kalerkantho


আট মাসে লক্ষ্যমাত্রার ৭০ শতাংশ কৃষিঋণ বিতরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৯ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



আট মাসে লক্ষ্যমাত্রার ৭০ শতাংশ কৃষিঋণ বিতরণ

চলতি ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে কৃষিতে লক্ষ্যমাত্রার ৬৯.৩৭ শতাংশ ঋণ বিতরণ করেছে কার্যরত ব্যাংকগুলো।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষিঋণ বিতরণ সম্পর্কিত প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, আলোচ্য সময়ে মোট ১১ হাজার ৩৭৪ কোটি ৪২ লাখ টাকা কৃষিঋণ বিতরণ করা হয়েছে। পুরো অর্থবছরের জন্য এ খাতে ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ১৬ হাজার ৪০০ কোটি টাকা।

প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো পাঁচ হাজার ৮০৯ কোটি ৪৮ লাখ টাকা কৃষিঋণ বিতরণ করেছে, যা এ খাতের ব্যাংকগুলোর জন্য নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ৬২.৫৪ শতাংশ। এর মধ্যে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক সর্বোচ্চ তিন হাজার ৭০ কোটি ২৬ লাখ টাকা, সোনালী ব্যাংক ৮৩২ কোটি ৮৫ লাখ টাকা ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক ৭০৬ কোটি তিন লাখ টাকা কৃষিঋণ বিতরণ করেছে। বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক মাত্র এক কোটি ৩৬ লাখ টাকা কৃষিঋণ বিতরণ করেছে, যা লক্ষ্যমাত্রার ২.৭২ শতাংশ।

অন্যদিকে বেসরকারি ও বিদেশি ব্যাংকগুলো পাঁচ হাজার ৫৬৬ কোটি ৪৮ লাখ টাকা কৃষিঋণ বিতরণ করেছে, যা এ খাতের ব্যাংকগুলোর জন্য নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ৭৮.২৯ শতাংশ। এর মধ্যে ইসলামী ব্যাংক সর্বোচ্চ ৭৬৭ কোটি ৪৭ লাখ টাকা ঋণ বিতরণ করেছে। তবে ব্যাংক আল ফালাহ, কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলন ও ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান কৃষিতে কোনো ঋণ বিতরণ করতে পারেনি।

প্রতিবেদন বিশ্লেষণে আরো দেখা গেছে, এক বছরের ব্যবধানে কৃষি খাতে ঋণ বিতরণ বেড়েছে প্রায় ১৪.৭৫ শতাংশ। গত ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে এ খাতে ৯ হাজার ৯১৪ কোটি ১০ লাখ টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছিল।

অর্থবছরের বাকি তিন মাসে কৃষিঋণের বাকি লক্ষ্যমাত্রা ভালোভাবেই পূরণ হবে বলে আশা করছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা। এ বিষয়ে কৃষিঋণ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র শুভঙ্কর সাহা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গত তিন বছর ধরেই কিন্তু লক্ষ্যমাত্রার বেশি কৃষিঋণ বিতরণ হয়ে আসছে। এবারও হবে বলে আমরা আশা করছি। ’

দেশের সামগ্রিক বিনিয়োগে মন্দাভাবের মধ্যেও কৃষিঋণের কাঙ্ক্ষিত বিতরণ কিভাবে সম্ভব হচ্ছে এ প্রশ্নের জবাবে শুভঙ্কর সাহা বলেন, ‘এর বেশ কতগুলো কারণ আছে। প্রথমত, আমরা কৃষিঋণ বিতরণে ব্যাংকগুলোকে একটি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দিই। কোনো ব্যাংক যদি এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে না পারে তাহলে ওই ব্যাংক যত টাকা কম বিতরণ করেছে তত টাকা কেটে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি সুদবিহীন অ্যাকাউন্টে রেখে দেওয়া হয়। এই কারণে ব্যাংকগুলোর মধ্যে একটি তাগিদ থাকে লক্ষ্যমাত্রা পূরণের। দ্বিতীয়ত, কৃষিঋণ বিতরণের অগ্রগতি প্রতিনিয়ত তদারকি করা হয় এবং এ খাতের আদায়ও যথেষ্ট ভালো। তা ছাড়া কৃষি খাতে ঋণ বিতরণের জন্য সামান্য পুনরর্থায়ন সুবিধাও দেওয়া হচ্ছে এবং সুদ ভর্তুকি দিয়েও কৃষিঋণ বিতরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সব মিলিয়ে এ খাতের ঋণ বিতরণে একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। ’


মন্তব্য