kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৪ জানুয়ারি ২০১৭ । ১১ মাঘ ১৪২৩। ২৫ রবিউস সানি ১৪৩৮।


পোশাক খাতে সবুজ প্রযুক্তির উন্নয়নে পাশে থাকবে কানাডা

২৩ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



পোশাক খাতে সবুজ প্রযুক্তির  উন্নয়নে পাশে থাকবে কানাডা

বিজিএমইএ এবং কানাডা হাইকমিশনের আয়োজনে ‘তৈরি পোশাক খাতে সবুজায়ন ও সামাজিক দায়বদ্ধতা’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের কারখানায় পরিবেশবান্ধব সবুজ প্রযুক্তির উন্নয়নে কানাডা পাশে থাকবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার বেনওয়া পিয়েরে লাঘামি। তিনি বলেন, কানাডায় প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলারের সবুজ প্রযুক্তির কারখানা রয়েছে।

এই প্রযুক্তি সহায়তা বাংলাদেশের পোশাক খাতের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে। আর পরিবেশবান্ধব সবুজ কারখানা বাড়লে একই সঙ্গে এই দেশের পোশাক খাতের রপ্তানি আয়ও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। এ জন্য তিনি বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের পরিবেশবান্ধব কারখানার জন্য কানাডার প্রযুক্তিগত সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেন।

 

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে পোশাক খাতের শীর্ষ সংগঠন তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) এবং কানাডা হাইকমিশনের আয়োজনে ‘তৈরি পোশাক খাতে সবুজায়ন ও সামাজিক দায়বদ্ধতা’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন কানাডার হাইকমিশনার। বিজিএমইএ সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমানের সভাপতিত্বে এই সেমিনারে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন, বিজিএমইএর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ফারুক হাসান, সহসভাপতি ফেরদৌস পারভেজ বিভন প্রমুখ।

রাষ্ট্রদূত বেনওয়া পিয়েরে লাঘামি আরো বলেন, বাংলাদেশে পরিবেশবান্ধব কারখানা বাড়লে একই সঙ্গে দেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিও বাড়বে। এ জন্য কানাডার প্রযুক্তিগত সহায়তা নিতে পারে বাংলাদেশ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের কর্মপরিবেশ ও নিরাপত্তার মান বাড়ছে। আর গত ২৫ বছর ধরে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এ পোশাক খাত বিশাল ভূমিকা রাখছে। এ ছাড়া গ্রিন কারখানা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রপ্তানিও বাড়বে বলে মনে করেন তিনি। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন বলেন, বাংলাদেশের পরিবেশ একসময় সবুজে ভরপুর ছিল, কলকারখানার বর্জ্যের কারণে সেই সবুজ এখন আর নেই। তবে আবারও সবুজ ফিরে আসবে বলে তাঁর প্রত্যাশা। এ ছাড়া তিনি বিশ্বের উন্নয়নশীল অন্যান্য দেশের চেয়ে বাংলাদেশ সবুজায়নের ক্ষেত্রে এগিয়ে আছে বলে মন্তব্য করেন।

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক কারখানাগুলোর সাম্প্রতিক অনেক উন্নয়ন হয়েছে বলে উল্লেখ করে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, গত কয়েক বছর ধরে বিশ্বমানের কারখানায় রূপান্তরের প্রক্রিয়ায় কাজ করছেন এ দেশের পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা। ইতিমধ্যে ২৬টি কারখানা ইউনাইটেড স্টেট গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিলিং (ইউএসজিবিসি) লিড সনদ অর্জন করেছে। আরো ১০০টির বেশি কারখানা লিড সনদ গ্রহণের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। আর প্লাটিনাম মানের কারখানা আছে পাঁচটি। এর মধ্যে দুটি সারা বিশ্বের সর্বোচ্চ মান অর্জন করেছে। আর সবুজ প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি) এবং জার্মান উন্নয়ন সংস্থা জিআইজিএডের সঙ্গে পিএসিটি এবং টিআরইইএস প্রকল্পের কাজ করছে বিজিএমইএ। তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের পোশাক কারখানার মালিকদের মানসিকতা পরিবর্তন হয়েছে। তাঁরা এখন পরিবেশবান্ধব ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিয়ে অনেক বেশি উৎসাহী। আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় সাশ্রয়ী জ্বালানির নতুন নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন তাঁদের কারখানায়। ’ 

সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন একেএইচ গ্রুপের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন, রিড কনসালটিং বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফিলিপ প্রক্টর, একই প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী এলাসটায়ার কুরি, বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজির (বিইউএফটি) প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর ড. আইয়ুব নবী খান প্রমুখ।


মন্তব্য