kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৯ জানুয়ারি ২০১৭ । ৬ মাঘ ১৪২৩। ২০ রবিউস সানি ১৪৩৮।


কোনো তথ্য দিচ্ছে না নিউ ইয়র্কের ৩ ব্যাংক

আবুল কাশেম   

২৯ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



কোনো তথ্য দিচ্ছে না নিউ ইয়র্কের ৩ ব্যাংক

ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্ক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার রিজার্ভ চুরির ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনগরী নিউ ইয়র্কের আরো চারটি ব্যাংক জড়িত। এর মধ্যে ডিউতস ব্যাংক আমেরিকাস ট্রাস্ট কম্পানির (ডিবিটিসিও) মাধ্যমে শ্রীলঙ্কার প্যান এশিয়া ব্যাংকিং করপোরেশনে পাঠানো দুই কোটি ডলার ফাউন্ডেশন বানান ভুল থাকার কারণে ফেরত পেয়েছে বাংলাদেশ। বাকি আট কোটি ১০ লাখ ডলার স্থানান্তরে দ্য ব্যাংক অব নিউ ইয়র্ক মেলন, সিটিব্যাংক এনএ নিউ ইয়র্ক এবং ওয়েলস ফার্গো ব্যাংক নিউ ইয়র্ক জড়িত। এই তিন ব্যাংকের কাছ থেকে তথ্য চেয়ে দফায় দফায় বাংলাদেশ ব্যাংক অনুরোধ করলেও কোনো সাড়া দিচ্ছে না তারা। অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো বাংলাদেশ ব্যাংকের সুইফট রুম তদন্ত প্রতিবেদনে এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

চারটি ব্যাংকের মধ্যে ওয়েলস ফার্গো ব্যাংকের মাধ্যমে রিজাল ব্যাংকে মিসেল এফ ত্রুজের অ্যাকাউন্টে (নম্বর-৯০১৩-৫৪৭-০৪৭) ৬০ লাখ ৩৯ ডলার ১২ সেন্ট ও আলফ্রেড এস ভারগারার অ্যাকাউন্টে (নম্বর-৯০১৩-৫৪৭-০৯৮) দুই কোটি ডলার ঢুকে। ব্যাংক অব নিউ ইয়র্ক মেলনের মাধ্যমে রিজাল ব্যাংকে জেসি ক্রিস্টোফার এম লাগ্রোসাসের অ্যাকাউন্টে (৯০১৩-৫৪৭-০৫৫) ঢুকে তিন কোটি ৩৯ ডলার ১২ সেন্ট। সিটিব্যাংক নিউ ইয়র্ক সিটির মাধ্যমে রিজাল ব্যাংকে ইনরিকো টি ভাসকুয়েসের অ্যাকাউন্টে (নম্বর-৯০১৩-৫৪৭-১৫৬) যায় দুই কোটি ৫০ লাখ এক হাজার ৫৮৩ ডলার ৮৮ সেন্ট। আর ডিবিটিসিও আমেরিকাস নিউ ইয়র্ক সিটির মাধ্যমে শ্রীলঙ্কার প্যান এশিয়া ব্যাংকিং করপোরেশনে শাকিলা ফাউন্ডেশনের অ্যাকাউন্টে ঢুকে দুই কোটি ডলার। তবে এ ক্ষেত্রে ইংরেজিতে ফাউন্ডেশন বানান ভুল হওয়ায় ওই অর্থ বাংলাদেশকে ফেরত দেয় শ্রীলঙ্কা।

তদন্তের কিছুই জানাচ্ছে না ওয়েলস ফার্গো : যে পাঁচটি অবৈধ পেমেন্ট আদেশের ভিত্তিতে বাংলাদেশের রিজার্ভ থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হয়েছে, তার মধ্যে দুটি আদেশে দুই কোটি ৬০ লাখ ৩৯ হাজার ডলারের দুটি পেমেন্ট আদেশের মধ্যবর্তী ব্যাংক হিসেবে কাজ করে ওয়েলস ফার্গো। বাংলাদেশ ব্যাংক ৮ ফেব্রুয়ারি এমটি (মানি ট্রান্সফার) ৯৯৯ পাঠিয়ে অর্থ স্থানান্তর বন্ধে অনুরোধ করে। ওই দিনই ওয়েলস বাংলাদেশ ব্যাংককে একটি সুইফট বার্তা পাঠিয়ে জানায়, এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে তারা। ওই দিন কিছুক্ষণ পরে ওয়েলস ফার্গো এমটি ১৯৯-এর মাধ্যমে জানায় যে তারা ফিলিপাইনের রিজাল ব্যাংককে পেমেন্ট বাতিল করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে। ৯ ফেব্রুয়ারি ব্যাংকটি আরো জানায় যে রিজাল ব্যাংক প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।

গত ১৬ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের তরফ থেকে আবারও যোগাযোগ করা হয় ওয়েলস ফার্গোর সঙ্গে। তখন তারা জানায় যে বিষয়টি নিয়ে তারা এখনো তদন্ত করছে। তবে তদন্তের ধরন সম্পর্কে বাংলাদেশ ব্যাংককে কিছু জানাতে রাজি হয়নি। গত ৯ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংক ওয়েলস ফার্গো ব্যাংকের অ্যান্টি-ফ্রড ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে টেলিকনফারেন্স করেছে। তখন ওই তদন্ত প্রতিবেদন চেয়ে অনুরোধ করলেও তা দিতে রাজি হয়নি ওয়েলস ফার্গো। এমনকি ওয়েলস ফার্গো কখন পেমেন্ট আদেশগুলো প্রক্রিয়া করেছিল, সে তথ্যও চেয়ে পায়নি বাংলাদেশ ব্যাংক।

কোনো সাড়া নেই দ্য ব্যাংক অব নিউ ইয়র্ক মেলনের : ব্যাংক অব নিউ ইয়র্ক মেলন একটি অবৈধ পেমেন্ট আদেশের মাধ্যমে রিজাল ব্যাংকে জেসি ক্রিস্টোফার এম লাগ্রোসাসের অ্যাকাউন্টে (৯০১৩-৫৪৭-০৫৫) ঢুকে তিন কোটি ৩৯ ডলার ১২ সেন্ট। গত ৮ ফেব্রুয়ারি সুইফট বার্তা পাঠিয়ে তাদের অর্থ আটকানোর অনুরোধ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। পরদিন ৯ ফেব্রুয়ারি ব্যাংক অব নিউ ইয়র্ক জানায় যে ওই পেমেন্ট আদেশ কোথায় আছে, তা চিহ্নিত করা যাচ্ছে না। তারপর থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চার দফা অনুরোধ পাঠানো হয়েছে দ্য ব্যাংক অব নিউ ইয়র্কের কাছে, কোনোবারই কোনো সাড়াশব্দ করেনি তবুও। তা সত্ত্বেও বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের অ্যান্টি-ফ্রড ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখার চেষ্টা করছে।

কোনো কথা বলছে না সিটিব্যাংক এনএ : রিজাল ব্যাংকে ইনরিকো টি ভাসকুয়েসের অ্যাকাউন্টে (নম্বর-৯০১৩-৫৪৭-১৫৬) দুই কোটি ৫০ লাখ এক হাজার ৫৮৩ ডলার ৮৮ সেন্ট পাঠানোর পেমেন্ট আদেশে মধ্যবর্তী ব্যাংক হিসেবে কাজ করেছে নিউ ইয়র্কে অবস্থিত সিটিব্যাংক এনএ। ৮ ফেব্রুয়ারি এমটি ৯৯৯-এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক ওই অর্থ আটকানোর অনুরোধ করে সিটিব্যাংক এনএকে। ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত একই ধরনের চারটি অনুরোধপত্র পাঠানো হলেও বাংলাদেশ ব্যাংককে কোনো জবাবই দেয়নি তারা। গত ৯ মার্চ সিটি ব্যাংক এনএর অ্যান্টি-ফ্রড ডিপার্টমেন্ট প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুরোধে সাড়া দেয়। ওই দিন কিছু তথ্য আদান-প্রদান করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, সিটি ব্যাংক এনএর দেওয়া তথ্যগুলো স্পষ্ট নয়।  

দুই কোটি ফেরত দিয়েছে ডিবিটিসিও এবং পিএবিএসএল : রিজার্ভ চুরির ১০ কোটি ১০ লাখ ডলারের মধ্যে দুই কোটি ডলার শ্রীলঙ্কার ব্যাংক প্যান এশিয়া ব্যাংকিং করপোরেশন শ্রীলঙ্কাতে (পিএবিএসএল) থাকা শালিকা ফাউন্ডেশনের নামে পাঠানোর ক্ষেত্রে মধ্যবর্তী ব্যাংক হিসেবে কাজ করে নিউ ইয়র্কের ডিবিটিসিও। তবে ইংরেজিতে ফাউন্ডেশন বানান ভুল হওয়ার কারণে অর্থছাড় না করে আটকে দেয় শ্রীলঙ্কার ব্যাংকটি, যা পরে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে থাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে ফেরত পাঠায় শ্রীলঙ্কা। ৮ ফেব্রুয়ারি শ্রীলঙ্কার ব্যাংকটি নিজে থেকেই বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানায় যে শালিকা ফাউন্ডেশনের নামে টাকা পাঠানো হয়েছে। কিন্তু যে শালিকা ফাউন্ডেশনের নামে অ্যাকাউন্ট রয়েছে, তার বানান ভিন্ন। তখন বাংলাদেশ ব্যাংক দ্রুত ওই অর্থ আটকানোর অনুরোধ করে। পরে ১৬ ফেব্রুয়ারি পিএবিএসএল ওই দুই কোটি ডলার ফেডারেল রিজার্ভে বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে ফেরত পাঠায়।


মন্তব্য