kalerkantho

26th march banner

বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘটনায় অন্যদের সতর্ক করছে সুইফট

বাণিজ্য ডেস্ক   

২২ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘটনায় অন্যদের সতর্ক করছে সুইফট

বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনার পর এবার অন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সতর্ক করে দেওয়ার কথা জানিয়েছে নেটওয়ার্ক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান সুইফট (সোসাইটি ফর ওয়ার্ল্ডওয়াইড ইন্টারব্যাংক ফিন্যানশিয়াল টেলিকমিউনিকেশন)। গত রবিবার সুইফটের এক মুখপাত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সুইফটের দেওয়া নিরাপত্তা সুপারিশ মেনে চলছে কি না তা পর্যালোচনার তাগিদ দিয়ে চিঠি দেওয়া হবে।

ব্রাসেলসভিত্তিক আর্থিক নেটওয়ার্ক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান সুইফট বিশ্বজুড়ে তিন হাজার প্রতিষ্ঠানের অংশীদারিমূলক সংস্থা। মুখপাত্র জানান, সোমবার সব আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে তাঁদের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার বিষয়টি পর্যালোচনার পরামর্শ দিয়ে লিখিত চিঠি পাঠানো হবে। এ নিয়ে একটি সারসংক্ষেপ তৈরি করা হয়েছে। ইতিমধ্যে সুইফটের কর্মকর্তারা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের সাইবার নিরাপত্তা বিষয়টিকে আরো খতিয়ে দেখার জন্য পরামর্শ দিচ্ছেন। বিশেষ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের এ ঘটনার পর সবাইকে আবারও সতর্ক করার এ পদক্ষেপ নেয় প্রতিষ্ঠানটি। ওই মুখপাত্র বলেন, ‘এ মুহূর্তে আমাদের অগ্রাধিকার হচ্ছে আমাদের গ্রাহকদের তাদের সাইবার নিরাপত্তার বিষয়গুলো আরো ঝালাই করে নেওয়ার ব্যাপারে তাগিদ দেওয়া। ’

বাংলাদেশ ব্যাংকের নিরাপত্তা ফাঁক গলিয়ে আট কোটি ১০ লাখ ডলার নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সুইফট কিছু না বললেও তারা দাবি করেছে, তাদের নিজস্ব ম্যাসেজিং ব্যবস্থার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ত্রুটি নেই। গ্রাহককে সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার ব্যাপারে তারা কোনো ছাড় দেয় না।

এ ব্যাপারে স্বতন্ত্র নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ শেন শোক বলেন, কিছু সুনির্দিষ্ট নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণের ব্যাপারে সুইফট তাদের গ্রাহকদের পরামর্শ দিতে পারে। কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের নেটওয়ার্ক নিরাপদ করেছে কি না এটি পর্যবেক্ষণ করার কোনো সংস্থা নেই। এর অর্থ হচ্ছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর মধ্যে সাইবার নিরাপত্তা সবার একই রকম নয়। কোনো প্রতিষ্ঠান সাইবার হামলার ক্ষেত্রে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে।

সুইফট হচ্ছে বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত আর্থিকসেবা নেটওয়ার্ক। যার মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা বড় বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো একে অন্যের সঙ্গে তথ্য বিনিময় করে এবং লেনদেন করে থাকে। এ ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার নির্ভরযোগ্য মানদণ্ড অনুসরণ করে সুইফট।

বাংলাদেশ ব্যাংকের আট কোটি ১০ লাখ ডলার চুরির ঘটনায় হ্যাকাররা সুইফটের মাধ্যমেই ফেডারেল রিজার্ভের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। কিন্তু এ ক্ষেত্রে নিজেদের নিরাপত্তাসংক্রান্ত কোনো দায় নেয়নি সুইফট। রয়টার্স।


মন্তব্য