kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বিশ্ব অর্থনীতিতে উদ্বেগ

উদীয়মান বাজারে মুদ্রার দরপতন

বাণিজ্য ডেস্ক   

১০ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



উদীয়মান বাজারে মুদ্রার দরপতন

বিশ্ব অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগ থেকে ডলারের বিপরীতে দর পড়েছে উদীয়মান দেশগুলোর মুদ্রার। চীনের অর্থনীতি ক্রমাগত মন্থর হয়ে পড়ায় বিশ্ব অর্থনীতি নিয়ে এ উদ্বেগ দেখা দেয়।

এ অবস্থায় ব্যবসায়ীরা নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ডলারের দিকে ঝুঁকছেন। এতে গতকাল বুধবার দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া, তাইওয়ান, ইন্দোনেশিয়া ও সিঙ্গাপুরসহ উদীয়মান প্রায় সব দেশের মুদ্রার দরপতন ঘটে।

কয়েক সপ্তাহ বিশ্ব অর্থনীতি কিছুটা ইতিবাচক থাকায় উদীয়মান দেশগুলোর মুদ্রাবাজার স্থির ছিল। কিন্তু গত মঙ্গলবার চীনের রপ্তানি বড় আকারে কমার খবরে আবারও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। এ অবস্থায় ব্যবসায়ীরা উদীয়মান দেশগুলো থেকে পুঁজি তুলে নিচ্ছেন। যা মুদ্রাবাজারে প্রভাব ফেলছে। গতকাল ব্যবসায়ীরা ডলারের পাশাপাশি জাপানের মুদ্রা ‘ইয়েনে’ বিনিয়োগ বাড়ান।

গতকাল বিশ্ববাজারে ডলারের বিপরীতে দক্ষিণ কোরিয়ার মুদ্রা ওন-এর দর পড়ে ০.৮ শতাংশ, মালয়েশিয়ান রিংগিতের দাম কমে ০.৪৩ শতাংশ, তাইওয়ানি ডলারের দাম কমে ০.৫১ শতাংশ, সিঙ্গাপুরি ডলারের দাম পড়ে ০.২২ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়ান রুপির দাম কমে ০.৩০ শতাংশ এবং অস্ট্রেলিয়ান ডলারের দাম পড়ে ০.১ শতাংশ। দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক দেশ ভারতের মুদ্রারও দরপতন ঘটে গতকাল। ডলারের বিপরীতে রুপির দাম ১৫ পয়সা কমে হয় ৬৭ দশমিক ৫০। বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্ব অর্থনীতি মন্থর থাকায় বাজার এখনো অস্থির অবস্থার মধ্যেই রয়েছে। চীনের অর্থনীতি এখন বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে আছে। গতকাল মঙ্গলবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে চীনের কাস্টমস জানায়, গত ফেব্রুয়ারি মাসে রপ্তানি এক বছর আগের একই সময়ের চেয়ে ২৫.৪ শতাংশ কমেছে। রপ্তানি কমে হয় ১২৬.১ বিলিয়ন ডলার। যা ২০০৯ সালের মে মাসের পর থেকে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা। বিশ্লেষকরা বলছেন, মুদ্রা ইউয়ানের দাম কমলেও বিশ্ব চাহিদা কমায় রপ্তানি কমে গেছে বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহৎ অর্থনৈতিক দেশটির। এর ফলে চীনকে এখন অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিতে হবে। বাণিজ্যিক আকারের দিক থেকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় দেশ চীন এবং আন্তর্জাতিক প্রবৃদ্ধিতেও অন্যতম চালিকাশক্তি এ দেশটি। কিন্তু গত বছর থেকেই অর্থনৈতিক শ্লথ প্রবৃদ্ধিতে রয়েছে দেশটি।

গত ফেব্রুয়ারি মাসে দেশটির আমদানিও কমেছে। এক বছর আগের একই সময়ের তুলনায় আমদানি ১৩.৮ শতাংশ কমে হয় ৯৩.৬ বিলিয়ন ডলার। এতে টানা ১৬ মাস দেশটির আমদানি কমল। চীনের বাণিজ্য কমে যাওয়া প্রসঙ্গে এএনজেড রিসার্চের বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্ব বাণিজ্য শ্লথ হওয়ার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ চাহিদা দুর্বল হওয়ায় দেশটির রপ্তানির চিত্র হতাশ এসেছে। এএফপি।


মন্তব্য