kalerkantho


আখাউড়া স্থলবন্দরে ভ্রমণ কর ফাঁকি চলছেই

বিশ্বজিৎ পাল বাবু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া   

১৭ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



ইমিগ্রেশন পুলিশের হিসাব মতে, গত ১ মার্চ ৮০ জন বাংলাদেশি ও ২৫ জন ভারতীয় নাগরিক ভারতে গমন করে। ২ মার্চ গমন করে ৭৩ জন বাংলাদেশি ও ২৬ জন ভারতীয় নাগরিক। তবে কাস্টমসের হিসাব মতে, গত ১ মার্চ ৪১ জন বাংলাদেশি ও ১৯ জন ভারতীয় এবং ২ মার্চ ৫৫ জন বাংলাদেশি ও ১৯ জন ভারতীয় নাগরিক ভারত গমন করে। এই হিসাব থেকে দেখা যায়, কাস্টমস ও ইমিগ্রেশনের তালিকায় রয়েছে ফাঁরাক। ইমিগ্রেশনের তুলনায় কাস্টমসে নথিভুক্ত হওয়া যাত্রীর সংখ্যা কম। ধারণা করা হয়, যারা কাস্টমসে এসে নাম ‘নথিভুক্ত’ করায় না তাদের বেশির ভাগই ভ্রমণ কর ফাঁকি দিয়ে ভারতে চলে যায়। সরেজমিনে গিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দরে ভ্রমণ কর ফাঁকির বিষয়টি চোখে পড়ে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে বৈধভাবে এপার-ওপার হওয়া যাত্রীদের কাছ থেকে ভ্রমণ কর আদায় করা যাচ্ছে না।

এ অবস্থায় সম্প্রতি কাস্টমস একটি উদ্যোগ নিলে যাত্রীদের প্রতিবাদের মুখে তা ভেস্তে যায়। অবশ্য ওই প্রক্রিয়াটি নিয়ে আইনি জটিলতাও রয়েছে। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ভ্রমণ কর ফাঁকি ঠেকাতে ইমিগ্রেশনের সহায়তা চাওয়ার পাশাপাশি নতুন কোনো প্রক্রিয়া অনুসরণের কথা ভাবছে না।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভারত গমন করার সময় যেকোনো দেশের নাগরিককে বাংলাদেশে ৫০০ টাকা হারে ভ্রমণ কর দিতে হয়। ভ্রমণ কর পরিশোধের জন্য স্থলবন্দরে সোনালী ব্যাংকের একটি বুথ রয়েছে। তবে সরকারি ছুটির দিনগুলোতে বিশেষ ব্যবস্থায় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ এ কর আদায় করে থাকে। তবে প্রক্রিয়াটি নিয়েও অস্বচ্ছতার অভিযোগ আছে। কেননা শুধু একটি সাদা কাগজে সিল মেরে যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা রাখা হলেও তা আদৌ জমা হয় কি না এটা যাত্রীরা জানতে পারে না।

কাস্টমসের একটি সূত্র জানায়, অনেক যাত্রীই দীর্ঘদিন ধরে কাস্টমসে এসে নিজেদের নাম এন্ট্রি না করেই ইমিগ্রেশনে চলে যায়। ওই সব যাত্রী বিশেষ করে স্থলবন্দরের বেশির ভাগ ব্যবসায়ী ভ্রমণ কর ফাঁকি দিতেই কাস্টমসে নাম লেখাতে আসেন না। বিষয়টি নজরে এলে গত মঙ্গলবার কুমিল্লায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এক বৈঠকে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ভারত গমনকারী প্রত্যেক যাত্রীর পাসপোর্টে ৫০০ টাকা আদায়ের সিল মারতে শুরু করে। ইমিগ্রেশনকেও বলে দেওয়া হয়, কেউ যেন এ সিল ছাড়া ভারতে প্রবেশ করতে না পারে।

কিন্তু ভারত ও বাংলাদেশের একাধিক যাত্রীর পক্ষ থেকে এ নিয়ে আপত্তি ওঠে। যাত্রীরা অভিযোগ করে, কাস্টমস কর্তৃপক্ষ কোনো পাসপোর্টে এভাবে সিল মারার নিয়ম নেই। এ ছাড়া টাকা আদায়ের এমন সিল দেওয়া হলে ভিসাসংক্রান্ত জটিলতাও দেখা দিতে পারে বলে তারা অভিযোগ করে। এ অবস্থায় দুপুর ১২টার পর সিল মারা বন্ধ করে দেয় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

আখাউড়া স্থলবন্দরের ব্যবসায়ী মো. মনির হোসেন বাবুল অভিযোগ করেন, কেউ ভ্রমণ কর না দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে সে বিষয়ে কাস্টমস ব্যবস্থা নিতে পারে। কিন্তু নিয়মনীতি না মেনে এভাবে সিল মারা কোনোভাবেই ঠিক হয়নি।

স্থলবন্দরের রাজস্ব কর্মকর্তা এরশাদ আলী খান ভুট্টো বলেন, ‘আমি আসার পর থেকে দেখছি অনেকে ভ্রমণ কর না দিয়েই চলে যাচ্ছে। এ অবস্থায় আলোচনা করে পাসপোর্টে সিল মারার ব্যবস্থা করি। একদিন কয়েকটি পাসপোর্টে সিল মারার পর ব্যবসায়ীরা এসে বলে গেছেন এখন সবাই যেন ভ্রমণ কর দিয়ে যায় সে ব্যাপারে সহযোগিতা করা হবে। এ অবস্থায় আমরা সিল মারা বন্ধ করি। ’ তিনি বলেন, ‘ভৌগোলিক ও অবকাঠামোগত কারণে ভ্রমণ কর ফাঁকি দিয়ে চলে যাওয়ার বিষয়টি রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। ’


মন্তব্য