kalerkantho


২৬ এপ্রিল হংকংয়ে পঞ্চম বিনিয়োগ সম্মেলন

অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের প্রস্তাব দেবে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের প্রস্তাব দেবে সরকার

কয়েক বছরে দেশের আর্থসামাজিক সূচকগুলোতে অভাবনীয় সাফল্য এলেও বিদেশি বিনিয়োগে ছিল হাহাকার। বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আনতে সরকার নানা ধরনের প্রণোদনার ঘোষণা দেওয়া হলেও তেমন সাড়া মেলেনি।

বহুজাতিক কম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে আনতে কয়েক বছর ধরে বিদেশে গিয়ে ‘রোড শো’ করে আসছে বিনিয়োগ বোর্ড। সরকারি সংস্থার পাশাপাশি সিটি ব্যাংক ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকও বিদেশের মাটিতে বিনিয়োগ সম্মেলন করে আসছে। উদ্দেশ্য একটি—বিশ্বের সামনে বাংলাদেশকে তুলে ধরা। বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ উত্কৃষ্ট স্থান, বহুজাতিক কম্পানিগুলোকে তা জানান দেওয়া। প্রতিবারের ধারাবাহিকতায় এবার হংকংয়ে ‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট সামিট’ আয়োজন করতে যাচ্ছে সিটি ব্যাংক ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক। আগামী ২৬ এপ্রিল হংকংয়ের রিটজ-কার্লটনে দিনব্যাপী এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে; সেখানে প্রধান অতিথি থাকবেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। আয়োজকরা বলছেন, সম্মেলনে অর্থলগ্নিকারী প্রতিষ্ঠান, রেটিং এজেন্সি, বেসরকারি ব্যাংক, সংস্থার এমডি, সিইওসহ আড়াই শতাধিক গুরুত্বপূর্ণ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন।

হংকং এ বিনিয়োগ সম্মেলনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরতে গতকাল বুধবার রাজধানীর হোটেল ওয়েস্টিনে এক সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়। সেখানে বিনিয়োগ সম্মেলনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও সোহেল আর কে হুসেইন এবং স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের সিইও আবরার এ আনোয়ার।

এ সময় বিনিয়োগ বোর্ডের যুগ্ম সচিব তৌহিদুর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও সোহেল আর কে হুসেইন বলেন, হংকং এ বিনিয়োগ সম্মেলনে বাংলাদেশের ইতিবাচক ব্যবসার পরিবেশ তুলে ধরা হবে। বাংলাদেশ বিনিয়োগের জন্য অন্যতম সম্ভাবনার দেশ, তা বিশ্বের দরবারে জানান দেওয়া হবে। তিনি বলেন, এবারের সম্মেলনে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে (এসইজেড) বিনিয়োগ করতে বড় বড় কম্পানিকে অনুরোধ জানানো হবে। সরকার অর্থনৈতিক অঞ্চলের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। ইতিমধ্যে ৪৬টি অর্থনৈতিক অঞ্চল অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আরো কতগুলো অনুমোদনের অপেক্ষায়। অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগ করলে কী কী প্রণোদনা দেওয়া হবে, তা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সামনে তুলে ধরা হবে। এর পাশাপাশি ওষুধশিল্প, পোশাকশিল্প, লেদারশিল্প, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগের সম্ভাবনার কথা বিনিয়োগকারীদের জানানো হবে।

স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের সিইও আবরার এ আনোয়ার বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন খাতে আমাদের অর্থনীতির আরো উন্নতি করার সুযোগ রয়েছে। সেসব খাতে বিনিয়োগ করতে আমরা বিদেশি বড় বড় উদ্যোক্তাকে আহ্বান জানাব। ’ তিনি বলেন, কয়েক বছর ধরে দেশে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশের ঘরে আটকে আছে। ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনে আরো বেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন। বিদ্যুৎ, অবকাঠামো, গভীর সমুদ্রবন্দর ও সড়ক খাতে আরো বেশি করে অর্থ জোগান দেওয়া জরুরি। এ সম্মেলনে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে অর্থমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি। বিনিয়োগ সম্মেলনে উদ্দেশ্য সম্পর্কে আবরার এ আনোয়ার বলেন, বিশ্বের সামনে বাংলাদেশকে পরিচিত করে তোলাই এসব বিনিয়োগ সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য। বিদেশে বিনিয়োগ সম্মেলন করার কারণে এরই মধ্যে তিনটি বড় প্রকল্প জমা হয়েছে। আরো দুটি বড় প্রকল্প নিয়ে আলোচনা চলছে।

বিনিয়োগ বোর্ডের যুগ্ম সচিব তৌহিদুর রহমান খান বলেন, বিদেশি উদ্যোক্তাদের সামনে সরকারের পক্ষ থেকে কথা বললে তারা তেমন গুরুত্ব দেয় না। সরকারের কথার ওপর অনেকে বিশ্বাস রাখতে পারে না। তবে দেশের সম্ভাবনার কথা যদি বেসরকারি পর্যায় থেকে কথা বলা হয়, সেটি অনেক বেশি কার্যকর হয়। সিটি ব্যাংক ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের পক্ষ থেকে দেশের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরলে তারা বিশ্বাস করবে। বিনিয়োগ সম্মেলনের জন্য হংকং ভালো জায়গা বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এবারের বিনিয়োগ সম্মেলনে ‘বাংলাদেশে আগামীর মুদ্রানীতি’ বিনিয়োগ সুযোগ বাড়াতে সরকারি উদ্যোগ, বর্তমানে বাংলাদেশে বিনিয়োগ, আইসিটি খাতে রপ্তানির সম্ভাবনা, সরকারি বেসরকারি অংশীদারি বা পিপিপি এবং পুঁজিবাজারের নিয়ে প্যানেল আলোচনা হবে।


মন্তব্য