kalerkantho

শনিবার । ২১ জানুয়ারি ২০১৭ । ৮ মাঘ ১৪২৩। ২২ রবিউস সানি ১৪৩৮।


ডেনিম এক্সপার্টের এমডি মোস্তাফিজ উদ্দিন

কর্মীদের উজ্জীবিত রাখলে ব্যবসা সফল হয়

সায়েম টিপু   

২৩ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



কর্মীদের উজ্জীবিত রাখলে ব্যবসা সফল হয়

নিজের কারখানায় কর্মীদের সঙ্গে ডেনিম এক্সপার্টের এমডি মোস্তাফিজ উদ্দিন

কর্মীদের উজ্জীবিত করার মাধ্যমে কারখানার উত্পাদন বাড়ানো যায় বলে মনে করেন ডেনিম এক্সপার্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোস্তাফিজ উদ্দিন। সে কারণেই তিনি প্রতিদিন অফিসে এসে সবার আগে কর্মীদের খোঁজখবর নেন। তাঁদের সুবিধা-অসুবিধা শোনেন এবং সমাধানের চেষ্টা করেন। আর এভাবেই তিনি চট্টগ্রামে গড়ে তোলেন ডেনিম এক্সপার্ট লিমিটেড নামে জিনস প্যান্টের কারখানা। সম্প্রতি এক সাক্ষাত্কারে কালের কণ্ঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

২০০১ সালে তিনি একটি বায়িং হাউস প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। পাঁচ বছরের মাথায় নেদারল্যান্ডসের এক উদ্যোক্তাকে সঙ্গে নিয়ে কর্ণফুলী ইপিজেডে ডেনিম এক্সপার্ট কারখানা গড়ার কাজে হাত দেন। যেটি উত্পাদনে আসে ২০০৯ সালে। বর্তমানে শ্রমিক-কর্মকর্তা মিলে কারখানাটিতে কাজ করেন এক হাজার ৭০০ জন। দিনে তৈরি হয় ১২ হাজার পিস জিনসের প্যান্ট। প্রতিষ্ঠানটির বিশেষত্ব হচ্ছে, ব্লুএক্সঅনলি নামে তাঁদের নিজস্ব ব্র্যান্ড আছে। নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, হাঙ্গেরি ও ইতালির বিভিন্ন বুটিক শপে এই ব্র্যান্ডের জিনস বিক্রি হয়। সব মিলিয়ে বছরে গড়ে দুই কোটি ৪০ লাখ ডলারের জিনস রপ্তানি করে ডেনিম এক্সপার্ট। এর মধ্যে ৬০ শতাংশ ব্লুএক্সঅনলি ব্র্যান্ডের। বাকি ৪০ শতাংশ বিদেশি ব্র্যান্ডের নামে রপ্তানি হয়।

নিজের কারখানায় কর্মীদের কাজের বর্ণনা দিয়ে মোস্তাফিজ উদ্দিন বলেন, ‘দেশে বেশির ভাগ কারখানায় এক লাইনে ৬৫টি মেশিন থাকে। তবে আমাদের কম মেশিন হলেও উত্পাদন বেশি। অন্য কারখানার শ্রমিকদের উত্পাদন দক্ষতা গড়ে ৫০ থেকে ৫৫ শতাংশ হলেও আমাদের শ্রমিকদের ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ। ’ কর্মীদের উদ্বুদ্ধ করতে কী করেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘একদিন সকালে অফিসে এসে দেখি কাপড় মার্কিং করা বিভাগের কর্মী নুরুল আলম অফিসে নেই। খবর নিয়ে জানতে পারি তিনি অসুস্থ। তাঁর রক্ত প্রয়োজন। আমি নিজেই সেই কর্মীকে রক্ত দিয়েছিলাম। ফলে আমার কাছ থেকে টাকা পাওয়ার চেয়েও আন্তরিকতা পেয়ে বেশি খুশি হয়েছিলেন ওই কর্মী। এভাবে আমি প্রয়োজনে সব কর্মীর পাশেই দাঁড়াতে চেষ্টা করি। যাতে তাঁরা আমাকে মালিক না ভেবে নিজেদের আপনজন ভাবতে পারেন। ’

মোস্তাফিজ উদ্দিন আরো বলেন, ‘অন্যান্য কারখানায় বিদেশি অনেক দামি কাটিং মেশিন ব্যবহার করা হয়। এসব মেশিন আনা হয় ফ্রান্স থেকে। যার দাম ৬০ থেকে ৭০ লাখ টাকা পড়ে। তারা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে শুধু কাপড়ের মার্কিং করানোর জন্য। এর পরও ওই সব কারখানায় একটি প্যান্ট তৈরি করতে কাপড় লাগে ১ দশমিক ৪ গজ। আর আমাদের লাগে ১ দশমিক ২ গজ। এটা সম্ভব হয়েছে কর্মীদের সেভাবে মোটিভেট করার কারণেই। ’ উদাহরণ দিয়ে এই উদ্যোক্তা জানান, মাত্র আটজন কর্মী নিয়ে তাঁর কারখানা যাত্রা শুরু করেছিল। আজ সেই কর্মীর বেশির ভাগই তাঁর কারখানায় আছেন।

মোস্তাফিজ উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের সমস্যা হলো, আমরা কর্মীদের কিছুই দেব না, দিতে চাই না, শুধু নিতে চাই। অথচ সফল ও টেকসই প্রতিষ্ঠান করতে হলে শুধু বড় বড় কর্মকর্তা দিয়ে হবে না। মালিক-কর্মীকে একাকার হয়ে কাজ করতে হবে। মাঝামাঝি কর্মকর্তাদের দিয়ে হুমকি-ধমকি দিয়ে কাজ করানোর দিন শেষ। তাহলে কারখানা আর টেকসই এবং সফল হবে না। ’

কারখানায় উত্পাদন বাড়ানোর বিভিন্ন কৌশলের কথা উল্লেখ করে ডেনিম এক্সপার্টের এমডি বলেন, ‘উত্পাদন বাড়াতে আমাদের নিজস্ব কিছু কৌশল আছে। যেমন এর মধ্যে একটি হলো, টাইগার লাইন। এটি হলো কারখানার যে লাইনটি বেশি কাজ করে তাদের কিছু অগ্রাধিকার সুবিধা দেওয়া হয়। এ জন্য আমাদের খুব বেশি খরচ করতে হয় না। প্রতিদিন কাজ শেষে যে লাইনটি টাইগার লাইন পায়, সেই দলের কর্মীরা খেতে গেলে আগে যাবে, ছুটির সময় আগে বের হবে, এ ছাড়া তাঁদের কিছু পুরস্কার দেওয়া হয়। এগুলো হলো সাবান, শ্যাম্পু এবং কাপড় ধোয়ার সোডা। ’

মোস্তাফিজ উদ্দিন দাবি করেন, ‘আমাদের কর্মীদের ওয়াশ (প্যান্ট ধোলাই) করা প্যান্টই বিশ্ব সেরা। বিশ্বের যত মেলায় অংশগ্রহণ করি সব মেলাতেই ওয়াশের জন্য আমরা প্রথম পুরস্কারটি পাই। আমাদের সাফল্যের রহস্য মালিক-শ্রমিক সুসম্পর্ক। ’


মন্তব্য