kalerkantho


জুনিয়র চেম্বারের গোলটেবিলে বক্তারা

শিল্প সম্ভাবনা কাজে লাগাতে তরুণদের দক্ষতা বাড়াতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

২৯ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



শিল্প সম্ভাবনা কাজে লাগাতে তরুণদের দক্ষতা বাড়াতে হবে

‘ভিশন ২০৪১ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যবসায়িক সক্ষমতা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক আলোচনায় চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলমসহ অন্য বক্তারা। ছবি : কালের কণ্ঠ

শিল্প বিপ্লবের ঢেউ আগামী ২০৪১ সালের আগেই বাংলাদেশে এসে স্থির হবে এবং আরো ৮০ বছর স্থায়ী হবে। সেই বিশাল সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে এখনই দক্ষ তরুণ উদ্যোক্তা তৈরি করতে হবে, অন্যথায় আমরা পিছিয়ে পড়ব। গতকাল সোমবার চট্টগ্রামের পাঁচতারা হোটেল র‌্যাডিসন ব্লু চিটাগং বে ভিউতে আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে এই আলোচনা উঠে আসে। ‘ভিশন ২০৪১ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যবসায়িক সক্ষমতা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক বৈঠকটির আয়োজন করে জুনিয়র চেম্বার ইন্টারন্যাশনাল (জেসিআই) চিটাগাং কসমোপলিটন ও বণিক বার্তা। সভায় চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, মজুরি বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন কারণে চীন ও জাপান থেকে অনেক শিল্প স্থানান্তর হয়ে এ দেশে আসছে। এই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সরকারও ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরি করছে। এই অঞ্চলগুলো পরিচালনার জন্য এখনই দক্ষ তরুণ উদ্যোক্তা তৈরির কোনো বিকল্প নেই।

মাহবুবুল আলম চট্টগ্রামে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত, সড়ক, রেল, নৌ ও আকাশপথে যোগাযোগব্যবস্থা বাড়ানো, বে টার্মিনাল চালু এবং চট্টগ্রামে সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকের একাধিক শাখা স্থাপনের দাবি জানান।

সভায় ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট এস এম আবু তৈয়ব বলেন, ইউরোপ থেকে বিজনেস স্থানান্তর হয়ে দেশে আসবে, বিশ্বের শিল্পগুলো এখনই দেশের দিকে ধাবিত হচ্ছে এবং সেটা হবে ২০৪১ সালের আগেই। এখন ১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স আসছে, কিন্তু দক্ষ জনশক্তি না থাকায় পাঁচ বিলিয়ন ডলার বিদেশে চলে যাচ্ছে। তরুণদের দক্ষ করে গড়তে না পারলে বাংলাদেশকে উন্নত দেশ করার সুযোগ হাতছাড়া হবে।

জুনিয়র চেম্বার ইন্টারন্যাশনালের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি নিয়াজ মোর্শেদ এলিট বলেন, ‘তরুণ উদ্যোক্তা বানাতে নীতিমালা তৈরি এখন আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ। এখন ১৮ থেকে ৪০ বছর বয়সী পাঁচ কোটি তরুণ রয়েছে, ক্রমেই সেই সংখ্যা বাড়ছে। নীতিমালা তৈরি করে এই তরুণদের কাজে লাগানো না গেলে লক্ষ্যমাত্রা ২০৪১ অর্জন সম্ভব হবে না। ’

জেসিআই পরিচালক রাইসুল উদ্দিন সৈকত বলেন, সম্ভাবনাময় ওষুধশিল্পের জন্য চট্টগ্রামে ২০০৮ সালে ঘটা করে একটি শিল্পপার্ক স্থাপন করা হয়েছিল। এতে আমরা বেশ আশান্বিতও হয়েছিলাম, কিন্তু এরপর থেকে আর এগোয়নি। ’

জেসিআই সভাপতি ও অনুষ্ঠানের সঞ্চালক জসিম উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের তুলনায় প্রতিবেশীরা কিভাবে এগোচ্ছে, তারা কোন নীতিমালায় কী সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে, সেই বিবেচনায় আমাদের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে হবে। ’

অনুষ্ঠানে অর্থনীতিবিদ মু. সিকান্দার খান, বিজিএমইএ সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি নাসির উদ্দিন চৌধুরী, সোনালী ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক ওয়াসিউর রহমান, হক অ্যান্ড সন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমদাদ হক, জেসিআই পরিচালক মারজান রহমান, আবু ওবায়দা, ইমরান ফাহিম নুর, খাতুন এ জান্নাত, আশফাকুর রহমান, সাখাওয়াত হোসেন মামুন, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের ডিএমডি আবদুল জব্বার চৌধুরী, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর উপপরিচালক রহমত উল্লা মিয়া আলোচনা করেন।


মন্তব্য