kalerkantho


বিনিয়োগে এশিয়ার পরবর্তী কেন্দ্রস্থল বাংলাদেশ

বাণিজ্য ডেস্ক   

২৮ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



বিনিয়োগে এশিয়ার পরবর্তী কেন্দ্রস্থল বাংলাদেশ

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বিদেশি বিনিয়োগের পরবর্তী কেন্দ্রস্থল হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সেই লক্ষ্যে দেশটি কাজ করে যাচ্ছে বলে মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী পত্রিকা আরব নিউজের এক প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।

এতে বলা হয়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের অর্থনীতি ইতিবাচক মোড় নিচ্ছে। প্রায় এক দশক ধরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশের মধ্যে আছে। সামনের দিনগুলোতে এটি ৭ শতাংশে উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা উঁকি দিচ্ছে।

প্রতিবেদনটিতে আরো বলা হয়, দেশি-বিদেশি প্রাইভেট বিনিয়োগ অধিক খোলামেলা ও প্রতিযোগিতামূলক করতে নেওয়া অনেক সংস্কারমূলক নীতি বাস্তবায়ন করেছে সরকার। বাংলাদেশে বিনিয়োগ কেন লাভজনক তারও সুস্পষ্ট কারণ তুলে ধরা হয় ওই প্রতিবেদনে। বলা হয়, বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশকে বেছে নেওয়া যেতে পারে কয়েকটি কারণে। এর মধ্যে আছে বাংলাদেশে রয়েছে প্রতিযোগিতামূলক বাজার, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ ও প্রতিযোগিতামূলক ব্যয় অবকাঠামোর (কস্ট ট্রাকচার) মেলবন্ধন। এ ছাড়া আছে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা। বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতি ১৮ হাজার কোটি ডলারের।

আইএমএফ বলছে, ২০২১ সালের মধ্যে এটি ৩২ হাজার ২০০ কোটি ডলারের বাজারে পরিণত হবে।

পাশাপাশি বাংলাদেশের হাতে রয়েছে বিশাল শিক্ষিত ও উদ্যমী তরুণ মানবসম্পদ। দেশটির জনসংখ্যার শতকরা ৫৭ ভাগই ২৫ বছরের কম বয়সী। তরুণদের মধ্যে শতকরা ৭২ ভাগই উচ্চশিক্ষিত। এসব তরুণ কাজ ও প্রবৃদ্ধির জন্য উন্মুখ হয়ে আছে। প্রতিবছর চাকরির বাজারে ঢুকছে ২০ লাখ তরুণ।

এ ছাড়া বাংলাদেশের রয়েছে শক্তিশালী নিজস্ব বাজার। ১৬ কোটি মানুষের এই বাজারের সব ধরনের পণ্যের চাহিদা অনেক বেশি। আছে স্বল্পদামে বিদ্যুৎ ও গ্যাস পাওয়ার নিশ্চয়তা।

এ ছাড়া বিদেশে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতায় নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করেছে এরই মধ্যে। ইউরোপ, কানাডা ও জাপানের বাজারে এর শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার রয়েছে।

এর বাইরে বিনিয়োগকারীদের বিশেষ সুবিধা দেওয়ার জন্য বাংলাদেশে রয়েছে বিশেষায়িত অনেক এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন (ইপিজেড)। যেখানে সব ধরনের সুবিধাসহ বিদেশে সহজ শর্তে পণ্য রপ্তানির সুযোগ দেওয়া হয়।

এ ছাড়া কৌশলগত অবস্থান, আঞ্চলিক সংযোগ ও বিশ্বব্যাপী অবাধ প্রবেশের সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের হাতে। ভারত, চীন ও আসিয়ানের পাশে কৌশলগত অবস্থান বাংলাদেশের।

সাউথ এশিয়ান ফ্রি ট্রেড এরিয়া বা সাফটা বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে। ফলে বাংলাদেশে বিনিয়োগকারীরা ভারত ও দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোর পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান ও অন্যান্য উন্নত দেশে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবেন।

সম্প্রতি দেশটি অনেক ইকোনমিক জোন তৈরির কাজ শুরু করেছে। যেগুলো দেশি-বিদেশি সরকারি ও ব্যক্তি মালিকানায় ছেড়ে দেওয়া হবে। এসব মিলিয়ে বিনিয়োগকারীদের জন্য আকর্ষণীয় স্থান হওয়ার জন্য প্রস্তুত বাংলাদেশ।


মন্তব্য