kalerkantho

26th march banner

আধুনিকায়নে রাষ্ট্রায়ত্ত ছাতক সিমেন্ট কারখানা

প্রকল্প শেষ হলে প্রতিদিন এক হাজার টন ক্লিংকার উত্পাদন সম্ভব হবে

শামস শামীম, সুনামগঞ্জ   

১৫ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



অবশেষে রাষ্ট্রায়ত্ত ছাতক সিমেন্ট কারখানা আধুনিকায়নে এগিয়ে এলো সরকার। গত সপ্তাহে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে কারখানার উন্নয়নে বিশেষ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। একনেকে ১৬ হাজার ৮৮৭ কোটি ৮১ লাখ টাকার ১৬টি প্রকল্পের মধ্যে ছাতক সিমেন্ট কম্পানির এ প্রকল্পও অনুমোদিত হয়। সেকেলে উত্পাদন পদ্ধতি ওয়েট প্রসেস থেকে ড্রাই প্রসেসে আনতে সরকার এ প্রকল্পে প্রায় ৬৬৬ কোটি ৮২ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে।

আগামী চার বছরের মধ্যে এ প্রক্রিয়ায় আধুনিক পদ্ধতিতে বেসরকারি কম্পানির সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে ক্লিংকার উত্পাদনে আসবে ছাতক সিমেন্ট কারখানাটি। এর ফলে বাজারে সিমেন্টের দামও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। পূর্ণাঙ্গভাবে এ প্রকল্পের কাজ শেষ হলে প্রতিদিন এক হাজার টন ক্লিংকার উত্পাদন করবে প্রতিষ্ঠান। যা থেকে প্রতিদিন প্রায় ৫০ লাখ টাকা আয় করা যাবে।

সরকারের অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণী ফোরাম প্রতিষ্ঠানটির আধুনিকায়নে উদ্যোগ নেওয়ায় ৭৮ বছরের পুরনো এই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠেছেন। সরকারি এই সিদ্ধান্তের আলোকে কারখানাটি প্রতিযোগিতামূলক বাজারে হারানো আসন ফিরে পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা যায়, দেশের ৫৫টি সিমেন্ট কারখানার মধ্যে ছাতক সিমেন্ট ফ্যাক্টরি ও লাফার্জ সিমেন্ট ফ্যাক্টরি বাদে বাকি ৫৩টি কারখানা বিদেশ থেকে ক্লিংকার আমদানি করে। এতে খরচ কম পড়ায় তারা বাজারে কম দামে সিমেন্ট বিক্রি করার সুযোগ পায়। এ তুলনায় রাষ্ট্রায়ত্ত এ সিমেন্ট কারখানা প্রতিযোগিতামূলক বাজারে পিছিয়ে আছে। ২০০৩ সাল থেকে এ কারণেই কারখানাটি বিপুল অঙ্কের লোকসান গুনছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। কারখানার দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তা জানান, ওয়েট প্রসেসে ক্লিংকার উত্পাদন করায় উত্পাদন খরচ বেশি পড়ে। এ প্রক্রিয়ায় পাথর ও অন্যান্য কাঁচামাল প্রসেসিং করতে দেড়গুণ গ্যাস লাগে। এতে খরচ পড়ে অত্যধিক। বাজারের তুলনায় দাম বেশি পড়ায় অন্যান্য সিমেন্ট কম্পানিগুলো ক্লিংকার কিনতে চায় না। ফলে বর্তমানে প্রায় ১০ কোটি টাকার ক্লিংকার পড়ে আছে। এসব কারণে ২০০৩ সাল থেকে প্রতি মাসে প্রায় তিন কোটি টাকা করে লোকসান দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হলে সম্পূর্ণ বদলে যাবে উত্পাদনব্যবস্থা। এতে প্রতিদিন প্রায় এক হাজার টন ক্লিংকার সহজে ও কম খরচে উত্পাদন করা যাবে।


মন্তব্য