kalerkantho


ভারী যানবাহন উত্পাদনে যৌথ বিনিয়োগে আগ্রহী বেলারুশ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২২ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



বাংলাদেশে ভারী যানবাহন এবং নির্মাণ যন্ত্রপাতি উত্পাদনে যৌথ বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে বেলারুশের শিল্পপ্রতিষ্ঠান আমকদর। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের সার্বিক কৃষি উত্পাদনব্যবস্থার যান্ত্রিকীকরণে কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহায়তা করবে। বেলারুশ জাতীয় সংসদের স্থায়ী কমিটির ডেপুটি চেয়ারম্যান ও আমকদরের প্রধান সাকোটিন আলেকজান্ডারের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সফররত বেলারুশের ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তা প্রতিনিধিদল গতকাল শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমুর সঙ্গে বৈঠককালে এ আগ্রহের কথা জানান।

বরিশাল শহরের বগুড়া রোডে অবস্থিত শিল্পমন্ত্রীর বাসভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান ইমতিয়াজ হোসেন চৌধুরী, বেলারুশ প্রতিনিধিদলের সদস্য সুলিয়াক সিয়ারাই, পজনিয়াক আন্দ্রেই এবং বাংলাদেশের আরএমএম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অনিরুদ্ধ কুমার রায় ও প্রকৌশলী কিশোলয় পাল উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে বাংলাদেশের শিল্প খাতে বেলারুশের সরাসরি এবং যৌথ বিনিয়োগের বিষয়ে আলোচনা হয়। এ সময় প্রতিনিধিদলের সদস্যরা শিল্পমন্ত্রীকে জানান, আমকদর বেলারুশের একটি খ্যাতনামা রাষ্ট্রায়ত্ত ভারী যন্ত্রপাতি ও যানবাহন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। এর উত্পাদিত ট্রাক্টর, ভারী ট্রাক, খনন, কৃষি ও সড়ক নির্মাণ যন্ত্রপাতি বেলারুশ ছাড়াও সিআইএসভুক্ত দেশগুলোতে বিপুল পরিমাণে বিক্রয় হচ্ছে। প্রতিবছর এ প্রতিষ্ঠান পাঁচ হাজারেরও বেশি ভারী যন্ত্র ও যানবাহন উত্পাদন করছে। তাঁরা বাংলাদেশে কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, বায়ো ফার্টিলাইজার উত্পাদন, মহাসড়ক ও বিমানবন্দর নির্মাণ, ফার্নিচার এবং সেবা প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত শিল্প খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী বলে জানান। শিল্পমন্ত্রী তাঁর ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেলারুশ সফরের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ সফরের জন্য প্রতিনিধিদলের সদস্যদের ধন্যবাদ জানান। তিনি একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের পুনর্গঠনে সোভিয়েত ইউনিয়নের ভূমিকার প্রশংসা করেন।

আমির হোসেন আমু বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনীতি দ্রুত সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি বিশ্বব্যাংকের মূল্যায়নে বাংলাদেশ নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সাল নাগাদ উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে দেশে পদ্মা সেতু, বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতে উড়াল সড়কসহ বিভিন্ন ধরনের যোগাযোগ অবকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। ফলে দেশে হালকা ও ভারী যানবাহনের চাহিদা বেড়েছে। বাংলাদেশে নির্মাণ যন্ত্রপাতি ও ভারী যানবাহন উত্পাদন খাতে যৌথ বিনিয়োগে এগিয়ে এলে উভয় দেশ লাভবান হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।


মন্তব্য