kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৪ জানুয়ারি ২০১৭ । ১১ মাঘ ১৪২৩। ২৫ রবিউস সানি ১৪৩৮।


কর আদায়ের ক্ষেত্র বাড়াতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৮ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



কর আদায়ের ক্ষেত্র বাড়াতে হবে

নতুন ভ্যাট আইনের কিছু ক্ষেত্রে অস্পষ্টতা রয়েছে। এই আইন বাস্তবায়নে যেসব চ্যালেঞ্জ এখনো দূর হয়নি তার সমাধান করে তবেই বাস্তবায়নে যেতে হবে।

একই সঙ্গে কর আদায়ের ক্ষেত্র বাড়ানোর সুপারিশ করেছেন অর্থনীতিবিদরা। রাজধানীর সেগুনবাগিচায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সম্মেলন কক্ষে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রাকবাজেট আলোচনায় গতকাল অর্থনীতিবিদ ও পেশাজীবীদের সঙ্গে আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ইকোনমিক রিসার্স গ্রপের চেয়ারম্যান ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহবুব এসব কথা বলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহবুব বলেন, ‘এনবিআরের সামনে বিরাট চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসছে বাজেটটি ঘোষণা করা হবে। কারণ নেপাল আমাদের পাশের দেশ, সেখানে জিডিপি ও কর রাজস্বের অনুপাতের চেয়ে বাংলাদেশ পিছিয়ে আছে। এনবিআরের প্রথম কাজ হবে কর আদায়ের ক্ষেত্র বাড়ানো। এ ছাড়া জেলা-উপজেলা পর্যায়ে গিয়ে ভ্যাট সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরি করতে হবে। ’

ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহবুব আরো বলেন, ‘আমাদের সামনে ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সব কিছু কম্পিউটারাইজড করা হচ্ছে এবং সামনে বাজেট আসছে। এগুলো আমাদের সব দিক সমান রেখে করতে হবে। অতি উৎসাহিত হয়ে কিছু করা যাবে না। আমাদের যা কিছু অর্জন তা থেকে যেন পিছয়ে পড়তে না হয়। নতুন আইন বাস্তবায়নের আগে তা খেয়াল রাখতে হবে। কারণ আমাদের বাস্তবতা ও যৌক্তিক কাঠামোর মাঝখানে ভারসাম্য রাখতে হবে। ’

ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহবুব বলেন, ‘কর ফাঁকিতে একটা দুর্নীতির বিষয় আছে। বলা হয় রাজস্ব আদায় যারা করে তারা দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত। আমি এটা সমর্থন করি না। সব কর্মকর্তা অসৎ নয়। ’

ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহবুব বলেন, ‘বরং কর বিভাগের কর্মকর্তাদের অনেক সময় একটা সমস্যায় পড়তে হয়। তা হলো আমাদের দেশে কর ফাঁকি এত বিস্তৃত যে কর ফাঁকিবাজদের নানা প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। একজন রাজস্ব কর্মকর্তা যদি কারো বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেন, তখনই বলা হবে যে আরো যত বড় বড় কর ফাঁকিবাজ আছে তাদের না ধরে আমাদের ধরছেন কেন?’

কর ফাঁকির আরো ভয়াবহ রূপ বর্ণনা দিয়ে ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহবুব বলেন, ‘যেখান থেকেই এই কাজটা শুরু করা হোক না কেন সেখান থেকেই মনে হবে এটা একটা বৈষম্য। তখন কথা উঠবে একটা ধরলাম ওইটা কেন ধরলাম না। এসব শুনতে গিয়ে দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করেছে কর ফাঁকি। এটা আমাদের দেশে বিরাট সমস্যা। এটা একটা চ্যালেঞ্জও এনবিআরের জন্য। ’

বিশিষ্ট এ অর্থনীতিবিদ বলেন, ‘আরেকটা চ্যালেঞ্জ উল্টো দিক থেকেও আছে। আমরা যদি একজন ভালো করদাতা দেখি তাহলে সেখানেও সন্দেহ থাকবে যে তার ভেতর মনে হয় খারাপ কিছু আছে। যারা ভালো করদাতা এনবিআর কর্মকর্তারা তাদেরও অবিশ্বাস করে থাকেন। সে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে কর দিলেও মনে করা হয় তারা তথ্য লুকিয়েছে। এ সংস্কৃতি থেকে বের হতে হবে। এ জন্য রাজস্ব কর্মকর্তাকে সচেতন থাকতে হবে। ’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে এফবিসিসিআই সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা কর দিতে চায়। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে কর আদায় কার্যক্রমকে কঠিন করা হয়েছে। কারণ আমার নিজের কর নিজে দিতে পারি না। তার জন্য তিনজনকে নিয়োগ দিতে হয়। ’

সভাপতির বক্তব্যে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান বলেন, ‘চলতি অর্থবছর প্রতি ঘণ্টায় আমাদের ২৭ কোটি থেকে ২৮ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করতে হচ্ছে। আর প্রতি মাসে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা আদায় করতে হচ্ছে। ’

নজিবুর রহমান আরো বলেন, ‘আগামীতে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটটি একটি ভবিষত্মুখী বাজেট করতে যাচ্ছি। যেটা আপনাদের মতামত নিয়েই প্রণয়ন করা হবে। ’

প্রাকবাজেট আলোচনায় বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি, ইকোনমিক রিসার্চ গ্রুপ (ইআরজি), বাংলাদেশ গবেষণা উন্নয়ন সংস্থা (বিআইডিএস), পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) ও পিডাব্লিউসির প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন অর্থনীতিবিদ বক্তব্য দেন।


মন্তব্য