kalerkantho


আর্থিক অনিয়মের তদন্তে নতুন মোড়

এনবিপির শীর্ষ কর্মকর্তারা ফেঁসে যেতে পারেন

বাণিজ্য ডেস্ক   

২৫ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



এনবিপির শীর্ষ কর্মকর্তারা ফেঁসে যেতে পারেন

ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তানের (এনবিপি) বাংলাদেশ শাখার ১৮ বিলিয়ন রুপি অনিয়মের ঘটনায় এবার ফেঁসে যেতে পারেন প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ কর্মকর্তারা। এ ঘটনায় ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের তদন্তের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তানের দুর্নীতি দমন সংস্থা ন্যাশনাল অ্যাকাউনটিবিলিটি ব্যুরো (এনএবি)।

ফলে দুই বছরের পুরনো এই আর্থিক অনিয়মের ঘটনা নতুন মোড় পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এ ঘটনা থেকে যখন আর্থিক খাতের বড় কর্মকর্তারা তাঁদের নাম লুকানোর চেষ্টা করছেন সেই মুহূর্তে তদন্তের কার্যক্রম চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনএবি নির্বাহী বোর্ড। বিষয়টি অ্যাকাউনটিবিলিটি কোর্টে পাঠানোর আগে তদন্ত শেষ করার জন্য চার মাস সময় পাবে এনএবি।

২০০৩ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত সময়ে এনবিপির বাংলাদেশ শাখা প্রয়োজনীয় জামানত ছাড়াই সন্দেহপূর্ণ বেশ কিছু কম্পানিকে ঋণ দেয়। বর্তমানে আর্থিক খাতের শীর্ষে থাকা বেশ কিছু কর্মকর্তা ওই সময় এনবিপির এই কার্যক্রমের দায়িত্বে ছিলেন। সূত্র জানায়, সেই সময়ের ঋণ শাখা এবং বিদেশি কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্বে থাকা প্রধান কর্মকর্তারা এবার তদন্তের আওতায় এসেছেন। সেই সময়ে প্রয়োজনীয় জামানত ছাড়াই যে ঋণ দেওয়া হয়েছে, তাতে ঊর্ধ্বতন এই কর্মকর্তাদের কোনো গাফিলতি ছিল কি না কিংবা তাঁরা তাঁদের ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন কি না—এ বিষয়টি তদন্তের জন্য গত মঙ্গলবার অনুমতি দিয়েছে এনএবি।

সূত্র জানায়, এনএবি অনুসন্ধানের মাধ্যমে কিছু কর্মকর্তার অভিযুক্ত হওয়ার ব্যাপারে তথ্য খুঁজে পাওয়ায় এই অনুমোদন দিয়েছে। তবে দুর্নীতি দমন সংস্থা অভিযুক্ত কর্মকর্তার সংখ্যা ১০ জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার কথা জানিয়েছে।

যদিও তদন্তের যেকোনো পর্যায়ে নতুন নাম যুক্ত করার ক্ষমতা এই সংস্থার রয়েছে। এই অর্থ কেলেঙ্কারির ঘটনায় পাকিস্তানের একটি পার্লামেন্টারি প্যানেল সর্বশেষ রিপোর্ট চাওয়ার দুই দিন আগেই নির্বাহী বোর্ডের এই সিদ্ধান্ত আসে। গতকাল বৃহস্পতিবার অর্থবিষয়ক ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি স্ট্যান্ডিং কমিটি এনএবি চেয়ারম্যানের কাছে তদন্তের ব্যাপারে সংক্ষেপে জানতে চেয়েছে।

প্রাথমিকভাবে এনএবি ছয়জন বাংলাদেশির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করবে, যাঁরা পাকিস্তান সরকারের অধীনে ব্যাংকে কর্মরত ছিলেন। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ বাংলাদেশ সরকারের কাছে পাঠানো হবে।

২০১৪ সালের জানুয়ারিতে প্রথম এক্সপ্রেস ট্রিবিউন অর্থ কেলেঙ্কারির এই ঘটনা প্রকাশ করে। সেই সময়ে প্রথম অবস্থায় লোকসানের কথা ১১ বিলিয়ন রুপি জানা গেলেও পরে নিশ্চিত হওয়া যায় লোকসান ছিল ১৮.৫ বিলিয়ন রুপি। ২০১৪ সালের জানুয়ারির আগে কিংবা পরে এনবিপির শীর্ষ ব্যবস্থাপনা কমিটি বিষয়টি চাপা দেওয়ার প্রাণান্তকর চেষ্টা করে। কারণ বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত। ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে পিএমএল-এনএর ওমর আয়য়ূব খানের নেতৃত্বে এনএ স্ট্যান্ডিং কমিটি বিষয়টি এনএবির কাছে অতিরিক্ত তদন্তের জন্য পাঠায়। স্ট্যাডিং কমিটির বর্তমান চেয়ারম্যান কায়সার আহমেদ শেখও বিষয়টি নিয়ে কাজ করেছেন।

এনএবির এই তদন্ত হচ্ছে বিষয়টি নিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত। এর আগে এনবিপি চারটি তদন্ত শেষ করেছে। যার মধ্যে একটি তদন্ত হয়েছে চার্টার্ড অ্যাকাউনট্যাট ফার্ম কেপিএমজির মাধ্যমে। সেই সময়ে কেপিএমজি এই ঘটনায় ৬১ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে। এই কর্মকর্তারা তখন বাংলাদেশ শাখা, আঞ্চলিক অফিস বাহরাইন এবং প্রধান কার্যালয় করাচিতে দায়িত্বরত ছিলেন।

২০০৭ সাল থেকে বাংলাদেশ শাখায় সমস্যা শুরু হয় খেলাপি ঋণ নিয়ে। সেই সময়ে ১৯টি অভিযোগ প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। জানা যায়, ১৮ বিলিয়ন রুপি লোকসানের মধ্যে মাত্র ১৭ মিলিয়ন বা ১.৭ বিলিয়ন রুপি পুনরুদ্ধার করা যেতে পারে। এনবিপি প্রেসিডেন্ট সাইদ ইকবাল আশরাফ এনএ স্ট্যান্ডিং কমিটিকে গত ডিসেম্বরে এই তথ্য জানিয়েছিলেন। তবে এনএবির সর্বশেষ সিদ্ধান্ত নিয়ে এনবিপির কোনো মতামত এখন পর্যন্ত জানা যায়নি। দি এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।


মন্তব্য