kalerkantho


ফেডারেল রিজার্ভের বিরুদ্ধে মামলা করবে বাংলাদেশ ব্যাংক

তদন্তের স্বার্থে সরে দাঁড়ালেন রিজাল ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট

বাণিজ্য ডেস্ক   

২৪ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



তদন্তের স্বার্থে সরে দাঁড়ালেন রিজাল ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট

রিজার্ভের অর্থ চুরির ঘটনায় ফেডারেল রিজার্ভের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়ায় এগোচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ নিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আট কোটি ১০ লাখ ডলার অর্থ চুরি হওয়ার ঘটনায় ফেডারেল রিজার্ভের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এ জন্য যুক্তরাষ্ট্রের একজন আইনজীবীও ঠিক করা হয়েছে।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতির কথা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে কিভাবে এলো তা আমার জানা নেই। আমরা এখনো এ রকম কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি। তা ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের একজন আইনজীবী কে ঠিক করল তাও আমাদের জানা নেই। তবে আমাদের ব্যাংকের তালিকাভুক্ত একজন আইনজীবীকে সার্বিক বিষয় জানানো আছে। তিনি আইনগত দিকটি দেখছেন। ’

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনে বলা হয়, অর্থ হারানোর বিষয়টি নিয়ে ফেডারেল রিজার্ভের কাছে আইনগত দাবি উত্থাপনের বিষয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে ব্যাংক। এ অর্থ আইনি প্রক্রিয়ায় দাবি করা হবে। ব্যাংকের একটি সূত্র এ রিপোর্টের সত্যতার বিষয়ে নিশ্চিত করে।

এ সাইবার হামলা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি ক্যারোলিন ম্যালোনি তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ফেডারেল রিজার্ভ থেকে অর্থ হ্যাকের এ ঘটনা আর্থিক প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর লেনদেনের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে। এ জন্য এর তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

এদিকে অনির্দিষ্টকালের ছুটিতে গেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ চুরির ঘটনায় জড়িত ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশনের (আরসিবিসি) প্রেসিডেন্ট লরেঞ্জো তান। গতকাল বুধবার ব্যাংকের বোর্ড সভার বৈঠকে তাঁর দ্বিতীয়বারের এ ছুটির আবেদন গ্রহণ করা হয়। প্রেসিডেন্টের অবর্তমানে দায়িত্ব পালন করবেন ব্যাংকের চেয়ার হেলেন ওয়াই দি।

প্রেসিডেন্টের ছুটি নেওয়ার কারণ হিসেবে আরসিবিসি জানায়, অর্থপাচার নিয়ে ব্যাংকের নিজস্ব তদন্ত চলছে, আর তাতে সরকারি কর্মকর্তারাও সহায়তা দিচ্ছেন। এটি যাতে স্বচ্ছভাবে নিশ্চিত হয় সে কারণেই ছুটিতে গেছেন প্রেসিডেন্ট লরেঞ্জো তান।

এ বিষয়ে আলাদা এক বিবৃতিতে তানের আইনজীবী ফ্রাঙ্কিস লিম বলেন, এ সপ্তাহের শুরুতেই আমার মক্কেল আরসিবিসি বোর্ডের কাছে ছুটির আবেদন করেন। কারণ তিনি চান ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ তদন্ত চলাকালে যাতে তাঁর পক্ষ থেকে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ বা অন্যায় প্রভাব তৈরির অভিযোগ না ওঠে। মূলত তদন্তের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতেই তিনি ছুটিতে গেছেন। এতে তিনিও নিজের অবস্থান পরিষ্কার করার সুযোগ পাবেন।

এর আগে গত মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থপাচারের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে বরখাস্ত করা হয়েছিল ব্যাংকের জুপিটার স্ট্রিট শাখার ব্যবস্থাপক মায়া সান্তোস-দেগুইতো এবং তাঁর ডেপুটি অ্যাঙ্গোলা টরেসকে। ব্যাংকের নীতি ও কার্যপ্রণালি লঙ্ঘন এবং বাণিজ্যিক কাগজপত্র জাল করার দায়ে এ দুই কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয় বলে ব্যাংক জানায়।

তবে বরখাস্তের আগে মায়া সান্তোস-দেগুইতো চীনা ব্যবসায়ী কিম ওয়াংকে অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। এরও আগে তিনি দোষারোপ করেছেন আরসিবিসির প্রেসিডেন্ট লরেঞ্জো তানের বিরুদ্ধে। তদন্ত সংস্থার শুনানিতে মায়া দেগুইতো বলেছেন, জুপিটার স্ট্রিট শাখার মাধ্যমে অর্থপাচারের পুরো বিষয়টি প্রেসিডেন্ট তান জানতেন। এমনকি প্রেসিডেন্টই তাঁকে এও বলেছেন, লেনদেনের বিষয়টি প্রকাশ হয়ে পড়লে পরবর্তীতে তা কিভাবে ব্যাখ্যা করতে হবে। যদিও মায়ার এ দাবিকে নির্জলা মিথ্যা হিসেবে অভিহিত করেছেন তান।

এদিকে অন্য এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের আট কোটি ১০ লাখ ডলার অর্থপাচারের ঘটনায় জড়িত থাকার দায়ে দুঃখ প্রকাশ করেছে আরসিবিসি। এ ঘটনায় ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ কোনো দুর্বলতা দায়ী কি না সে বিষয়ে যথাযথ তদন্তের আশ্বাস দিয়ে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থপাচারে আরসিবিসির কর্মী জড়িত থাকায় আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত। বিষয়টি নিয়ে যেহেতু সিনেট ব্লু রিবন কমিটি এবং অর্থপাচার রোধ কাউন্সিল তদন্ত করছে এতে আইনগতভাবে বাধ্য থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করবে আরসিবিসি। একই সঙ্গে ব্যাংক নিজস্ব তদন্তও চালিয়ে যাচ্ছে জানিয়ে বলা হয়, ব্যাংকের নিজস্ব কার্যক্রমে যদি কোনো দুর্বলতা থেকে থাকে তা উদ্ঘাটন এবং কোনো কর্মকর্তা বা কর্মী দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইনকোয়ারার, রয়টার্স।


মন্তব্য