আইন বাস্তবায়নে পাটপণ্যের চাহিদা-332953 | শিল্প বাণিজ্য | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১২ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৪ জিলহজ ১৪৩৭


আইন বাস্তবায়নে পাটপণ্যের চাহিদা বেড়েছে বহুগুণ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৭ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



আইন বাস্তবায়নে পাটপণ্যের চাহিদা বেড়েছে বহুগুণ

পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন-২০১০ বাস্তবায়নের ফলে স্থানীয় বাজারে পাটপণ্যের বিক্রি ও চাহিদা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৫ সালের ৩০ নভেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মাসব্যাপী বিশেষ অভিযানকালে তিন কোটি ৩৪ লাখ পাটের ব্যাগ বিক্রি হয়েছে এবং ব্যাগের বাত্সরিক চাহিদা ১০ কোটি ব্যাগ থেকে বেড়ে ৭০ কোটি ব্যাগে উন্নীত হয়েছে। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বস্ত্র জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রমোশন সেন্টারের (জিডিপিসি) তত্ত্বাবধানে পাটপণ্য বহুমুখীকরণের ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণের ফলে এ পর্যন্ত ২৫০ জন সফল উদ্যোক্তা তৈরি হয়েছে। বহুমুখী পাটপণ্য বিশ্বের প্রায় ১১৮টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পরিবেশবান্ধব পণ্যের ব্যাপক চাহিদা থাকায় বহুমুখী পাটপণ্যের খাতটি দিন দিন সম্প্রসারিত হচ্ছে।

জানতে চাইলে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর পাট সেক্টরের উন্নয়নে বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করে। পণ্যে পাটজাত মোড়ক আইন-২০১০ তারই একটি অংশ।’

মির্জা আজম আরো বলেন, ‘এ আইন বাস্তবায়নে সরকার কঠোর হওয়ায় এবং ব্যবসায়ী ও মিল মালিক ও প্রশাসনসহ সর্বস্তরের সবার সহযোগিতা অব্যাহত থাকায় সহজেই পাট সেক্টরের বাজার সম্প্রসারিত হয়েছে।’

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, রাস্তা, বাঁধ, নদীর তীর সংরক্ষণ কাজে ব্যবহূত সিনথেটিক জিও টেক্সটাইলের পরিবর্তে জুট জিও টেক্সটাইল ব্যবহার পরিবেশ সুরক্ষায়ও স্বল্প খরচে মাটির ক্ষয়রোধে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। ইতিমধ্যে জুট জিও টেক্সটাইল সফলভাবে উত্পাদন ও বাজারজাতকরণ করা হচ্ছে। বিজেএমসি বছরে প্রায় এক হাজার ২০০ কোটি টাকা মূল্যমানের জুট জিও টেক্সটাইল উত্পাদনে সক্ষম। বেসরকারি পাটকলগুলোও জুট জিও টেক্সটাইল উত্পাদনে সক্ষমতা অর্জন করেছে। 

উল্লেখ্য, দেশে ধান, চালসহ বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী পরিবহন, প্লাস্টিক ও পলিথিনের পরিবর্তে পাটের তৈরি ব্যাগ ব্যবহারের জন্য ‘পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন-২০১০’ প্রণীত হয়েছে। ওই আইনের ধারা-১৪-এ পণ্যে পাটজাত মোড়ক ব্যবহার না করে কৃত্রিম মোড়ক দিয়ে কোনো পণ্য বা পণ্যসামগ্রী মোড়কজাতকরণ, বিক্রয়, বিতরণ বা সরবরাহ করলে বা করার অনুমতি প্রদান করলে অনূর্ধ্ব এক বছর কারাদণ্ড বা অনধিক ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।

তা ছাড়া ধারা-১৫-এ উল্লিখিত অপরাধ পুনঃসংঘটনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দণ্ডের দ্বিগুণ দণ্ডনীয় হবে। আইন অনুযায়ী ছয়টি পণ্য অর্থাত্ ধান, চাল, গম, ভুট্টা, সার ও চিনি পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত হয়েছে। ওই আইনটি মোবাইল কোর্ট আইনের তফসিলেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

মন্তব্য