kalerkantho

26th march banner

টানা মূল্যপতনে পুুঁজিবাজার

২১ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



টানা মূল্যপতনে পুুঁজিবাজার

ধারাবাহিক পতন থেকে যেন বের হতেই পারছে না দেশের দুই পুুঁজিবাজার। এই বাজারেই কয়েক লাখ বিনিয়োগকারী লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে বসে রয়েছে। অথচ বাজারের এমন মন্দা অবস্থায় মাথা তুলেও দাঁড়াতে পারছে না তারা। আশায় বসে আছে কখন বাজারে গতি ফিরবে। কিন্তু এ জন্য কোনো উদ্যোগই নেই সংশ্লিষ্টদের। চলতি মাসের শুরু থেকেই বাজারে মূল্যপতন চলছে। আগের মাসগুলোতেও বাজার তেমন গতিশীল ছিল না। আগের সপ্তাহের ধারাবাহিকতায় চলতি সপ্তাহের প্রথম দিনেও দুই বাজারের সূচক কমেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিকে ব্যাখ্যা করতে দৃশ্যমান কোনো কারণ নেই। অনেক কম্পানিই ভালো লভ্যাংশও দিয়েছে। কিন্তু অজানা কারণেই বিনিয়োগকারীদের মনে ভীতি কাজ করছে। বাজারে উত্থান-পতন থাকতেই পারে। কিন্তু একটু পতন হলেই সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ভীত হয়ে দূরে চলে যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব হচ্ছে বিনিয়োগকারীদের ভীতি দূর করতে কাজ করা। তারা কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না। অর্থনীতি বিশ্লেষক আবু আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বাজারে এই মন্দা অবস্থার পেছনে কোনো ব্যাখ্যা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক কম্পানি ভালো লভ্যাংশ দিয়েছে। তবুও ধারাবাহিকভাবেই কমছে সূচক। এ ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে একটি ভীতি কাজ করছে। এ থেকে আস্থা ফেরাতে কাজ করা উচিত। ’

গত সপ্তাহের বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চার কার্যদিবস লেনদেনে তিন দিনই বাজারে সূচক কমেছে। একদিন কিছুটা বাড়লেও খুব কম। লেনদেনও কমেছে। সেই ধারাবাহিকতায় গতকাল দেশের দুই বাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচক কমেছে। ডিএসইতে সূচকের পাশাপাশি কমেছে লেনদেনও, আর সিএসইতে সূচক কমেছে, কিন্তু লেনদেন কিছুটা বেড়েছে।

সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস গতকাল রবিবার ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৩৪০ কোটি ৬৯ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড। আর সূচক কমেছে ১৬ পয়েন্ট। লেনদেন কমেছে ৩০ কোটি পাঁচ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৩৭০ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। আর সূচক কমেছিল ২২৯ পয়েন্ট।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বাজারে লেনদেন শুরুর পর থেকেই অতিরিক্ত বিক্রয় চাপ বিরাজ করে। এতে ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকে সূচক। তবে দুপুর ১২টা পর্যন্ত একটানা পতনের পর পরবর্তী সময়ে সূচক কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবুও উত্থানের থেকে পতন বেশি হওয়ায় পতনেই লেনদেন শেষ হয়েছে। দিনশেষে সূচক দাঁড়িয়েছে চার হাজার ৪৩০ পয়েন্ট। ডিএস-৩০ মূল্যসূচক ৪ পয়েন্ট কমে এক হাজার ৬৮৮ পয়েন্ট ও ডিএসইএস শরিয়াহ সূচক ১ পয়েন্ট কমে এক হাজার ৭৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। লেনদেন হওয়া ৩১৮টি কম্পানির মধ্যে বেড়েছে ৯৯টি, কমেছে ১৭৭টি ও অপরিবর্তিত রয়েছে ৪৩টি কম্পানির শেয়ারের দাম।

লেনদেনের ভিত্তিতে শীর্ষে রয়েছে কেয়া কসমেটিকস, সিএমসি কামাল, এএফসি অ্যাগ্রো, অলটেক্স ইন্ডাস্ট্রি, লঙ্কাবাংলা ফাইন্যান্স, আমান ফিডস, ওরিয়ন ইনফিউশন, এমারেল্ড অয়েল, সামিট পাওয়ার ও ফুওয়াং সিরামিকস।

দাম বৃদ্ধির শীর্ষে রয়েছে কেয়া কসমেটিকস, ঢাকা ডায়িং, ফুওয়াং ফুড, ওরিয়ন ইনফিউশন, সায়হাম কটন, এমারেল্ড অয়েল, দেশবন্ধু পলিমার, আমান ফিডস, ইবিএল ও বিএসআরএম। দাম কমার শীর্ষে রয়েছে ওয়ান ব্যাংক, কে অ্যান্ড কিউ, সামিট পূর্বাচল, তাকাফুল ইনস্যুরেন্স।

সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ২৮ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। আর সূচক কমেছে ৩৭ পয়েন্ট। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ২৬ কোটি ৭৭ লাখ টাকা।


মন্তব্য