kalerkantho


সবজি রপ্তানি বন্ধ হয়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৪ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



সবজি রপ্তানি বন্ধ হয়নি

বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্যে সরাসরি বিমানযোগে পণ্য পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা এলেও সবজি ও ফল রপ্তানি বন্ধ হয়ে যায়নি। রপ্তানিকারকরা জানিয়েছেন, এখন তাঁদের পণ্য সরাসরি না গিয়ে অন্য দেশের বিমানবন্দর হয়ে যুক্তরাজ্যের বাজারে পৌঁছাচ্ছে। এ জন্য সময় একটু বেশি লাগছে। তবে বিমান পরিবহন সংস্থা বা এয়ারলাইনসগুলো খরচ এখনো বাড়ায়নি।

গত ৯ মার্চ যুক্তরাজ্য হযরত শহাজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপত্তার ঘাটতির কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশ থেকে সরাসরি পণ্য পরিবহনকারী কার্গো বিমান চলাচলে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। দেশটির সরকার বলেছে, বাংলাদেশ থেকে পণ্য পাঠাতে হলে তৃতীয় কোনো দেশের বিমানবন্দরে চালান পরীক্ষা বা স্ক্যানিং শেষে পাঠাতে হবে।

বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা এখন ওই পদ্ধতি অনুসরণ করে রপ্তানি করছেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ফ্রুটস, ভেজিটেবলস অ্যান্ড অ্যালাইড প্রোডাক্টস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মনসুর। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের পণ্য রপ্তানি বন্ধ হয়নি। নিষেধাজ্ঞা আসার পর আমরা দুই-এক দিন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছি। এখন এয়ারলাইনসগুলো তৃতীয় দেশ হয়ে আমাদের পণ্য নেওয়া শুরু করেছে। ’

বাংলাদেশের সবজি ও বিভিন্ন ফলের সবচেয়ে বড় বাজার যুক্তরাজ্য। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ১৪ কোটি ১৬ লাখ ডলারের ফল ও সবজি রপ্তানি হয়েছে। রপ্তানিকারকদের দাবি, এর মধ্যে ৪০ শতাংশই গেছে যুক্তরাজ্যে। ফল ও সবজি রপ্তানির সঙ্গে বাংলাদেশের প্রায় ২০০ রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। যুক্তরাজ্যে সরাসরি পণ্য পরিবহন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা মারাত্মক সংকটের আশঙ্কা করছিল।

গতকাল শনিবার বিমানবন্দরে গিয়ে দেখা গেছে, অন্যান্য দিনের মতোই সবজি মোড়কজাত করছে শ্রমিকরা। তারা জানিয়েছে, অন্যান্য দেশের পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের জন্যও সবজি মোড়কে ভরা হচ্ছে। প্যাকেটের গায়ে যুক্তরাজ্যের জন্য কথাটি লেখা লেবেলও দেখা গেছে। তবে বিমানবন্দরের কেউ এ নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

মোহাম্মদ মনসুর আরো বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশ বিমানে পণ্য রপ্তানি করতাম না। কারণ সেখানে ভাড়া বেশি ছিল। এর বাইরে এমিরেটস, কাতার, ইত্তেহাদ ও কুয়েত এয়ারলাইনসে বাংলাদেশের সবজি ও ফল রপ্তানি হতো। ওই সব বিমান পরিবহন কম্পানি এখন বাংলাদেশ থেকে পণ্য নিয়ে নিজেদের দেশে স্ক্যানিং শেষে যুক্তরাজ্যে পাঠাচ্ছে। একটি ফ্লাইট পাল্টে আরেকটি ধরতে পাঁচ থেকে আট ঘণ্টা সময় বেশি লাগছে। ’

মোহাম্মদ মনসুর বলেন, একটু বেশি সময় লাগলেও তাতে সবজির ক্ষতি হয় না। অনেক সময় যুক্তরাজ্যে গিয়েও বিমানবন্দরে সবজি কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষার পর সরবরাহ করতে হয়। ফলে সময় একটু বেশি লাগলেও বিশেষ কোনো অসুবিধা হচ্ছে না। সবজির গুণগত মানে প্রভাব পড়ছে না। তাঁর নিজের একটি সবজির চালান আজ যুক্তরাজ্যে যাওয়ার কথা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

প্রচুর প্রবাসী বাংলাদেশি যুক্তরাজ্যে বসবাস করে। তারাই মূলত বাংলাদেশি ফল ও সবজির মূল ক্রেতা। সেখানে প্রায় সব ধরনের সবজি, লেবু, কাঁচা মরিচ ও শাকপাতা রপ্তানি হয়। মৌসুমি বিভিন্ন ফলও যায় সবজির চালানের সঙ্গে। গত বছর বাংলাদেশ চেইন স্টোর ওয়ালমার্টে আম সরবরাহও শুরু করেছে। মোহাম্মদ মনসুর বলেন, নিষেধাজ্ঞার পরে তাঁদের পণ্য এখন ঢাকার বিমানবন্দরে এক দফা স্ক্যানিং হচ্ছে, দ্বিতীয় দফা স্ক্যানিং হচ্ছে অন্য দেশের বিমানবন্দরে। তবে দ্বিতীয় দফা স্ক্যানিংয়ের জন্য এখনো বাড়তি অর্থ চাওয়া শুরু করেনি এয়ারলাইনসগুলো।

এদিকে আগামীকাল মঙ্গলবার সার্বিক বিষয় পর্যালোচনার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় একটি বৈঠক ডেকেছে। সেখানে রপ্তানিকারক ও সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন।


মন্তব্য