kalerkantho


আজ দেওয়া হবে প্রাক-লাইসেন্স

অর্থনৈতিক অঞ্চলের অনুমতি পাচ্ছে মায়িশা গ্রুপ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৪ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



অর্থনৈতিক অঞ্চলের অনুমতি পাচ্ছে মায়িশা গ্রুপ

রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় বেসরকারিভাবে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল করার অনুমতি পেতে যাচ্ছে ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য আসলামুল হকের মালিকানাধীন মায়িশা গ্রুপ। সংসদ ভবন থেকে ঠিক চার কিলোমিটার দূরে বসিলা সেতুর পাশে বুড়িগঙ্গা নদীর তীর ঘেঁষে আপাতত ৫০ একর জমির ওপর গড়ে উঠবে ‘আরিশা প্রাইভেট ইকোনমিক জোন’। এরপর ধাপে ধাপে আরো ৩৫ কিলোমিটারজুড়ে অর্থনৈতিক অঞ্চলের কর্মকাণ্ড সম্প্রসারিত হবে।

আজ সোমবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বিডিবিএল ভবনে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) কার্যালয়ে মায়িশা গ্রুপের কর্ণধার আসলামুল হকের কাছে অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রাকযোগ্যতা লাইসেন্স তুলে দেবেন বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী। প্রাকযোগ্যতা লাইসেন্স পাওয়ার পর আগামী এক বছরের মধ্যে প্রকল্প এলাকার নকশা তৈরি, বিস্তারিত সমীক্ষা, পরিবেশ মূল্যায়ন ছাড়পত্রসহ আনুষঙ্গিক কাজ শেষ করবে কম্পানি। এগুলো শেষ করতে পারলে মিলবে চূড়ান্ত লাইসেন্স।

মায়িশা গ্রুপ অর্থনৈতিক অঞ্চল করার জন্য প্রাকযোগ্যতা লাইসেন্স পেলে বেসরকারিভাবে সেটি হবে দেশের অষ্টম। এর আগে আবদুল মোনেম, এ কে খান, পাওয়ার প্যাক, মেঘনা গ্রুপের দুটি, আমান গ্রুপ এবং বে গ্রুপকে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করার জন্য প্রাকযোগ্যতা লাইসেন্স দিয়েছে বেজা। এর মধ্যে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ছয়টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের ভিত্তিপ্রস্তরও স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

জানতে চাইলে মায়িশা গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসলামুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে দেশে দ্রুত শিল্পায়নের লক্ষ্যে আমরা মায়িশা গ্রুপ ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির ওপর অর্থনৈতিক অঞ্চল করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। আমরা প্রধানমন্ত্রীর হাতকে শক্তিশালী করতে চাই। সে জন্য আপাতত ৫০ একর জমির ওপর অর্থনৈতিক অঞ্চলটি প্রতিষ্ঠিত হবে। পরে আরো সম্প্রসারণ করা হবে। ’ আসলামুল হক বলেন, ‘আরিশা অর্থনৈতিক অঞ্চলে এক লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। সেখানে শিল্প-কারখানা থেকে উত্পাদিত পণ্য বিদেশে রপ্তানি করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে করে প্রচুর পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন হবে। ’ এর মাধ্যমে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে গতিশীলতা আসবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন আসলামুল হক।

আরিশা অর্থনৈতিক অঞ্চলের সমন্বয়ক মোস্তাফিজুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ঢাকার খুব কাছে হওয়ায় আরিশা অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগ করতে এরই মধ্যে জাপান, মালয়েশিয়া, রাশিয়াসহ অনেক দেশের বিনিয়োগকারীরা যোগাযোগ করেছে। আরিশা অর্থনৈতিক অঞ্চলে মূলত অটোমোবাইল, আইসিটি, কৃষিজাত পণ্য প্রক্রিয়াকরণ, ফ্যাশন ডিজাইনসহ অন্যান্য কারখানা নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে মোট ২০০টি শিল্প প্লটের ব্যবস্থা রাখা হবে। ’ মোস্তাফিজুর রহমান আরো বলেন, ‘আমরা পানগাঁও বন্দরের সঙ্গে সংযোগ সড়ক নির্মাণের ব্যবস্থা করছি, যাতে নৌপথে খুব সহজেই পণ্য চলাচল সহজ হয়। ’

বেজার কর্মকর্তারা বলছেন, আগামী ১৫ বছরে দেশে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের মধ্যে ৪৬টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের অনুমোদন দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে গঠিত গভর্নিং বোর্ড। বাকিগুলোও অনুমোদনের অপেক্ষায়। সেসব অর্থনৈতিক অঞ্চলে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক অঞ্চল থেকে ৪০ বিলিয়ন ডলার পণ্যের রপ্তানির পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। কর্মকর্তারা বলছেন, বেসরকারিভাবে অর্থনৈতিক অঞ্চল করতে অনেক প্রতিষ্ঠান এগিয়ে এসেছে। ইতিমধ্যে সাতটি প্রতিষ্ঠানকে প্রাকযোগ্যতা লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় মায়িশা গ্রুপকে অর্থনৈতিক অঞ্চল করার প্রাকযোগ্যতা লাইসেন্স দেওয়া হচ্ছে। বেসরকারিভাবে আরো কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে অর্থনৈতিক অঞ্চল দেওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান বেজার কর্মকর্তারা।


মন্তব্য