ভারতের তুলা রপ্তানি আয়ে-335218 | শিল্প বাণিজ্য | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

রবিবার । ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১০ আশ্বিন ১৪২৩ । ২২ জিলহজ ১৪৩৭


বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া কটন ফেস্ট উদ্বোধনীতে বাণিজ্যমন্ত্রী

ভারতের তুলা রপ্তানি আয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৩ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



সহজে এবং কম সময়ে ভারত থেকে তুলা আমদানির ফলে তা বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। তিনি বলেন, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে  মোট আমদানির ৪৯ শতাংশ তুলা ভারত থেকে এসেছে। চলতি অর্থবছরে (২০১৫-১৬) এর পরিমাণ দাঁড়াবে ৬০ শতাংশের বেশি। তবে তুলা আমদানির ক্ষেত্রে কিছু বাধা আছে। এসব বাধা দূর করতে তিনি দেশটির কটন অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যা সমাধানে কাজ করার আহ্বান জানান দুই দেশের ব্যবসায়ী নেতাদের।

গতকাল শনিবার রাজধানীর র‌্যাডিসন ব্লু হোটেলের ওয়াটার গার্ডেনে ‘বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া কটন ফেস্ট ২০১৬’-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি তপন চৌধুরী, বাংলাদেশ কটন অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিএ) সভাপতি বাদশা মিয়া, ভারতের হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

দুই দেশের বন্ধুত্বের কথা তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী আরো বলেন, ‘স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের কোনো রিজার্ভ ছিল না, সেই সময় ভারত থেকে ১০০ কোটি ডলার ঋণ নিয়ে আমাদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের যাত্রা শুরু  হয়। আজ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ব্যবসায়িক অংশীদার ভারত। শুধু তুলাই নয়, বিভিন্ন পণ্যের কাঁচামাল ভারত থেকে আমদানি করা হচ্ছে। ভারত বাংলাদেশের দুটি পণ্য ছাড়া সব পণ্যে শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত সুবিধা দেয়।’

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘পণ্য আমদানির দিক থেকে ভারত দ্বিতীয় (ছয় বিলিয়ন ডলার), চীন হচ্ছে প্রথম (সাত বিলিয়ন ডলার)। অন্যদিকে বাংলাদেশ চীনে রপ্তানি করে ৮০-৯০ কোটি ডলারের পণ্য। আর ভারতে ৬০ কোটি ডলারের পণ্য। বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮১ শতাংশ আসে টেক্সটাইল ও পোশাক খাত থেকে। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতির ব্যবধান বেশি হলেও দেশটি ব্যবসা-বাণিজ্যের বৃহৎ অংশীদার।

হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বলেন, বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাকে তুলা গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। বাংলাদেশ-ভারতের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক সম্পর্কও চমত্কার। ২০১১ সালের নভেম্বর থেকে ভারতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির জন্য পোশাক খাতের ৪৬টি পণ্যে সম্পূর্ণ শুল্কমুক্ত এবং কোটামুক্ত  সুবিধা দেয় ভারত। ফলে ভারতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের রপ্তানি বাড়ছে।

বিটিএমএ সভাপতি তপন চৌধুরী বলেন, উন্নত মান, সহজ যোগাযোগ এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের  কারণে দেশের মোট চাহিদার ৫০ শতাংশ তুলাই ভারত থেকে আমদানি করা হয়। তবে ভারত থেকে তুলা আমদানিতে বেশ কিছু জটিলতা রয়েছে। যার নিরসন চায় বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ কটন অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএ)।

বিসিএ সভাপতি বাদশা মিয়া বলেন, “টেক্সটাইল খাতে স্পিনিং উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে। এই স্পিনিংয়ের প্রধান উপাদান তুলা। আর ভারতের তুলা ভালো হওয়ায় প্রায় ৫০ শতাংশের বেশি তুলা ভারত থেকে আমাদানি করা হয়। এই আমদানিও দিন দিন বাড়ছে। তবে কিছু সমস্যাও আছে। আমরা আশা করছি এসব সমস্যা সমাধানে ‘কটন ফেস্ট’ উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।”

মন্তব্য