kalerkantho

26th march banner

৮৮ হাজার কোটি টাকার সংশোধিত এডিপি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৪ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



৮৮ হাজার কোটি টাকার সংশোধিত এডিপি

অর্থবছরের অর্ধেক সময় পেরোতে না পেরোতেই বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বা এডিপি কাটছাঁট শুরু হয়েছে। ফি বছরের মতো এবারও সংশোধিত এডিপির আকার কমছে। এতে রাষ্ট্রীয় কোষাগার ও উন্নয়ন সহযোগীদের ঋণ—দুই খাত থেকেই টাকা কাটছাঁট করছে পরিকল্পনা কমিশন। চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরের সংশোধিত এডিপির আকার ৮৮ হাজার কোটি টাকা ঠিক করে তা গত বৃহস্পতিবার পরিকল্পনা কমিশনকে জানিয়ে দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। ৮৮ হাজার কোটি টাকার মধ্যে সরকারি কোষাগার থেকে ৫৯ হাজার ৪০ কোটি এবং উন্নয়ন সহযোগীদের ঋণ থেকে ২৮ হাজার ৯৬০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে।

অর্থ বিভাগ থেকে বলা হয়েছে, এই টাকার মধ্যেই সব মন্ত্রণালয়কে বরাদ্দ দিতে। অর্থ বিভাগের কাছ থেকে মৌখিকভাবে সংশোধিত এডিপির আকার পাওয়ার পর গতকাল রবিবার থেকে মন্ত্রণালয়গুলোকে বরাদ্দ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে কমিশন। চলতি মাসের শেষ নাগাদ মন্ত্রণালয়ভিত্তিক বরাদ্দ দেওয়ার কাজ শেষ করে চূড়ান্ত প্রস্তাব জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের সভায় (এনইসি) উত্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা কমিশনের একাধিক কর্মকর্তা।

কমিশন সূত্রে জানা যায়, চলতি অর্থবছরের মূল এডিপিতে বরাদ্দ আছে ৯৭ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বরাদ্দ দেওয়া আছে ৬২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। আর উন্নয়ন সহযোগীদের ঋণ বাবদ দেওয়া হয়েছে ৩৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। সেখান থেকে প্রায় সাড়ে ৯ শতাংশ কাটছাঁট করে সংশোধিত এডিপির আকার ৮৮ হাজার কোটি টাকা চূড়ান্ত করেছে অর্থ বিভাগ। ফলে এডিপি থেকে কমেছে ৯ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে কমানো হয়েছে তিন হাজার ৪৬০ কোটি টাকা। আর উন্নয়ন সহযোগীদের ঋণ থেকে কমানো হয়েছে পাঁচ হাজার ৫৪০ কোটি টাকা। তবে সংশোধিত এডিপির আকার এটিই চূড়ান্ত নয়; কারণ কয়েক বছর ধরে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের সভায় (এনইসি) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর ক্ষমতাবলে সংশোধিত এডিপির আকার বাড়িয়ে দেন। পরে সেই টাকা সরকারি কোষাগার থেকে জোগান দেওয়ার ব্যবস্থা করে অর্থ বিভাগ।

এদিকে চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) এডিপি বাস্তবায়িত হয়েছে ৩৪ শতাংশ। যা গত পাঁচ অর্থবছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। গত বছর একই সময়ে এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছিল ৩৮ শতাংশ। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরের এডিপিতে অর্থ বরাদ্দ আছে ৯৭ হাজার কোটি টাকা। সেখান থেকে গত আট মাসে খরচ হয়েছে ৩৪ হাজার ৬৭৪ কোটি টাকা। যার মধ্যে সরকারি কোষাগার থেকে ব্যয় হয়েছে ২২ হাজার ৮৫৪ কোটি টাকা। আর বাকি ১০ হাজার ৩৫৫ কোটি টাকা খরচ হয়েছে উন্নয়ন সহযোগীদের ঋণ থেকে। আইএমইডি সূত্রে জানা যায়, অর্থবছরের আট মাস পেরিয়ে গেলেও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের এডিপি বাস্তবায়ন হার অত্যন্ত নাজুক। আট মাসে মন্ত্রণালয়টি খরচ করেছে বরাদ্দের মাত্র ৯ শতাংশ অর্থ। এ মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ আছে এক হাজার ২০০ কোটি টাকা। এখন পর্যন্ত খরচ হয়েছে ১০৮ কোটি টাকা। এ ছাড়া শিল্প মন্ত্রণালয় বরাদ্দের মাত্র ১০ শতাংশ অর্থ খরচ করতে সক্ষম হয়েছে। নির্বাচন কমিশনে এ বছর এডিপিতে দেওয়া হয়েছে ৯৬৫ কোটি টাকা। খরচ করেছে মাত্র ১০৩ কোটি টাকা। যা বরাদ্দের মাত্র ১১ শতাংশ।

বরাদ্দপ্রাপ্ত শীর্ষ ১০ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে স্থানীয় সরকার, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা এবং সড়ক পরিবহন ও  সেতু মন্ত্রণালয় যৌথভাবে ৪৫ শতাংশ অর্থ খরচ করতে সক্ষম হয়েছে। তবে রেলপথ ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় মাত্র ২৫ শতাংশ অর্থ খরচ করেছে। চলতি অর্থবছর মূল এডিপিতে যে ৯৭ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে শীর্ষ ১০ মন্ত্রণালয়েই  বরাদ্দ আছে প্রায় ৭৪ হাজার কোটি টাকা।


মন্তব্য