kalerkantho

26th march banner

ফিলিপাইনের জুয়ার বাজার কালো টাকার স্বর্গ

বাণিজ্য ডেস্ক   

২১ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



ফিলিপাইনের জুয়ার বাজার কালো টাকার স্বর্গ

বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক রিজার্ভে হানা দিয়ে হ্যাকাররা যখন অর্থ চুরি করে নিয়ে যাচ্ছিল তখন ফিলিপাইনের কালোবাজারে চলছিল ভাগ-বাটোয়ারার আয়োজন। ফলে চুরি হওয়া অর্থ মুহূর্তে ছড়িয়ে যায় কালো টাকার স্বর্গখ্যাত ফিলিপাইনের জুয়ার বাজারে। যার চার দিন পর সক্রিয় হয় ফিলিপাইন কর্তৃপক্ষ।

বিশ্বের গুটিকয়েক দেশের অন্যতম ফিলিপাইন, যেখানে অত্যন্ত শক্ত আইনের মাধ্যমে ব্যাংক হিসাবধারীর সব গোপনীয়তা রক্ষা করা হয়। অন্যদিকে অর্থপাচার-সংক্রান্ত সব আইন থেকেই মুক্ত ফিলিপাইনের ক্যাসিনো বা জুয়ার আসরগুলো। আর এ সুযোগটি কাজে লাগাতেই বাংলাদেশ ব্যাংকের চুরি যাওয়া আট কোটি ১০ লাখ ডলার পাচারে হ্যাকাররা বেছে নেয় ফিলিপাইনের ব্যাংকিং চ্যানেল। যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে কালোবাজারে।

ফিলিপাইনে শক্তিশালী অর্থপাচার রোধ আইন করার জন্য কাজ করছেন সিনেটর সেরগে ওসমেনা। বার্তা সংস্থা এএফপিকে তিনি বলেন, ‘কালো টাকা পাচারের জন্য ফিলিপাইন খুবই লোভনীয় একটি স্থান। কারণ আমাদের আইনে যথেষ্ট ফাঁকফোকর রয়েছে, যার ভেতর দিয়ে খুব সহজেই এখানে অর্থ পাচার করা যায়। ’ আর আইনের ফাঁকফোকরেই পাচারকারীরা ছাড় পেয়ে যায়। বাংলাদেশ ব্যাংকের এ ঘটনায়ও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। অর্থ ফেরত আনার জন্য ঘটনার চার দিন পর নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ। কিন্তু এর আগেই সব অর্থ জুয়ার আসরে চলে যায়। যে ঘটনায় ভিলেন কিংবা ভিকটিম এখন ব্যাংক ম্যানেজার মায়া সান্তোস-দেগুইতো।

আরসিবিসি মাকাতি সিটির জুপিটার স্ট্রিট শাখার ব্যবস্থাপক মায়া সান্তোস-দেগুইতো এক সাক্ষাত্কারে বলেন, ‘আমি কোনো অপরাধ করিনি। এটি আমার কাছে দুঃস্বপ্ন মনে হচ্ছে। যা থেকে আমি জেগে উঠতে চাই। আমি এখন দিন পার করছি ভয় আর উত্কণ্ঠার মধ্যে। ’

আরবিসি ব্যাংকের এ শাখায় অর্থ আসা এবং তা স্থানান্তর হওয়ার ঘটনায় মায়া সান্তোস দোষী বিবেচিত হলেও এখন পর্যন্ত ব্যাংলাদেশ কিংবা ফিলিপাইন কর্তৃপক্ষই ধোঁয়াশায় রয়েছে আসলে মূল পরিকল্নাকারী কে? যদিও মায়া এ ঘটনায় ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট লরেনজো তানকে অভিযুক্ত করে বলেছেন, তিনিই তাঁকে এ অর্থ স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু প্রেসিডেন্ট অত্যন্ত শক্তভাবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ঘটনার তদন্তে থাকা ফিলিপাইনের সিনেট কমিটি এখনো নিশ্চিত নয় মায়া ঘটনার শিকার নাকি দোষী। কিন্তু তারা এ ব্যাপারে নিশ্চিত যে তিনি মূল পরিকল্পনাকারী নন। এ প্রসঙ্গে সিনেটর রালফ রেক্টো বলেন, ‘এটি একটি ভয়াবহ ঘটনা যা একা ফিলিপাইন থেকে হতে পারে না। ’

সিনেটের তদন্ত কমিটির পাশাপাশি ফিলিপাইন অর্থপাচার রোধ কাউন্সিলের আরেকটি তদন্ত কমিটি এ ঘটনায় বেশ কিছু বিষয় সামনে এনেছে। যার মধ্যে একটি হচ্ছে অর্থ যখন স্থানান্তর হচ্ছিল তখন ব্যাংকের নিরাপত্তা ক্যামেরা অকেজো ছিল। ফলে এ নিয়ে মায়া এবং ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা কমিটির মধ্যে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ বিষয়টি নিয়ে অস্পষ্টতা তৈরি করছে।

সিনেট তদন্ত কমিটির তথ্য অনুযায়ী যেদিন বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব হ্যাক হয় সেদিনই আরসিবিসি মাকাতি সিটির জুপিটার স্ট্রিট শাখার চারটি হিসাবে এ অর্থ পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এ অর্থের একটি বড় অংশ যায় স্থানীয় চীনা ব্যবসায়ী উইলিয়াম গোর হিসাবে। তবে এ ব্যবসায়ী নিজেকে নির্দোষ দাবি করছেন। এ অর্থ কিছু সময়ের জন্য ছিল মুদ্রা রূপান্তরকারী প্রতিষ্ঠান ফিলরেমের কাছে। ফিলরেমের প্রেসিডেন্ট তদন্ত কমিটিকে জানিয়েছেন, তিন কোটি ডলার অর্থ উইকাংগ ঝু নামে একজনের নামে গেছে। যিনি একটি ক্যাসিনো চালান। যদিও সিনেটর কমিটি চীনা এ ব্যক্তিটি সম্পর্কে খুব বেশি জানে না বলে জানিয়েছে। সিনেট কমিটি জানায়, আরো দুই কোটি ৯০ লাখ ডলার ম্যানিলার অদূরে সোলায়রে নামের আরেকটি ক্যাসিনোতে যায়। আরো দুই কোটি ১০ লাখ ডলার গেছে পূর্ব হুয়াই অঞ্চলের একটি ক্যাসিনোতে। সিনেটর ওসমেনা বলেন, ‘ঘটনাটিকে আমাদের কাছে বিশাল বরফখণ্ডের অগ্রভাগই মনে হচ্ছে। কারণ এমন ঘটনা আরো ঘটেছে। আমরা এ বিষয়টি নিয়ে তদন্তে নেমেছি, কারণ অভিযোগ এসেছে। কিন্তু স্বাভাবিকভাবে যদি মিয়ানমার কিংবা চীনের কোনো ড্রাগ ডিলার এ অর্থ পাঠাত তাহলে এ নিয়ে কেউ অভিযোগ করত না। ’ এএফপি।


মন্তব্য