kalerkantho

25th march banner

বাজেটের অর্থ খরচে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



বাজেটের অর্থ খরচে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতের দাবি

প্রতিবছর বাজেটে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষাসহ বিভিন্ন খাতে যে পরিমাণ টাকা দেওয়া হয়, সেই টাকার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন দেশের বেসরকারি (এনজিও) খাতের প্রতিনিধিরা। তাঁরা বলেছেন, প্রতি অর্থবছর বাজেটের আকার বাড়ছে। কিন্তু বাজেটের অর্থ খরচে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। বরং অর্থ খরচে অনিয়ম ও দুর্নীতির হার বাড়ছে। তাই বাজেটের আকার বাড়ানোর পাশাপাশি সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর শেরে বাংলানগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে আগামী ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা এসব পরামর্শ দেন।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ মেজবাহউদ্দিন, পরিকল্পনাসচিব তারিক উল ইসলামসহ আরো অনেকে। এনজিও প্রতিনিধিদের মধ্যে ব্র্যাক, আশা, জনস্বাস্থ্য কেন্দ্র, বাপা, পবা, নগর গবেষণা কেন্দ্রসহ অন্যান্য সংস্থার প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে বক্তারা  রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের যানজট কমাতে একটি আলাদা বিভাগ চালুর পরামর্শ দেন। সেই বিভাগের কাজই হবে যানজট নিয়ন্ত্রণ। আর সেখানে পুলিশ বিভাগের কোনো কর্মকর্তাকে রাখা যাবে না। প্রতিবছর বাজেট প্রণয়নের আগে বিভিন্ন সংসদীয় কমিটি, অর্থনীতিবিদ, অর্থনৈতিক থিংক ট্যাংক, বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন অর্থমন্ত্রী। সেই ধারাবাহিকতায় এবারও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন অর্থমন্ত্রী।

আলোচনায় অংশ নিয়ে জনস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ দিয়ে যদি সেই টাকা জনগণের কল্যাণে না আসে, তাহলে টাকা দিয়ে লাভ কী? পড়াশোনা শেষ হওয়ার পর ডাক্তারদের যখন গ্রামের হাসপাতালে পাঠানো হয়, কেউ যান না। সবাই তদবির করে ঢাকায় থাকেন। এতে গ্রামের মানুষ সঠিক চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হয়। তাহলে যে টাকা খরচ করে ডাক্তার বানানো হলো, তা দিয়ে জনগণের কী উপকার হলো?’

জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘পুলিশের কর্মস্থলের পাশে তার বাসস্থানের সুযোগ নেই। তার বাসস্থানের ব্যবস্থা করতে পারছে না সরকার। ওষুধের দাম বাড়ছে, যে ওষুধের দাম ৫০০ টাকা, সেই ওষুধ বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৮০০ টাকা। যা মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। আবার প্রেসক্রিপশনে ১২ ধরনের ওষুধের নাম লেখা হলেও এর মধ্যে আটটিই থাকে অপ্রয়োজনীয়। স্বাস্থ্য খাতে সুশাসন ও কোনো ধরনের জবাবদিহি নেই। সরকার ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে আর কেউ করতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেন জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

নারী নেত্রী আয়শা খানম বলেন, ‘সরকার গত কয়েক বছর ধরে জেন্ডার বাজেট দিয়ে আসছে। কিন্তু এ জেন্ডার বাজেটের অর্থ সঠিকভাবে খরচ হচ্ছে কি না তার কোনো প্রতিবেদন নেই। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিও নেই। ’ তাই আগামী বাজেট থেকে জেন্ডার বাজেটে যে টাকা বরাদ্দ দেওয়া হবে, সেই টাকা সঠিকভাবে খরচ হয় কি না তা নজরদারি ও মূল্যায়নের দাবি জানান তিনি।

বেসরকারি সংস্থা আশার প্রতিনিধি আবদুল আজিজ বলেন, ‘শিক্ষা খাতে ভর্তির হার বাড়ছে ঠিকই, তবে গুণগত মান নিশ্চিত হয়নি। শিক্ষকদের মান বাড়েনি। আগের মতোই শিক্ষার মান রয়ে গেছে। তা ছাড়া হাওর ও পাহাড়ি অঞ্চলে শিক্ষার অবস্থা আরো করুণ। ’ সেখানে প্রাথমিক শিক্ষায় শতভাগ ভর্তি ও ঝরেপড়ার হার রোধ করতে প্রণোদনা দেওয়ার দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে আসছে বাজেটে শিক্ষা খাতে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও অবকাঠামো খাতে বাড়তি বিনিয়োগের পরামর্শ দেন আবদুল আজিজ।

পরিবেশ নিয়ে কাজ করা পবার সভাপতি আবু নাসের খান বলেন, ‘বর্তমানে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা অত্যন্ত হতাশাজনক। ’ তিনি অভিযোগ করেন, পরিবেশ মন্ত্রণালয়ে বিক্ষিপ্তভাবে অর্থ খরচ হচ্ছে, পরিকল্পিতভাবে অর্থ খরচ না করায় জনগণও সুফল পাচ্ছে না। তাই পরিবেশ মন্ত্রণালয়কে অর্থ খরচে একটি মাস্টারপ্ল্যান তৈরির আহ্বান জানান তিনি। সেই মাস্টারপ্ল্যানের আলোকে পরিকল্পনা প্রণয়ন হবে। সেই আলোকে অর্থ বরাদ্দ হবে। খরচও হবে।

অ্যারোমা দত্ত বলেন, ‘প্রতিবছর বাজেটের আকার বাড়ছে। সে জন্য অর্থমন্ত্রী প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রতিবছর গ্রাম থেকে যেভাবে লোকজন উদ্বাস্তু হয়ে শহরে আসছে, সরকারকে সেদিকে নজর দেওয়া উচিত। গ্রাম থেকে ওইসব উদ্বাস্তু কোথায় যায়, কিভাবে থাকে, তা দেখতে হবে। একই সঙ্গে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা সরকারকেই করতে হবে। ’ তিনি বলেন, ‘দরিদ্রতা আমাদের সমস্যা নয়, প্রধান সমস্যা হলো সুশাসন। ’

সাংবাদিক আবদুল জাব্বার মেহমান বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে অর্থ চুরির ঘটনা অত্যন্ত লজ্জাজনক। ভবিষ্যতে হয়তো বাংলাদেশ ব্যাংকও চুরি হয়ে যাবে। ’ তাই ব্যাংকের নিরাপত্তা জোরদারে অর্থমন্ত্রীকে অনুরোধ জানান তিনি। বক্তারা শিক্ষক ও ডাক্তারদের গ্রামে রাখতে বিশেষ প্রণোদনা দিতে অর্থমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান।


মন্তব্য