রপ্তানি নিয়ে শঙ্কায় দুই শীর্ষ দেশ-333747 | শিল্প বাণিজ্য | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১২ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৪ জিলহজ ১৪৩৭


রপ্তানি নিয়ে শঙ্কায় দুই শীর্ষ দেশ

বাণিজ্য ডেস্ক   

৯ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



রপ্তানি নিয়ে শঙ্কায় দুই শীর্ষ দেশ

বিশ্বব্যাপী পণ্য চাহিদা কমায় রপ্তানি কমছে বৃহৎ অর্থনৈতিক দেশগুলোর, সেই সঙ্গে কমছে আমদানিও। গত এক বছর ধরে শ্লথ প্রবৃদ্ধিতে থাকা চীনের রপ্তানি কয়েক মাস ধরেই কমছে, অন্যদিকে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে থাকলেও বাণিজ্য ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে পারছে না সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক দেশ যুক্তরাষ্ট্র।

গতকাল মঙ্গলবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে চীনের কাস্টমস জানায়, গত ফেব্রুয়ারি মাসে রপ্তানি এক বছর আগের একই সময়ের চেয়ে ২৫.৪ শতাংশ কমেছে। রপ্তানি কমে হয় ১২৬.১ বিলিয়ন ডলার। যা ২০০৯ সালের মে মাসের পর থেকে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা। বিশ্লেষকরা বলছেন, মুদ্রা ইউয়ানের দাম কমলেও বিশ্ব চাহিদা কমায় রপ্তানি কমে গেছে বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহৎ অর্থনৈতিক দেশটির। এর ফলে চীনকে এখন অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিতে হবে। বাণিজ্যিক আকারের দিক থেকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় দেশ চীন এবং আন্তর্জাতিক প্রবৃদ্ধিতেও অন্যতম চালিকাশক্তি এ দেশটি। কিন্তু গত বছর থেকেই অর্থনৈতিক শ্লথ প্রবৃদ্ধিতে রয়েছে দেশটি।

গত ফেব্রুয়ারি মাসে দেশটির আমদানিও কমেছে। এক বছর আগের একই সময়ের তুলনায় আমদানি ১৩.৮ শতাংশ কমে হয় ৯৩.৬ বিলিয়ন ডলার। এতে টানা ১৬ মাস দেশটির আমদানি কমল। চীনের বাণিজ্য কমে যাওয়া প্রসঙ্গে এএনজেড রিসার্চের বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্ব বাণিজ্য শ্লথ হওয়ার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ চাহিদা দুর্বল হওয়ায় দেশটির রপ্তানির চিত্র হতাশ এসেছে।

এদিকে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে থাকা সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে ব্যাপকভাবে। ডলার শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি বৈশ্বিক চাহিদা কমায় গত জানুয়ারিতে দেশটির রপ্তানি কমে সাড়ে পাঁচ বছরে সর্বনিম্ন হয়। বিশ্লেষকরা বলছেন, বাণিজ্য আরো কমবে। দেশটির বাণিজ্য বিভাগ জানায়, জানুয়ারিতে বাণিজ্য ঘাটতি ২.২ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৪৫.৭ বিলিয়ন ডলার। ডিসেম্বরে বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ৪৪.৭ বিলিয়ন ডলার। টানা চার মাসই দেশটির রপ্তানি কমেছে। সম্প্রতি রয়টার্সের এক অর্থনৈতিক জরিপে বলা হয়েছিল, জানুয়ারিতে বাণিজ্য ঘাটতি হবে ৪৪.০ বিলিয়ন ডলার।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, জানুয়ারি মাসে পণ্য রপ্তানি ৩.৩ শতাংশ কমে হয় ১১৬.৯ বিলিয়ন ডলার। যা ২০১০ সালের নভেম্বরের পর থেকে সর্বনিম্ন। সার্বিকভাবে পণ্য ও সেবা খাতের রপ্তানি কমেছে ২.১ শতাংশ। যা ২০১১ সালের জুনের পর থেকে সর্বনিম্ন। যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য রপ্তানিও কমে ২০১০ সালের পর থেকে সর্বনিম্ন হয়েছে। কমেছে শিল্পপণ্য ও পেট্রোলিয়াম রপ্তানি। অন্যদিকে জানুয়ারি মাসে আমদানি ১.৬ শতাংশ কমে হয়েছে ১৮০.৬ বিলিয়ন ডলার। যা ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারির পর থেকে সর্বনিম্ন। বাণিজ্য বিভাগ জানায়, জ্বালানি তেলের দাম কমে যাওয়ার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ উত্পাদন বাড়ায় আমদানি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে। এএফপি, রয়টার্স।

মন্তব্য