রে এক বছরে ৩৬৩ শ্রমিকের মৃত্যু

দেশের বিভিন্ন খাতে কাজ করতে গিয়ে গত বছর (২০১৫ সালে) ৩৬৩ শ্রমিক মারা গেছে বলে এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে গবেষণা ও শ্রমিক স্বার্থ নিয়ে কাজ করছে এমন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস)।

গতকাল বুধবার রাজধানীর ধানমণ্ডিতে বিলসের নিজস্ব কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সচেতনতা ও কর্মস্থলের নিরাপত্তাহীনতার কারণে ২০১৫ সালে কাজ করতে গিয়ে সারা দেশে বিভিন্ন খাতে কর্মরত অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে ৩৬৩ জন শ্রমিকের। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি শ্রমিক মারা গেছে পরিবহন খাতে ১২৫ জন। এ ছাড়া কর্মস্থলে গত বছর আহত হয়েছে ৩৮২ জন।

বিলসের গবেষণা প্রতিবেদনে আরো জানা যায়, মারা যাওয়া শ্রমিকের মধ্যে পুরুষ শ্রমিক রয়েছে ৩২৬ এবং নারী ৩৭ জন। আগের কয়েক বছরে দেখা গেছে, কর্মস্থলে সবচেয়ে বেশি শ্রমিক নিহত হয় প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক শিল্পে। ২০১২ সালে তাজরীন অগ্নিকাণ্ডে ১১২ জন এবং ২০১৩ সালে রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় এক হাজার ১৩৬ গার্মেন্ট শ্রমিক নিহত হলেও পরের বছর অর্থাৎ ২০১৪ সালে গার্মেন্ট খাতে তেমন বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। এ কারণে এ খাতে কর্মস্থলে শ্রমিক নিহতের সংখ্যা কমে আসে। তবে গত বছর তৈরি পোশাক খাতে বিভিন্ন কারণে কর্মস্থলে মৃত্যু ঘটেছে ২১ জন শ্রমিকের।

এর মধ্যে পুরুষ শ্রমিক রয়েছেন ১৫ জন এবং নারী ছয়জন। এ ছাড়া গত বছর গার্মেন্ট খাতে আহত হয় ১১০ জন শ্রমিক।

মতবিনিময় সভায় বিলসের সহকারী নির্বাহী পরিচালক সুলতান উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘কর্মস্থলে শ্রমিক মৃত্যুর প্রধান কারণ নিরাপত্তাহীনতা। কেননা অনেক খাত রয়েছে যেখানে শ্রমিকদের কাজের উপযোগী যথাযথ পরিবেশ নেই। তা ছাড়া অনেক ক্ষেত্রে শ্রমিকদের জোর করে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করতে বাধ্য করা হয়। এসব কারণে দিনকে দিন কর্মস্থলে শ্রমিক মৃত্যুর হার বাড়ছে। আমরা শ্রমিকদের নিরাপদ কর্মস্থল চাই। ’

তিনি আরো বলেন, ‘সবচেয়ে পরিতাপের বিষয় হলো কর্মস্থলে দুর্ঘটনায় শ্রমিক মারা গেলেও তার পরিবার যথাযথ ক্ষতিপূরণ পায় না। ’

বিলসের প্রতিবেদনে দেখা যায়, পরিবহন ও গার্মেন্ট খাত ছাড়াও নির্মাণ খাতে কর্মরত শ্রমিক মৃত্যুর সংখ্যা অনেক। গত বছর নির্মাণ খাতে কর্মরত শ্রমিক নিহত হয়েছে ৬১ জন। এর মধ্যে সকলেই পুরুষ শ্রমিক। এ ছাড়া নির্মাণ খাতে আহত শ্রমিকের সংখ্যা ১১৯ জন। অন্যান্য কারখানায় মৃত্যুর সংখ্যা ৩৭ জন, দৈনিক ভিত্তিতে কাজ করা শ্রমিক মৃত্যুর সংখ্যা ২৮ জন, কর্মস্থলে কৃষক মারা গেছে ৯ জন, ইলেকট্রিসিটিতে ৯ জন, ইটভাটায় সাতজন, বিদেশি শ্রমিক পাঁচজন, পাহাড় কাটা শ্রমিক তিনজন, রাইস মিল শ্রমিক দুজন, রেলওয়ে শ্রমিক একজন। এ ছাড়া খাত সুনির্দিষ্ট নয় এমন কাজে নিয়োজিত শ্রমিক মারা গেছে আটজন এবং অন্যান্য খাতে কর্মরত শ্রমিক মারা গেছে ৪৭ জন।

সরকার কর্মস্থলে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ‘জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেফটি নীতিমালা-২০১৩ প্রণয়ন করেছে। এতে বলা হয়েছে কর্মস্থলে নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিকভাবে ঘোষিত বিভিন্ন কনভেনশন/ঘোষণা/রিকমেন্ডেশন/দলিলের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। নিরাপদ কর্মস্থল ও পেশাগত স্বাস্থ্য সুরক্ষার লক্ষ্যে এরই মধ্যে জাতীয়ভাবে প্রণীত বিভিন্ন আইন ও বিধি-বিধান কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য আন্তরিক প্রচেষ্টা গ্রহণ করতে হবে।


মন্তব্য