kalerkantho


স্টিকার ও টোকেন ছাড়া গাড়ি ঢুকবে না ইপিজেডে

রাশেদুল তুষার, চট্টগ্রাম   

২১ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



স্টিকার ও টোকেন ছাড়া গাড়ি ঢুকবে না ইপিজেডে

সরকারি ইপিজেডগুলোর বেশ কয়েকটিতে গাড়ি চলাচলের নতুন পদ্ধতি কার্যকর করা হয়েছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

ট্রাফিক সিস্টেম ঠিক করার নামে দেশের সরকারি রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চলগুলোতে (ইপিজেড) গাড়ি চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বেপজা। সরকারি আট ইপিজেডের বেশ কয়েকটিতে ইতিমধ্যে গাড়ি চলাচলের নতুন এই পদ্ধতি কার্যকর করা হয়েছে। তবে দেশের সর্ববৃহৎ চট্টগ্রাম ইপিজেডে আজ সোমবার থেকে এই পদ্ধতি কার্যকর হবে। বেপজা থেকে বলা হচ্ছে, অননুমোদিত গাড়ি চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতেই নতুন এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে গাড়ি চলাচল নিয়ন্ত্রণের নতুন নিয়মে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন এখানকার বিনিয়োগকারীরা।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী ইপিজেডের ভেতরে গাড়ি চলাচলে স্টিকার ও টোকেন ব্যবহার করতে হবে। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি বেপজা থেকে জারি করা সার্কুলারের মাধ্যমে বেপজার আওতাধীন ইপিজেডগুলোতে প্রবেশকারী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের নামে ক্রয়কৃত গাড়িগুলোতে স্টিকার ও টোকেন ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ জন্য কিছু নীতিমালাও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। নীতিমালা অনুযায়ী বেপজার অনুমোদনক্রমে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের নামে শুল্কমুক্ত আমদানিকৃত গাড়িতে হলুদ রঙের স্টিকার ব্যবহৃত হবে। এ ছাড়া শিল্পপ্রতিষ্ঠানের নামে ক্রয়কৃত অন্যান্য সব গাড়ির জন্য সবুজ রঙের স্টিকার ব্যবহৃত হবে। এর বাইরে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ভাড়াকৃত সব গাড়ি জোনের ভেতরে প্রবেশের ক্ষেত্রে সবুজ রঙের টোকেন ব্যবহার করতে হবে। সব গাড়ির কাগজপত্রের কপি জোন ব্যবস্থাপকের কাছে জমা দিয়ে যাচাই শেষে স্টিকার ও টোকেন দেওয়া হবে। প্রতিটি স্টিকার এক বছরের জন্য ৫০০ টাকা এবং ১০০ টোকেন সংবলিত টোকেন বই ৫০০ টাকা দিয়ে কিনতে হবে।

বেপজা সূত্র জানায়, চট্টগ্রামের কর্ণফুলী ইপিজেডে গত ৭ মার্চ থেকেই গাড়ি চলাচলের নতুন এই পদ্ধতি কার্যকর করা হয়েছে। এরপর থেকে প্রায় প্রতিদিনই বেপজা নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে অনুপ্রবেশকারীদের বাগিবতণ্ডার ঘটনা ঘটছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্ণফুলী ইপিজেডের বিদেশি মালিকানাধীন একটি প্রতিষ্ঠানের সহকারী মহাব্যবস্থাপক পর্যায়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘নতুন এই পদ্ধতিতে জোনের সবাই খুবই বিরক্ত। অডিট কিংবা ক্রেতাদের অনেকেই জরুরি প্রয়োজনে ইপিজেডে আসেন, বিনা টোকেনে তাঁদের গাড়িও জোনের ভেতরে প্রবেশ করতে পারে না। এটা বিব্রতকরও। ’

টোকেন প্রথা চালুর ফলে জোনের অভ্যন্তরে চলাচলকারী সিএনজি ট্যাক্সি প্রবেশ করতে পারছে না। ফলে ইপিজেডের আশপাশ থেকে আসা শ্রমিকদের বিশাল এই জোনের ভেতরে হেঁটে কর্মস্থলে যেতে হচ্ছে।

প্রায় ৫৫ হাজার শ্রমিকের কর্মস্থল কর্ণফুলী ইপিজেডে তবু যানবাহন চলাচলের নতুন এই পদ্ধতি কার্যকর করা সহজ হয়েছে। তবে আজ সোমবার থেকে কার্যকর হতে যাওয়া প্রায় দুই লাখ শ্রমিক অধ্যুষিত দেশের বৃহত্তম চট্টগ্রাম ইপিজেডে এই পদ্ধতি কার্যকর করা বেপজার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। প্রবেশ ও বাহির হওয়ার জন্য একটি মাত্র গেটের কারণে বিপুল এই শ্রমিক সকালে কর্মস্থলে প্রবেশ এবং বিকেলে ছুটির সময় বের হতে গিয়েই বিমানবন্দর রোডটি প্রায় অচল হয়ে পড়ে। সেখানে অনুমোদিত ও অননুমোদিত যানবাহন চেক করতে গেলে বিশৃঙ্খলা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। এর ফলে জটলা সৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে ছুটির সময় যদি গাড়ি চেক করতে গিয়ে বাড়তি জটলার সৃষ্টি হয় তাহলে শ্রম অসন্তোষও দেখা দিতে পারে বলে অনেকেই মনে করছে।

জরুরি প্রয়োজনে জোনে প্রবেশ করতে চাইলে কোন পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে, কিংবা অডিটর ও বায়ারদের জন্য কী ব্যবস্থা হবে সেটাও পরিষ্কার করা হয়নি এখনো। এ ছাড়া শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ভাড়া করা প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস জরুরি প্রয়োজনে অসংখ্যবার জোনের ভেতরে-বাইরে আসা-যাওয়া করে। প্রতিবার টোকেন দিয়ে প্রবেশ করতে হলে সেখানেও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বাড়তি একটি খরচ আছে। এ কারণে বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বৈঠকে বেপজার নতুন এই সিদ্ধান্তের ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল। অনেকেই এই পদ্ধতি কার্যকরে অসুবিধার কথাও তুলে ধরেন। তবে বেপজা নিজেদের সিদ্ধান্ত কার্যকরে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

তবে এ নিয়ে তেমন কোনো ঝামেলা হবে না বলে আশ্বাস দিয়েছেন চট্টগ্রাম ইপিজেডের মহাব্যবস্থাপক মো. খুরশীদ আলম। তিনি গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বায়ার, অডিটর, ইনভেস্টর এবং অতিথিদের যাতে কোনো ধরনের হয়রানির মধ্যে পড়তে না হয় সে ব্যাপারে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া আছে। ’

হঠাৎ যানবাহন প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপে নিরাপত্তাজনিত কোনো কারণ আছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে বেপজার মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) নাজমা বিনতে আলমগীর কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ইপিজেডে কোনো নিরাপত্তাজনিত হুমকি নেই। মূলত অননুমোদিত যানবাহনের প্রবেশ ঠেকানো এবং ট্রাফিক সিস্টেমে শৃঙ্খলা আনতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কী ধরনের গাড়ি ইপিজেডে ঢুকছে বা বের হচ্ছে সেটার ব্যাপারেও একটা নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হবে। দেশের সব ইপিজেডেই এই পদ্ধতি কার্যকর হবে। ’


মন্তব্য