পর্যটন নিয়ে আশার কথা শোনালেন মন্ত্রী-333358 | শিল্প বাণিজ্য | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

সোমবার । ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১১ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৩ জিলহজ ১৪৩৭


পর্যটন নিয়ে আশার কথা শোনালেন মন্ত্রী

বেসরকারি খাতকে আরো এগিয়ে আসার আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৮ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



পর্যটন নিয়ে আশার কথা শোনালেন মন্ত্রী

গতকাল ইন্টারকন্টিনেন্টালের অ্যানেক্স ভবনে ট্যুরিজম বোর্ডের নতুন কার্যালয়ে বক্তব্য দেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন। -ছবি : কালের কণ্ঠ

নানামুখী সমস্যা ও সীমাবদ্ধতার মধ্যেও পর্যটন খাত এগিয়ে যাচ্ছে বলে দাবি করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন। তিনি বলেন, পর্যটন নিয়ে শুধু হতাশা নয়, কিছু আশার কথাও আছে। তবে শুধু আশা নিয়ে বসে থাকলে হবে না, পর্যটন বর্ষ সফল করতে সবাইকে আরো সক্রিয়ভাবে কাজ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে বেসরকারি খাতকে আরো এগিয়ে আসার আহ্বান জানান মন্ত্রী। গতকাল সোমবার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের অ্যানেক্স ভবনে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের (বিটিবি) নতুন কার্যালয় পরিদর্শনকালে মন্ত্রী সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। এ সময় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন সচিব খোরশেদ আলম চৌধুরী, বিটিবির সিইও আখতারুজ জামান খান কবির, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান ড. অপরূপ চৌধুরী, মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রফিকুজ্জামান, বাংলাদেশ বেতারের উপমহাপরিচালক (বার্তা) নারায়ণ চন্দ্র শীলসহ পর্যটনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বত্তৃদ্ধতায় রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘আমাদের অবকাঠামো, কানেক্টিভিটি ও আর্থিক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও আজ আমি কতগুলো ভালো খবর দিতে চাই। ইউনেসকো ঘোষিত ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট সুন্দরবনকে আরো নান্দনিকভাবে উপস্থাপনের জন্য জাতিসংঘের পর্যটনবিষয়ক সংস্থা ইউএনডাব্লিউটিএ প্রস্তাব দিয়েছে। সেখানে পর্যটকদের সুবিধা বাড়ানোর জন্য থ্রিস্টার হোটেল, ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণসহ নানা কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে। এ ছাড়া পর্যটকদের নিরাপত্তা বাড়াতে সুন্দরবন এলাকায় টেলিটক নেটওয়ার্ক চালু করেছে। একই সঙ্গে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাজ শুরু হয়ে গেছে।’

 

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে ১০টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের উদ্বোধন করেছেন তার মধ্যে একটি শুধু পর্যটন খাত—এ কথা উল্লেখ করে রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘সাবরাং এক্সক্লুসিভ ট্যুরিস্ট জোনের কাজ শুরু হচ্ছে, এটি আশার কথা। চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারিত হচ্ছে। কুয়াকাটায় দুটি ব্রিজের উদ্বোধন করা হয়েছে, যেখানে এক ঘণ্টা সময় বেঁচে যাবে। এ ছাড়া দোহাজারী থেকে কক্সবাজার হয়ে ঘুনধুম পর্যন্ত রেললাইন স্থাপনের কাজ শুরু হচ্ছে। কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভের পরিধি বাড়ানো হচ্ছে। পাশাপাশি বৃহত্তর সিলেটের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে পর্যটন সম্ভাবনায় রূপ দিতে একটি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে।’

তবে কিছু সমস্যার কথাও তুলে ধরলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী। বললেন, ‘আমাদের পর্যটন শিল্পকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির ব্যাপারে মানসিকতা তৈরি হয়নি। বাজেটেও আমরা তার প্রতিফলন দেখি না। আমরা যে অর্থ বরাদ্দ চেয়েছি তা পায়নি। এরই মধ্যে পর্যটন বর্ষ ঘোষণার পর দুই মাস অতিক্রান্ত হয়ে গেছে, কিন্তু এখনো কাঙ্ক্ষিত অর্থ পাওয়া যায়নি। যদিও আশা করছি শিগগিরই অর্থ পাওয়া যাবে।’ তিনি বলেন, এসব সীমাবদ্ধতার মধ্যেও পর্যটনশিল্পের জন্য আমাদের কিছু করে দেখাতে হবে। এ ক্ষেত্রে বেসরকারি খাতকে আরো এগিয়ে আসতে হবে। আরো উদ্যোগী হয়ে বিনিয়োগ আনতে হবে। ভিজিট বাংলাদেশ ইয়ারকে কেন্দ্র করে আমাদের আরো বড় বড় কর্মসূচি হাতে নিতে হবে। আপনাদের কী কী সমস্যা আছে সেগুলো আমাদের লিখিতভাবে জানালে বাজেটের আগে অর্থমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করে আমরা আপনাদের সহযোগিতা করার চেষ্টা করব।’

বিটিবির নতুন অফিস প্রসঙ্গে রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘আমাদের দেশের পর্যটনশিল্প কিছুটা হলেও বিকাশ লাভ করছে, এই অফিস তার উদাহরণ। গত এক-দেড় বছরে বাংলাদেশের পর্যটনশিল্প নতুন মাত্রা পেয়েছে, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের অভ্যন্তরীণ পর্যটনেরও যথেষ্ট প্রসার ঘটেছে।’

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন সচিব ও বিটিবির চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম চৌধুরী বলেন, ‘আমরা সরকারের এত বড় স্পেসকে যদি উত্পাদনশীলতার মধ্যে কাজে লাগাতে না পারি তাহলে আমরা সমালোচনায় পড়ব। তাই এ অফিসের স্পেসের সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করতে বিটিবির কাছে একটি বিন্যাস চেয়েছি। আমি স্টেকহোল্ডারদের কাছে প্রস্তাব চাই।’

মন্তব্য