kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৯ জানুয়ারি ২০১৭ । ৬ মাঘ ১৪২৩। ২০ রবিউস সানি ১৪৩৮।


১ এপ্রিল থেকে হাজারীবাগে চামড়া ঢুকবে না

সিদ্ধান্তে অটল সরকার

ফারজানা লাবনী   

৩০ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



সিদ্ধান্তে অটল সরকার

রাজধানীর হাজারীবাগের একটি ট্যানারিতেও ১ এপ্রিল থেকে কোনো পশুর চামড়া ঢুকতে দেওয়া হবে না। কেউ চামড়া বিক্রি করতে গেলে তাকে আটক করা হবে। ট্যানারি স্থানান্তরে শিল্প মন্ত্রণালয়ের পরবর্তী পদক্ষেপ কী তা জানতে চাইলে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এ কথা জানান। গত সোমবার তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি পুলিশ কমিশনারকে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করেছি। ’

এদিকে শিল্প মন্ত্রণালয়ে বৈঠক শেষে কালের কণ্ঠকে চামড়া ব্যবসায়ীরা জানান, হাজারীবাগে চামড়া ঢুকতে দেওয়া না হলে দেশের কোনো জায়গা থেকে একটি পশুর চামড়াও কেনা হবে না।  

হাজারীবাগের ট্যানারি স্থানান্তর নিয়ে আবারও মুখোমুখি সরকার ও চামড়া ব্যবসায়ীরা। হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি সরাতে কয়েক দফা সময় বেঁধে দেওয়ার পর একটি ট্যানারিও হাজারীবাগ থেকে সাভার চামড়া শিল্পনগরীতে স্থানান্তর করা হয়নি। শিল্পনগরীতে ২০৫টি প্লটে ১৫৪টি ট্যানারি প্লট পেয়েছে। বেশির ভাগ ট্যানারির মালিক এখনো কারখানা নির্মাণের কাজ শেষ করতে পারেননি। একটি মাত্র কারখানা বিদ্যুতের সংযোগ নিয়েছে, ৮৫টি ট্যানারি বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য ডিমান্ড নোট পেয়েছে। তিনটি ট্যানারি এর বিপরীতে সরকারি কোষাগারে অর্থ জমা দিয়েছে। সিইটিপি চালু হয়নি এমন কারণ দেখিয়ে ট্যানারি মালিকরা হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি সরাতে বিভিন্ন ধাপে সময় বাড়িয়েছেন। সম্প্রতি সিইটিপি পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছে। তাই এবার আরো কঠোর অবস্থান নিয়েছে শিল্প মন্ত্রণালয়।

এ বিষয়ে শিল্পমন্ত্রী বলেন, এত দিন সিইটিপি চালু হয়নি বলে কারণ দেখিয়ে ট্যানারি মালিকরা হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি সরাননি। কিন্তু এখন আর তা বলতে পারবেন না। সাভার চামড়া শিল্পনগরীতে পরীক্ষামূলকভাবে কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি) চালু করা হয়েছে। ট্যানারিগুলো চামড়া শিল্পনগরীতে স্থানান্তর করা হলে কোনো সমস্যা হবে না। অন্যদিকে ক্ষতিপূরণের অর্থও নীতিমালা অনুযায়ী দেওয়া হচ্ছে। তাই কোনো অজুহাত শোনা হবে না। অবশ্যই হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি সরাতে হবে। এ বিষয়ে সরকার কঠোর অবস্থানে আছে।

এত কঠোরতার মধ্যেও ট্যানারি মালিকরা আগের অবস্থানে আছেন। তাঁরা জানিয়েছেন, জুনের আগে কোনো ট্যানারি হাজারীবাগ থেকে সরানো সম্ভব নয়। এখনো ক্ষতিপূরণের অর্থ পাওয়া যায়নি। সাভার চামড়া শিল্পনগরীতে ট্যানারির কাজ পুরোপুরি শেষ করে তবেই হাজারীবাগ থেকে স্থানান্তর করতে হবে। তাঁরা বলেন, যন্ত্রপাতি নিয়ে তো আর খোলা আকাশের নিচে ফেলে রাখা যাবে না।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ট্যানারস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহিন আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কোনোভাবেই হাজারীবাগ থেকে দুই-এক দিনের মধ্যে ট্যানারি সরানো সম্ভব নয়। জুন মাস পর্যন্ত সময় লাগবে। হাজারীবাগে চামড়া ঢুকতে দেওয়া না হলে তা হবে চামড়া ব্যবসায়ীদের ওপর অবিচার। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি সরকার এ অবস্থান থেকে সরে না এলে আমরা দেশের কোনো জায়গা থেকে কাঁচা চামড়া কিনব না। আমরা আজকে (গতকাল) শিল্প মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। কিন্তু এ বিষয়ে কোনো আপস হয়নি। শিল্প মন্ত্রণালয় আগের অবস্থানে কঠোর আছে। তাই আমরাও আমাদের অবস্থানে অনঢ় রয়েছি, দেখি কী হয়। ’ তাঁর মতে, সরকারের একগুঁয়েমি আচরণে চামড়া ব্যবসায়ীরা পথে বসতে চলেছেন। সম্ভাবনাময় চামড়া খাতে অস্থিরতা তৈরি হবে।

শিল্প মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, নদী দূষণের অন্যতম কারণ শিল্পবর্জ্য। এর পরিমাণ প্রায় শতকরা ৬০ ভাগ। এর মধ্যে ট্যানারির বর্জ্যই শতকরা ৪০ ভাগ। পরিবেশ দূষণ রোধে হাজারীবাগের ট্যানারি সাভার চামড়া শিল্পনগরীতে স্থানান্তরে পদক্ষেপ নেওয়া হয়। শিল্পনগরীর ট্যানারিতে তৈরি বর্জ্য শোধনে শিল্প মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে সিইটিপি নির্মাণ করা হয়েছে। এসব কারখানা থেকে ৫০ হাজার টন কঠিন বর্জ্য উত্পাদন হবে। ১৬ একর জায়গায় সিইটিপি নির্মাণ করা হচ্ছে। হাইকোর্ট ২০০১ সালে এক রায়ে ট্যানারি শিল্প হাজারীবাগ থেকে সরিয়ে নিতে নির্দেশ দেন।


মন্তব্য