kalerkantho


বিশ্ববাজারে চাল ও গম বাণিজ্য কমবে

বাণিজ্য ডেস্ক   

১৮ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



বিশ্ববাজারে চাল ও গম বাণিজ্য কমবে

আমদানি চাহিদা কমায় এ বছর প্রধান খাদ্যপণ্য চাল ও গমের বাণিজ্য কমবে। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি সংস্থার (ইউএসডিএ) ইকোনমিক রিসার্চ সার্ভিসের প্রতিবেদনে বলা হয়, টানা দ্বিতীয় বছরের মতো ২০১৬ সালেও চালের বাণিজ্য কমবে।

ভারত, অস্ট্রেলিয়া, কম্বোডিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে চালের রপ্তানি কমবে, সেই সঙ্গে আমদানিকারকদের কাছ থেকেও চাহিদা কমবে। অন্যদিকে এ বছর গমের উত্পাদন ও বাণিজ্য কমবে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)।

এফএওর প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৫-১৬ মৌসুমে বিশ্বে গমের বাণিজ্য হবে ১৫১.৫ মিলিয়ন টন। যা আগের মৌসুমের চেয়ে ২.৫ শতাংশ কম। বিশেষ করে মরক্কো, ইরান, তুরস্ক এবং উজবেকিস্তানসহ বেশ কিছু দেশ থেকে আমদানি চাহিদা কমায় গমের বাণিজ্য কমবে। সংস্থার মতে, এ বছর চালের বাণিজ্যও কমবে। ফিলিপাইন, শ্রীলঙ্কাসহ আমদানিকারক দেশগুলো থেকে চাহিদা কমায় চালের বাণিজ্য কমবে। আফ্রিকার সাব-সাহারা অঞ্চলে পণ্যটির চাহিদায় মন্দাও এর লেনদেন কমাতে ভূমিকা রাখবে।

বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ চাল আমদানিকারক দেশ নাইজেরিয়া।

ট্যারিফ মূল্যবৃদ্ধির কারণে চলতি বছর দেশটির চাল আমদানি ১৭ শতাংশ কমতে পারে বলে ধারণা করছে সংশ্লিষ্টরা। নাইজেরিয়ার পাশাপাশি আইভোরি কোস্ট, কিউবা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), নেপাল ও শ্রীলঙ্কায় চলতি বছর চাল আমদানি হ্রাসের সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশ্বের বৃহৎ চাল আমদানিকারক দেশ চীন। দেশটিতে পণ্যটির চাহিদা বৃদ্ধি সত্ত্বেও এর বৈশ্বিক লেনদেন ব্যাহত হবে। চলতি বছর চীনের চাল আমদানি বাড়তে পারে ৪ শতাংশ। অভ্যন্তরীণ বাজারের তুলনায় আন্তর্জাতিক বাজারে চালের দাম কম থাকায় মজুদ বাড়াতে দেশটির সরকার পণ্যটির আমদানি বাড়াচ্ছে। এর আগে ২০১২ সালে চীনের চাল আমদানি রেকর্ড বেড়েছিল। চীনের সঙ্গে এবার মধ্যপ্রাচ্য ও ইন্দোনেশিয়ায় চাল আমদানি বাড়তিতে থাকবে।

এফএও জানায়, বিশ্বে গমের ভাণ্ডার খ্যাত রাশিয়া ও ইউক্রেনে এ বছর গমের আবাদ কমবে। তাই সার্বিক হিসাবে বৈশ্বিক উত্পাদনও কমবে। চলতি মৌসুমে বিশ্বব্যাপী গম উত্পাদন হবে ৭২৩ মিলিয়ন টন। যা আগের বছরের তুলনায় ১.৪ শতাংশ কম।

সংস্থা জানায়, শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে রাশিয়া ও ইউক্রেনে শীতকালীন আবাদ কমবে। যদিও চীন ও পাকিস্তানে রেকর্ড গম উত্পাদন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে গতবারের উত্পাদন কমার পর এ বছর স্বাভাবিক উত্পাদনে আসবে ভারত। এফএও আরো জানায়, গত বছর বিশ্বে মোট খাদ্যশস্য উত্পাদন হয়েছিল দুই হাজার ৫২৫ মিলিয়ন টন। ২০১৬ সালে শেষ হওয়া মৌসুমে বিশ্বে খাদ্যশস্যের মজুদ থাকবে ৬৩৬ মিলিয়ন টন। পরিমাণ হিসাবে ২০১৫-১৬ মৌসুমে বিশ্বে খাদ্যশস্য বাণিজ্য কমবে ২.০ শতাংশ। এএফপি, কমোডিটি অনলাইন।


মন্তব্য