kalerkantho

শনিবার । ২১ জানুয়ারি ২০১৭ । ৮ মাঘ ১৪২৩। ২২ রবিউস সানি ১৪৩৮।


পুনর্বাসন হয়নি রানা প্লাজার অনেক শ্রমিকের

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৪ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



পুনর্বাসন হয়নি রানা প্লাজার অনেক শ্রমিকের

জীবিকার অভাবে এখনো দুর্বিষহ জীবন পার করছে শ্রমিকরা

রানা প্লাজা ধসের পর আহত শ্রমিকদের অনেকেই এখনো শ্রমিক প্রতিবন্ধিতা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এসব শ্রমিকের কেউ কেউ বিভিন্ন সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান থেকে পুনর্বাসন সহায়তা পেলেও গ্রামে ফিরে যাওয়া শ্রমিকরা পুনর্বাসন ও জীবিকার অভাবে রয়েছে। গতকাল বুধবার রাজধানীর গুলশানে হোটেল সিক্স সিজনে ‘রানা প্লাজা ধস পরবর্তী প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সমাজভিত্তিক পুনর্বাসন’ শীর্ষক এক কর্মশালায় এসব তথ্য জানায় বেসরকারি সংস্থা হ্যান্ডিক্যাপ ইন্টারন্যাশনাল।

কর্মশালায় বক্তারা জানান, সরকার ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বয়হীনতার জন্য রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ততরা প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাচ্ছে না। সরকারের আইন-কানুনের কারণেও প্রত্যাশিত ফলাফল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে পুরো জাতি এক হয়েও রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের সমস্যা সমাধান করা যায়নি। এ খাতে প্রচুর অর্থ এলেও এর যথাযথ ব্যবহার হয়েছে কি না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তাঁরা।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় উন্নয়ন প্রতিবন্ধী ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাসরিন আরা সুরাত আমিন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. কামরুল হাসান প্রমুখ। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন হ্যান্ডিক্যাপ ইন্টারন্যাশনালের ডোমেইন কো-অর্ডিনেটর শফিকুল ইসলাম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে নাসরিন আরা সুরাত আমিন বলেন, অনেক সীমাবদ্ধতার মাঝেও সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে রানা প্লাজা ধসে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে কাজ করা হয়েছে। তবে আরো সহায়তা প্রয়োজন। হ্যান্ডিক্যাপ ইন্টারন্যাশনাল তৃণমূল পর্যায়ে যেসব সেবা দিয়েছে, এটি প্রশংসাযোগ্য। তারা ১০০ প্রতিবন্ধীকে পুনর্বাসন করেছে। তিনি বলেন, সারা দেশে বিভিন্ন ধরনের প্রায় ১৫ লাখ প্রতিবন্ধী রয়েছে। এসব প্রতিবন্ধীকে সেবা দিতে সরকারের প্রতিটি উপজেলায় একটি করে প্রকল্প নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

মো. কামরুল হাসান বলেন, ‘রানা প্লাজার মতো এত বড় একটি দুর্যোগ জাতি একত্রিত হয়ে সফলভাবে মোকাবিলা করলেও সমন্বয়হীনতার জন্য এর ফসল আমরা ঘরে তুলতে পারছি না। ’ তিনি আরো বলেন, ‘আমরা আমাদের নিজস্ব প্রযুক্তি দিয়ে বিশ্বে রোল মডেল হলেও, কিভাবে হয়েছি তা আর উপস্থাপন করতে পারি না। তাই সবাইকে তিনি সমন্বিত উদ্যোগে কাজ করার আহ্বান জানান। ’

মূল প্রবন্ধে বলা হয়, হ্যান্ডিক্যাপ ইন্টারন্যাশনাল রানা প্লাজা ধস পরবর্তী প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সমাজভিত্তিক পুনর্বাসনে দুই বছরের একটি প্রকল্প গ্রহণ করে। এই প্রকল্পে তারা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে পুনর্বাসন, দক্ষতা উন্নয়ন এবং একীভূত কর্মপরিবেশের জন্য করে। কিন্তু ওই সেবাই যথেষ্ট নয়। শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বাবলম্বী করা হলেও পুঁজির অভাবে তারা কিছু করতে পারছে না। কারণ তাদের অধিকাংশের ক্ষতিপূরণের প্রাপ্ত টাকা পরিবারের আপনজনরা খেয়ে ফেলেছে। তাই রানা প্লাজা ক্ষতিগ্রস্তদের যুদ্ধের জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হলেও এখন অস্ত্রের অভাবে যুদ্ধ করতে পারছে না।

হ্যান্ডিক্যাপ ইন্টারন্যাশনালের ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর শারমিন খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় আরো উপস্থিত ছিলেন বেসরকারি সংস্থা ইমপেক্ট ফাউন্ডেশনের পরিচালক মনসুর আহমেদ। মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন বেসরকারি সংস্থা গণস্বাস্থ্যের মো. গোলাম মোস্তফা দুলাল, হ্যান্ডিক্যাপ ইন্টারন্যাশনালের মুসলিম উদ্দিন প্রমুখ।


মন্তব্য